spot_img

১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

মদিনার ৭ দর্শনীয় স্থান

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। দেশটির মক্কা নগরীর পরই মদিনা শহরকে ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেননা, শহরটিতে ইসলামের সবশেষ এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দ্বারা নির্মাণ করা ‘নবীর মসজিদ’ অবস্থিত। যাকে বলা হয় মসজিদে নববী।

৬২২ সালে নির্মাণ করা এই মসজিদটি এখনো বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। আবার ইসলামের প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত ‘মসজিদ-ই-কুবা’ অবস্থিত এই শহরেই। ইসলামের আগে মদিনা শহরের নাম ছিল ইয়াথ্রিব। ওই সময় বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক কারণে বেশ পরিচিত ছিল শহরটি। কারণ, সেই সময় শহরে পাহাড়, সমতল, মরূদ্যান এবং স্বর্ণ, রূপা ও তামার খনি ছিল।

সৌদি আরবের পর্যটন ওয়েবসাইট ভিজিট সৌদি অনুযায়ী, দেশটিতে মুসলিম ও বিদেশিরা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই মদিনার পর্যটন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে পারবেন। এসব জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাবাল উহুদ, জাবাল জাবাব, জাবাল আল রামাহ (তীরন্দাজ পাহাড়) এবং জাবালে নূর। আবার শহরটিতে অনেক জাদুঘরও রয়েছে। এবার তাহলে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো বাধা ছাড়াই দেশটির যেসব জায়গায় ভ্রমণ করা যাবে, সেসব জেনে নেয়া যাক।

কুবা মসজিদ: মসজিদে নববী থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুবা মসজিদ। এটি হচ্ছে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ। এর ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বনবী (সা.)। বিশ্বাস করা হয়, মদিনায় প্রবেশের আগে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুবায় চারদিন থেকেছিলেন। আবার এমনটাও বিশ্বাস করা হয় যে, এই মসজিদে নামাজ পড়া ওমরাহর সমান পূণ্যের কাজ। মসজিদটির অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে প্রতি বছর অনেক মানুষ এটি পরিদর্শনে আসেন।

মসজিদটিতে ৪৭ মিটার উচ্চতার একটি সাদা গম্বুজসহ চারটি মিনার আছে। এরমধ্যে প্রথম মিনারের নির্মাণের কৃতিত্ব হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজের।

হিজায রেলওয়ে: ১৯০০ সালের দিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও মদিনার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য হিজায রেলওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কেননা, ওই সময় দামেস্ক থেকে মদিনায় পৌঁছাতে সময় লাগতো কমপক্ষে ৪০ দিন। আর যাত্রা পথে মরুভূমি আর পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে গিয়ে কাফেলার অনেক যাত্রী মারা যেতেন। তবে রেললাইনের কাজ শেষ হয়ে ১৯০৮ সালে চালু হলে তখন মাত্র ৫ দিন সময় লাগতো এই পথ পাড়ি দিতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রেলওয়েটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায় ১৯১৬ সালে।

এই রেলওয়ে স্টেশনের কাছে মাদাইন সালেহ বা আল-হাজর কিলা অবস্থিত। এটি হচ্ছে সৌদি আরবের ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। প্রথম শতাব্দীতে এখানে নাবাতিয়ান সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে ১১১টি সমাধি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। আর গুহায় প্রাচীন চিত্রকর্মের নানা চিহ্ন রয়েছে।

উরওয়া বিন আল-জুবায়ের প্যালেস: এটি হচ্ছে প্রথম হিজরি সালে নির্মাণ করা ইসলামী যুগের শুরুর অন্যতম একটি নিদর্শন। মসজিদে নববী থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে এই প্যালেস অবস্থিত। প্যালেসটি তৈরি করা হয়েছিল কাদা ও পাথর দিয়ে। তবে মেঝের কোথাও কোথাও ইটের টাইলস ও লাভা পাথর রয়েছে। এছাড়া তিনটি বড় বড় বাগান, প্রাচীন স্থাপত্য, আসবাব দিয়ে সুসজ্জিত নানা কক্ষ ও রান্নাঘর এবং একটি জলকূপ রয়েছে। মনে করা হয় পবিত্র মক্কা নগরীর তীর্থযাত্রীরা পানি পানের জন্য এই জলকূপটি ব্যবহার করতেন।

কিবলাতিন মসজিদ: মসজিদটি অবস্থিত মদিনার বনু সালামা এলাকায়। এই মসজিদ সম্পর্কে বলা হয়, এখানে দুই হিজরিতে নামাজের সময় কিবলা (নামাজের সময় যেদিক মুখ করে দাঁড়াতে হয়) পরিবর্তনের জন্য নির্দেশ পাওয়া যায়। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তার সঙ্গীরা নামাজের সময় জেরুজালেমের ‘আল-বাইতুল মুকাদ্দাস’ বা ‘বাইতুল মাকদিস’ এর পরিবর্তে মক্কার কাবার দিকে মুখ ফিরিয়েছিলেন। আর এই মসজিদে দুটি ভিন্ন কিবলার দিকে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় হয়েছে, এ জন্য মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মসজিদ কিবলাতিন’। যার অর্থ দুই কিবলা বিশিষ্ট মসজিদ।

এই মসজিদের ভেতর গম্বুজ বিশিষ্ট এবং এর বাইরের খিলান উত্তর দিকে। মসজিদটি অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের সময় পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের শাসনামলে সংস্কার করা হয়েছিল মসজিদটির।

জান্নাত আল-বাকি: মদিনা শহরের সবথেকে প্রাচীনতম কবরস্থানের নাম জান্নাত আল-বাকি। যা মসজিদে নববীর কাছে অবস্থিত। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনেক সাহাবি ও পরিবারের সদস্যরা এই কবরস্থানে সমাহিত।

‘বাকি’ অর্থে সেই জায়গাকে বোঝানো হয়, যেখানে বন্য গাছপালা পাওয়া যায়। কবরস্থানটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়ে তিনটি গেট রয়েছে। মসজিদে নববীর সবশেষ সম্প্রসারণের সময় মসজিদ ও এই কবরস্থানের মাঝে থাকা বাড়িগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর জান্নাত আল-বাকিকে মসজিদে নববীর পূর্বদিকের অংশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

এছাড়াও সৌদি আরবের খাইবারে অবস্থিত আল বিনতে ড্যাম ও খাইবার এবং মদিনার মসজিদ ফাতেহ এলাকায় অবস্থিত আলী মসজিদে কোনো বাধা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন দর্শনার্থীরা।

চস/আজহার

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss