spot_img

১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট

সর্বশেষ

কঠোর নিয়মে দু’বার পিছিয়েও ড্র করল ইরান

ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এসে সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে— প্রথমে ছিল এমন কঠোর ও ধরাবাঁধা নিয়ম। পরে অবশ্য নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আসে, ম্যাচের একদিন আগে মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পায় ইরান। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল তীব্র ভিসা জটিলতা। এমন চরম ভূরাজনৈতিক চাপ ও অস্থিরতার আবহেই অবশেষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান। তবে মাঠের লড়াইতে সেই মনস্তাত্ত্বিক চাপের প্রভাব পড়তে দেননি পার্সিয়ান তারকারা। দুবার পিছিয়ে পড়েও ওশেনিয়ার প্রতিনিধি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

বিশ্বকাপ যেখানে প্রতিটি দল ও ফুটবলারদের জন্য নিয়ে আসে উৎসব আর উন্মাদনা, ইরান সেখানে পার করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহদি তারেমি অকপটেই স্বীকার করেছিলেন, বিশ্বকাপের চেনা অনুভূতিগুলো এবার তাদের স্পর্শ করছে না। কারণটা ফুটবল দুনিয়ার অজানা নয়; গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও সার্বিক ফুটবল চক্রে নেমে আসে চরম অস্থিরতা।

অথচ সূচি অনুযায়ী ইরানের প্রতিটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভেন্যু মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি উঠলেও তাতে সায় দেয়নি বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে অ্যারিজোনার নির্ধারিত বেসক্যাম্প পরিবর্তন করে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় তারা। প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখছে এবং ম্যাচ শেষ হতেই দ্রুত মেক্সিকোয় ফিরে যাচ্ছে। এমন নজিরবিহীন ও ক্লান্তিকর পরিস্থিতির মাঝেই লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে খেলতে নামে তারা।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনো ছাপই রাখেনি নিউজিল্যান্ড। ২০১০ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপে ফেরা দলটি ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই চমকে দেয় ইরানকে। কিউই অধিনায়ক ক্রিস উড ইরানি গোলরক্ষককে কাটিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ান এলিজাহ জাস্টকে। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ভিড়ের মাঝ থেকেই দুর্দান্ত এক ভলিতে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নেন জাস্ট।

শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। ৩২তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই সমতা। ডান পায়ের বুটের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন রেজাইয়ান।

বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে আবারও ক্রিস উডের সহায়তায় সোফি স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন জাস্ট। এবারও ইরানি রক্ষণভাগের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নিখুঁত শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। তবে নিউজিল্যান্ডের এই উল্লাস স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১২ মিনিট। ৬৬তম মিনিটে রেজাইয়ানের নিখুঁত ও দূরপাল্লার পাস থেকে দর্শনীয় এক হেডে ইরানকে সমতায় ফেরান মোহেবি। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে দুপক্ষই বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি কেউ। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের প্রথম জয়ের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss