spot_img

২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ববিতা-আইয়ুব বাচ্চুসহ ১০ জন পাচ্ছেন একুশে পদক

এ বছর একুশে পদক পাওয়া ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে এক বৈঠকে এসব নাম চূড়ান্ত করা হয়।

পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এবার একুশে পদক পাওয়া ব্যক্তিদের নাম জানান।

প্রেস সচিব জানান, এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু, ব্যান্ড মিউজিকে ওয়ারফেজ, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস ও নৃত্যে অর্থী আহমেদ।

চস/স

রমজানে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় নির্ধারণ

রমজান মাসে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস নির্ধারণ করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুসারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টার পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে।

এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।
ব্যাংক, বিমা, সুপ্রিম কোর্ট, অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী অফিস সূচি নির্ধারণ করবে বলে জানান প্রেস সচিব।

রমজান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর রোজা শুরু হতে পারে ২০ ফেব্রুয়ারি।

চস/স

আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানোর মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে ঢাকা-১৯ আসনের সাবেকএমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সাতজনের যাবজ্জীবন, দুইজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করেন।

প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তৃতীয় রায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রায় ঘোষণা চলছে। রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

এদিন ১২টা ২৫ মিনিটে এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত রায় পড়ছেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আরো পড়ুন: আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সাংসদের মৃত্যুদণ্ড

এই মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে আট জন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

চস/স

আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সাংসদের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো ও একজনকে গুলি করে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এটি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় হওয়া মামলার তৃতীয় রায়। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

এর আগে রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। তারও আগে ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও এস. এম. মিরাজুল আলম আজমান।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর ভিডিও দেখে শনাক্ত ২

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই আবদুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

গত বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। তিনি রাজসাক্ষী হয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

চস/স

ভোটকেন্দ্রে ৫ মিনিটের মধ্যে ফোর্স পৌঁছাবে: চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ এবং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিসের আয়োজনে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারিত) অনুষ্ঠিত এসব সভায় ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে আয়োজনটি করতে যাচ্ছি, সেটি শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, শুধু একটি চেয়ারের পরিবর্তন নয়। এটি হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের একটি রূপরেখা। যে বাংলাদেশে এখনো অনেক ক্ষত আছে, যেখানে ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আমাদের সন্তানদের রক্ত দিতে হয়, গুলি বহন করতে হয়, গুলিবিদ্ধ হতে হয়- সেই বাংলাদেশ মেরামতের একটি আয়োজন। এই আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের এই আয়োজনে পরাজিত হওয়ার সুযোগ নেই। এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য জয় আনতে হবে, নাগরিকের প্রত্যাশা পূরণের জন্য জয় আনতে হবে, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য জয় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের জন্য সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। বাংলাদেশ আনসার বাহিনী থেকে শুরু করে র‌্যাব, বিজিবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী- সব বাহিনীর ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ ডেপ্লয়মেন্ট করা হয়েছে। অতীতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা যারা সরকারের কর্মচারী, আমাদের গায়ে কাদা লেগেছে। আমরা সেই কাদা দূর করতে চাই।

ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে আপনি, আমি, আমার সন্তান নিরাপদ। সেই দেশ তৈরির দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। দায়িত্ব শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর প্রতি শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচন কমিশন কোনো দায়সারা ভাব গ্রহণ করবে না। আমি নিজে যেমন মনিটরিংয়ের আওতায় আছি, তেমনি প্রত্যেককে প্রত্যেকটি সেকেন্ডে মনিটরিং করা হচ্ছে। সুতরাং যারা প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আপনারা রাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসা ও মায়া দেখান, ব্যক্তিগতভাবে নয়। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, আপনাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের সকল টিম প্রস্তুত। সেনাবাহিনী আশ্বস্ত করেছে—যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে ৩–৫ মিনিটের মধ্যে, সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। কিন্তু ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, এই দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। এখানে কোনো ধরনের কার্পণ্য হলে আমরা তা মেনে নেব না।

জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, দলীয় ভোটের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—গণভোট। নাগরিকরা ভোটকেন্দ্রে এসে গণভোট সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন করবেন। আপনারা কখনো বলতে পারবেন না, ‘আমি জানি না’। আপনাদের বুঝিয়ে বলার মতো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দায়িত্বের সঙ্গে ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে, সেই ক্ষমতা আইন অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা, এই আয়োজন যদি বাংলাদেশকে জেতাতে হয়, মানুষের স্বপ্ন ও দেশের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে হয় তাহলে একটাই পরিচয় প্রয়োজন, তা হলো নিরপেক্ষতা। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো নিরপেক্ষ থাকা। আইন যে নির্দেশনা দেবে, সেটি মানতে হবে। সেই নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে যদি কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, সেই চ্যালেঞ্জ আপনাকে নিতে হবে। আমরাও সেই চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি।

ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জাতিকে একটি উৎসবমুখর, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে মাঠে নেমেছি। সেই চ্যালেঞ্জ আপনাকেও নিতে হবে। আমি চাই না আমাদের মেধাবী সন্তানরা দেশের বাইরে চলে যাক। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে কেউ বিবেক বিক্রি করবে না, কেউ কারো গোলাম হবে না। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যাই ঘটুক, সবকিছু মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে। কেউ দায়মুক্তি পাবে না।

তিনি যোগ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা আছে। দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ যে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করেছে, যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছে সে যেন নিরাপদে ভোট দিয়ে হাসিমুখে ঘরে ফিরে যায়। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

সভায় বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, মেজর মো. আসিফুর রহমান,স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মঈনউদ্দিন হাসান, আনসার ও ভিডিপির সহকারী পরিচালক ফরিদা পারভিন এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চস/স

২০৪০ সালের মধ্যে জামায়াতের দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন

বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে ২০তম অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিশন ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত এই ভিশনে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী ইশতেহারে এই ভিশনের কথা উল্লেখ করেছে বাংয়লাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ভিশনে বলা হয়েছে, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে ৭ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। বিনিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাজস্ব খাতে কাঠামোগত সংস্কার, কর ব্যবস্থার সহজীকরণ ও করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রা সহজ করতে করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কোনো অবস্থাতেই জিডিপির ৫ শতাংশ অতিক্রম না করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ভিশনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং করপোরেট কর পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। পাশাপাশি বর্ধিত রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, গৃহায়ণ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে দুর্নীতি, অপচয় ও অদক্ষতা দূর করার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভিশনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ঘোষিত এই ভিশন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

চস/স

দেশে এসেছে ৩ লাখ ৮০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯ পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন ইতোমধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।

এছাড়া, ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন।

এর মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত দেশের ভেতরে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৭ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ১১ হজার ১২২ জন ভোট দিয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৯ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

সালীম আহমাদ খান আরও জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।

চস/স

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতি কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলনের সাথে যুক্ত তাদের বদলিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে দাবি আদায়ে আমাদের কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবারও বন্দরের ভেতরে কোনো কাজ হয়নি। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। তবে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে।

চস/স

নামমাত্র খরচে বাংলাদেশিদের কোম্পানি খুলে চীনে বসবাসের সুযোগ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন এখন আর শুধু পণ্য রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা বিশ্বজুড়ে দক্ষ উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের নিজ দেশে টানতে শুরু করেছে। অত্যন্ত সহজ শর্তে এবং কম খরচে চীনে নিজস্ব কোম্পানি খুলে রেসিডেন্ট পারমিট বা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশিরা। থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো দেশের তুলনায় চীনের এই ‘রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস’ পাওয়ার প্রক্রিয়া ও ব্যয়—উভয়ই এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

চীন কেন এই সুযোগ দিচ্ছে?

মূলত কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরাসরি চীনা বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে বেইজিং এই নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য চীনের দরজা এখন উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীনের ‘ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ এবং ‘মিনিস্ট্রি অফ কমার্স’ (MOFCOM) বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যে নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছিল, তার সুফল মূলত ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে গুয়াংঝু (Guangzhou), শেনজেন (Shenzhen) এবং ইয়ু (Yiwu) এর মতো বাণিজ্যিক শহরগুলোতে এই রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি বিদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এই বিশেষ কোম্পানি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় চীনে থাকার অনুমতি পেয়েছেন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিক।

রেসিডেন্ট পারমিটের সুযোগ-সুবিধা

চীনে রেসিডেন্ট পারমিট থাকলে একজন বিদেশি নাগরিক স্থানীয়দের মতোই প্রায় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এর মধ্যে রয়েছে:

১. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেন: সহজে বিজনেস ও ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা।
২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সন্তানদের উন্নত মানের স্কুলে পড়াশোনা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা।
৩. দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা: বারবার ভিসা নবায়নের ঝামেলা ছাড়াই ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি।
৪. ব্যবসায়িক সংযোগ: সরাসরি চীনের সাপ্লাই চেইন ও কারখানার সাথে যুক্ত হওয়ার সুবিধা।

আবেদন প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের সময়

চীনের রেসিডেন্ট পারমিট পাওয়ার প্রধান ধাপ হলো একটি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করা। প্রথমে কোম্পানির নাম প্রস্তাব করতে হয়। এরপর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিজনেস লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়। লাইসেন্স পাওয়ার পর স্থানীয় পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো (PSB) থেকে রেসিডেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে এবং হাতে পারমিট পেতে ৬০ দিন সময় লাগে।
गुয়াংঝুভিত্তিক ইজি লিংক ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শেখ কোরবান আলী বলেন, “২০২৬ সালে চীনের বিজনেস ইকোসিস্টেম এখন পুরোপুরি ডিজিটাল। এখন আর আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে লাইসেন্স নিতে হয় না। আমরা ইজি লিংকের মাধ্যমে দেখেছি, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যদি প্রপার বিজনেস প্ল্যান নিয়ে আসেন, তবে তাদের রিজেকশন রেট শূন্যের কাছাকাছি। বর্তমানের নতুন কোম্পানি আইনে ৫ বছরের ক্যাপিটাল পেমেন্ট সুবিধা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।”

বিনিয়োগের পরিমাণ ও খরচ

অনেকের ধারণা চীনে বিনিয়োগ করতে কোটি কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে অনেক প্রদেশে কোনো ন্যূনতম ‘পেইড-আপ ক্যাপিটাল’ বা বড় অংকের বিনিয়োগ দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত অফিস ভাড়া এবং লাইসেন্সিং ফি বাবদ খরচেই কোম্পানি চালু করা সম্ভব। তবে ব্যবসায়িক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন (যেমন ১ থেকে ৫ লাখ ইউয়ান) কাগজে-কলমে দেখানো ভালো, যা তাৎক্ষণিকভাবে জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য চীনের রেসিডেন্ট পারমিটের সরকারি অনুমোদিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে গুয়াংঝুভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজি লিংক ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দুই ধরনের বিশেষ প্যাকেজ অফার করছে:

১. ২৫ হাজার ইউয়ানের প্যাকেজ: যারা চীনে কোম্পানি না খুলে কেবল রেসিডেন্ট পারমিট বা বসবাসের আইনি বৈধতা পেতে চান, তাদের জন্য এই প্যাকেজ।
২. ৩৫ হাজার ইউয়ানের প্যাকেজ: যারা পূর্ণাঙ্গ কোম্পানি নিবন্ধনসহ রেসিডেন্ট পারমিট নিতে চান।
ইজি লিংক ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা মাহফুজ মোল্লা বলেন, “অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে চীনে থাকতে হলে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। আমরা সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছি। একজন উদ্যোক্তা চাইলে আমাদের ২৫ হাজার ইউয়ানের প্যাকেজ গ্রহণ করে আইনিভাবে চীনে বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য উপযোগী যারা শুরুতে বড় অফিস বা কোম্পানি সেটআপের খরচ এড়াতে চান।”

কর্মী নিয়োগ ও পরিবারের সুযোগ

একজন উদ্যোক্তা তার কোম্পানিতে স্থানীয় চীনা নাগরিকের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীও নিয়োগ দিতে পারেন। এ বিষয়ে মাহফুজ মোল্লা আরও যোগ করেন, “চীনের আইন অনুযায়ী, একটি কোম্পানি (WFOE) তার ব্যবসায়িক পরিধি ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় চীনা নাগরিকের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীও নিয়োগ দিতে পারে। এখানে কোনো কঠোর উর্ধ্বসীমা নেই, তবে কোম্পানির টার্নওভার ও ট্যাক্স পেমেন্টের ওপর ভিত্তি করে কর্মী সংখ্যা নির্ধারণ করা যৌক্তিক। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কোম্পানির মালিক এবং নিয়োগকৃত বিদেশি কর্মীরা তাদের পরিবারকে (স্ত্রী/স্বামী এবং সন্তান) চীনে নিয়ে আসতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা, যা পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদে চীনে বসবাস ও সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও আইনি দিক

বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নীতিমালা রয়েছে। তবে চীনের এই প্রক্রিয়ায় শুরুতে বিশাল অংকের মূলধন পাঠানোর প্রয়োজন হয় না বিধায় অনেক উদ্যোক্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আইনি পথেই এগোচ্ছেন। সার্ভিস চার্জ বা পরামর্শ ফি পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রেফেল কনসালটেন্সি ও প্যাকেজ সুবিধা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে ট্রেফেল কনসালটেন্সি ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৩৫ হাজার ইউয়ানের একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ দিচ্ছে, যার মধ্যে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে রেসিডেন্ট পারমিট পর্যন্ত সব সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট আসিফুল হাসনাত সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা শুধু লাইসেন্স করে দিয়েই ক্ষান্ত হই না, বরং একজন উদ্যোক্তা যাতে চীনে গিয়ে আবাসন ও ব্যাংকিং জটিলতায় না পড়েন, তাও নিশ্চিত করি। ৩৫ হাজার ইউয়ানের এই প্যাকেজটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে প্রবেশের একটি গেটওয়ে।”

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ

দেশের সিংহভাগ আমদানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হয় চট্টগ্রাম থেকে। ফলে চীনের এই রেসিডেন্ট পারমিটের সুযোগটি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যারা তৈরি পোশাকের এক্সেসরিজ, ইলেকট্রনিক্স এবং হার্ডওয়্যার পণ্য আমদানি করেন, তাদের জন্য এটি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের টেরিবাজারের স্বনামধন্য কাপড় আমদানিকারক মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আমাদের ব্যবসার প্রয়োজনে বছরে অন্তত চার থেকে পাঁচবার চীনে যেতে হয়। প্রতিবার ভিসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সেখানে গিয়ে দোভাষী বা এজেন্টের ওপর নির্ভর করা অনেক ব্যয়বহুল। যদি মাত্র ৩৫ হাজার ইউয়ানের বিনিময়ে সেখানে নিজস্ব কোম্পানি এবং থাকার অনুমতি পাওয়া যায়, তবে সেটি আমাদের মতো আমদানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ। এতে আমরা সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে পণ্য যাচাই করার সুযোগ পাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কমিশন বেঁচে যাবে। চট্টগ্রামের অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন যৌথভাবে চীনে অফিস নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।”

চস/স

রমজানে সুলভ মূল্যে মাংস-ডিম-দুধ বিক্রি করবে সরকার

রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন সুলভ মূল্যে মাংস-ডিম-দুধ বিক্রি করবে সরকার।

মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লারের মাংস প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবে সরকার।

চস/স