spot_img

২৭শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, রবিবার
১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইন্ডিয়ান আইডলের মুকুটজয়ী প্রশান্ত তামাং আর নেই

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাং মারা গেছেন। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ সিজন-৩ এর এই মুকুটজয়ী রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রাতে হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এই শিল্পী। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রবিবার সকাল ৯টার দিকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে দার্জিলিং ও ভারতের সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশে একটি সংগীত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রশান্ত। সেখান থেকে দিল্লিতে ফেরার পরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্বজনদের দাবি, তার বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। সুস্থ মানুষটির এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মী ও ভক্তরা।

দার্জিলিংয়ের সন্তান প্রশান্ত তামাংয়ের জীবন ছিল সিনেমার গল্পের মতোই। একসময় তিনি কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সালে নিজের প্রতিভার জোরে জিতে নেন ভারতের তুমুল জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’। রাতারাতি পরিচিতি পান দেশজুড়ে। এরপর গান ও অভিনয় উভয় মাধ্যমেই রেখেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর।

অভিনয়েও কুড়িয়েছিলেন প্রশংসা শুধু গান নয়, অভিনয়ের জগতেও প্রশান্ত ছিলেন সফল। ২০২৪ সালে সাড়া জাগানো ওয়েব সিরিজ ‘পাতাললোক’-এ খল চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন তিনি।

চস/স

চট্টগ্রামে চীনা বিশেষজ্ঞদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

চট্টগ্রামে চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ক্যাম্পে শতাধিক মানুষকে সেবা দেয়া হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) নগরের আগ্রাবাদে অবস্থিত বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলে দুপুর দেড়টায় থেকে শুরু হয়ে এ চিকিৎসা পরামর্শ ক্যাম্প। এই ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে অংশ নেন চীনের শীর্ষস্থানীয় দুটি হাসপাতাল—শেনজেন হেংশেন হাসপাতাল এবং গুয়াংজু ফোসুন চানচেং হাসপাতালের মোট আটজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

ক্যাম্পে ক্যান্সার, হৃদরোগ, অর্থোপেডিক্স ও প্লাস্টিক সার্জারি, প্রজনন রোগ, মূত্রতন্ত্রের রোগ এবং মেডিসিন বিভাগের নানাবিধ জটিল রোগের বিষয়ে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়।
চীনা বিশেষজ্ঞদের সরাসরি উপস্থিতিতে রোগীরা তাদের দীর্ঘদিনের অসুস্থতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পান।

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি একই ভেন্যুতে আয়োজন করা হয় চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহীদের জন্য একটি মেডিক্যাল ট্যুরিজম প্রোগ্রাম। এতে চীনের হাসপাতালগুলোর আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা, উন্নত প্রযুক্তি, সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয়, ভিসা সহায়তা, আবাসন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী ফলো-আপ সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বিনা মূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং দেশের রোগীদের সামনে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবার একটি স্বচ্ছ ও বাস্তব ধারণা তুলে ধরা। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ায় বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সূত্র: বাংলানিউজ২৪

চস/স

মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে আহত শিশুটি মারা যায়নি, নেয়া হচ্ছে চমেকে

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশু আফনান আক্তার (১০) মারা যায়নি। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশুটি মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানালেও পরে হোইয়ক্যাং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল দুপুরে জানান তথ্যটি সঠিক নয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস দুপুর আড়াইটার দিকে পূর্বকোণকে বলেন, ‘শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে। হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত কী হবে, জানি না।’

শিশুটির সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের বরাতে তার দাদা আবুল হাসেম বলেন, নাতনির সঙ্গে থাকা তার ছেলে শওকত জানিয়েছে দুপুর ১২টার পর তারা উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছে।

শিশু আফনান আক্তার টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে ও তেচ্ছিব্রিজ হাজী মো. হোছাইন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুর চাচা শিক্ষক আলী আকবর সাজ্জাদ জানান, আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আফনান আক্তার অন্য শিশুদের সাথে উঠানে খেলছিল। এ সময় ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছিল। হঠাৎ মর্টার শেল এসে আফনান আক্তারের মাথায় পড়ে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেয়া হয়। ।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে। টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনী ত্রিমুখীর ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের শব্দে আতঙ্কিত এপারের মানুষ। এলাকায় উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের খুব কাছে রাখাইনে এ সংঘর্ষ হচ্ছে। এখনো বোমা বিস্ফোরণ এবং শতশত গোলাগুলি চলমান। টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রবিবার সকালেও প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে। এসময় বুলেট এসে পড়েছে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত গ্রাম লম্বাবিলে। হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে যে হারে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হচ্ছে, সারারাত এপারের লোকজন জেগে ছিল। একেকটা বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছে। হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এপারের সাধারণ মানুষ অনিরাপদ মনে করছে। বাড়ি-ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিনদিন হোয়াইক্যংয়ের ওপারে রাখাইন সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত শতশত রাউন্ড গুলি ও একের পর বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাঘাত ঘটছে। সেখান থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে। মানুষের চিংড়ি ঘেরে ও চাষের জমিতে গুলি এসে পড়ছে। এখনো গোলাগুলি ও বোমার বিস্ফোরণ হচ্ছে।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

চস/স

আইনজীবী আলিফ হত্যা: ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গনেশকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭।

গ্রেপ্তার গনেশ কোতোয়ালী থানা এলাকার সেবক কলোনির শেরীপ প্রকাশ শরিফ দাশের ছেলে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কোতোয়ালী থানাধীন লালদীঘি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ.আর.এম মোজাফ্ফর হোসেন।

তিনি জানান, গত বছরের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চিন্ময় দাসকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এসময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারাগারে নিয়ে যেতে বাধা প্রধান করে। পরে আদালত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় একটি চেম্বার ভাঙচুর করে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আদালতের বিপরীতে দিকে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় থাকা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে চন্দন, রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ, সুকান্ত এবং তার অন্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৩১ জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ মামলার আসামি গনেশকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লালদিঘি পাড়ের জেলা পরিষদ মার্কেট ভবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চস/স

চট্টগ্রামের পোর্ট কলোনিতে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন পোর্ট কলোনি এলাকায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীর ছুরিকাঘাতে আজিয়ার রহমান (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিয়ার রহমান বাগেরহাটের মোড়ালগঞ্জ উপজেলার আলতি বুরুজ বাড়িয়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর।

তিনি বলেন, গতকাল শনিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে পোর্ট কলোনি এলাকায় দুর্বৃত্তরা আজিয়ার রহমানকে ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। পরে বন্দর থানা পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ২টা ২০মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চস/স

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশুর মৃত্যু

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে এক শিশু নিহত হয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আফনান আরা (১২) ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে।

আফনান নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা তেচ্ছিব্রিজ অংশে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেছে বলে জানা গেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, তারা সড়কে অবস্থানে করছেন। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের ওপারে চলমান সংঘাতের ফলে গুলিতে এপারে এক শিশু নিহত হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই-তিন দিন ধরে ওপারে রাখাইনে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত ১

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নুর কামাল (২৫) নামের এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর শনিবার (১০ জানুয়ারি) ওই ক্যাম্প থেকে নুর কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গোলাগুলিতে নিহত নুর কামাল নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাউছার সিকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডাকাত খালেক বাহিনী ও ডাকাত নুর কামাল বাহিনীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার গভীর রাতে নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার ক্যাম্প এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নুর কামাল নিহত হন। দুটি ডাকাত দল দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আজ সকালে নিহত নুর কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নুর কামালের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ ও মাদকসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।

চস/স

চট্টগ্রামে১৮ মামলার আসামি সন্ত্রাসী বুইশ্যার সহযোগী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অস্ত্র, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি-মাদকসহ ১৮ মামলার আসামি ইদ্রিস প্রকাশ ইব্রাহিমকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস কুখ্যাত সন্ত্রাসী বুইশ্যার ঘনিষ্ট সহযোগী ও রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় চান্দগাঁও থানাধীন ফরিদার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল চান্দগাঁওয়ের ফরিদার পাড়া এলাকা থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী বুইশ্যার ঘনিষ্ট সহযোগী ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও মাদকসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করে আসছিল। তাকে চান্দগাঁও থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

চস/স

রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের বালুঘাট ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ি এলাকার দিদার আলমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

অপহরণের অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অপহরণকৃত রুবেল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

একই সময় অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের দানু মেম্বারের ছেলে শাহেদ হাসান (৩৫), আবদুল করিমের ছেলে ওবায়দুল মোস্তফা সৌরভ (৩১) এবং বেতাগী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মজু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুস সালাম (২২)।

গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮২ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, দা, চাপাতি, রামদা, ছুরি, হাতুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৩টি পাসপোর্ট, ৫টি স্মার্টফোন, ৪টি বাটন ফোন এবং নগদ ১ লাখ ৫ হাজার ৮৯০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

সেনা সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার ওবায়দুল মোস্তফা সৌরভ দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গুনিয়া এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার মা রুবিনা আক্তার এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত হলেও অভিযানের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো. আরমান হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চস/স

ওমানে সড়কে দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ির একই পরিবারের তিনজন নিহত

ওমানে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। সালালাহ শহর থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে একটি উট হঠাৎ করে সড়কে চলে এলে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে সালালাহর তাম্বেত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের ওমান প্রবাসী মো. শফিউর আলমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার, তাদের একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান (সবুজ) এবং বিলকিস আক্তারের মেয়ের জামাই হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুহাম্মদ দিদার।

আহতরা হলেন, একই গাড়িতে থাকা সাকিবের বোন, তার স্ত্রী ও তাদের ছোট কন্যা। পরে তাদের উদ্ধার করে সালালাহর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

ওমানে থাকা নিহত সাকিবের চাচা মো. জাহাঙ্গীর জানান, কয়েক দিন আগে মাস্কাট থেকে হতাহতরা হজরত আইয়ুব (আ.)–এর মাজার জিয়ারত ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সালালাহ যান। পরিবারের সবাই মিলে সেখানে সময় কাটাচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কে চলে আসা একটি উটের সঙ্গে প্রাইভেটকারটির ধাক্কা লেগে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

তিনি বলেন, আমার ভাবি, ভাতিজা আর মেয়ের জামাই একসঙ্গে চলে যাবে, কখনো কল্পনাও করিনি। এটা মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর।

সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহিদুল আজম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর ফটিকছড়ির ছোট ছিলোনিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমেছে। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা সবাই শোকাহত।

চস/স