spot_img

২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার উধাও

চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের রোলভর্তি একটি কনটেইনার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় রাজস্ব-চার্জ পরিশোধের পর ডেলিভারি নিতে গিয়ে কনটেইনারটি না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বন্দরের নিরাপত্তা ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও এখনো কনটেইনারটির কোনো হদিস মেলেনি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজ থেকে ৪০ ফুটের এফসিএল কনটেইনারটি খালাস করা হয়। এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের ওই কনটেইনারে সাভারের কালিয়াকৈরে অবস্থিত রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স বা কাপড়ের রোল ছিল।

কাস্টমস সূত্র জানায়, পণ্য খালাসের জন্য আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব ও চার্জ পরিশোধ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে যায় সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সেখানে গিয়ে কনটেইনারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ডেলিভারির সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি কিপডাউন দিতে পারেনি। এরপর বন্দর ইয়ার্ডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কয়েক দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও কনটেইনারটির সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়, কনটেইনারটিতে থাকা ৬৬৮ বেল কাপড়ের রোল শতভাগ রপ্তানিমুখী। এসব কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতার কাছে পাঠানোর কথা। কিন্তু কনটেইনারটি না পাওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে সেটি পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কনটেইনারটির কোনো হদিস নেই। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল।

তিনি বলেন, কনটেইনারটিতে থাকা কাপড়গুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী। নির্ধারিত সময়ে কাপড় না পাওয়ায় আমাদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। অভিযোগ দেওয়ার পর শুনেছি বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কনটেইনারটির কোনো হদিস দিতে পারেনি।

এদিকে বন্দরের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় একটি কনটেইনার কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কনটেইনারটি জাহাজ থেকে নামানোর পর কোন ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল, ইয়ার্ডে স্থানান্তরের সময় সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে কী তথ্য রয়েছে, কনটেইনারটি সর্বশেষ কখন স্ক্যান বা মুভমেন্ট করা হয়েছে এবং এর পর সেটি কীভাবে নিখোঁজ হলো—এসব বিষয়ের উত্তর মিলছে না।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ৬ সদস্যের এ কমিটিতে কাস্টমসের একজন প্রতিনিধিও রয়েছেন। তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

চস/স

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ জনে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ২ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২১৬ জন রোগী এসেছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৬৮ জন, রাজশাহীতে ৩০, সিলেটে ১৫৫, চট্টগ্রামে ২৪৯, বরিশালে ১৩৫, ময়মনসিংহে ৮৬, খুলনায় ৭৯ এবং রংপুরে ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৭৫৬ জন।

চস/স

বাণিজ্যিক পেয়ারায় আর্সেনিক, সিসার মত ভারী ধাতু

তুলনামূলক কম দাম, সহজলভ্য আর পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল পেয়ারা। এই ফল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। অথচ পেয়ারা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য এসেছে নতুন এক গবেষণায়। রাজশাহী বিভাগের বাণিজ্যিক বাগান থেকে সংগ্রহ করা কিছু পেয়ারায় অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক, সিসা ও ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে।

বাণিজ্যিক বাগান থেকে সংগ্রহ করা পেয়ারার ৯০ শতাংশে ক্যাডমিয়ামের মাত্রা অনুমোদিত সীমার বেশি ছিল। ৭০ শতাংশ নমুনায় পাওয়া গেছে অনুমোদিত মাত্রার বেশি সিসা। আর ৩০ শতাংশ নমুনায় আর্সেনিকের মাত্রা ছিল অনুমোদিত সীমার ওপরে।

গবেষকরা বলছেন, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, সেচের পানি নাকি মাটি– কোন উৎস থেকে পেয়ারায় আর্সেনিক, সিসা ও ক্যাডমিয়াম এসেছে, তা জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। এসব ভারী ধাতুর উৎস চিহ্নিত করে সেখান থেকে দূষণ কমাতে পারলে ফসলের মধ্যে এর অনুপ্রবেশও কমানো সম্ভব হবে। গবেষণার ফলের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া গেলে নিরাপদ পেয়ারা উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর সঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আরও ছয় গবেষক যুক্ত ছিলেন।

দেশের চার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ১০ এলাকায় বাড়ির বাগান ও বাণিজ্যিক বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে এ গবেষণা করেন। গবেষণাটি গত আগস্টে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

খাবারের মাধ্যমে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ভারী ধাতু দীর্ঘ সময় গ্রহণ করলে প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি একটু বেশি। গবেষণায় প্রায় সব নমুনার ক্ষেত্রেই শিশুদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, এ গবেষণার ফল রাজশাহী বিভাগের ১০টি এলাকার নমুনার ওপর ভিত্তি করে পাওয়া। তাই দেশের সব বাণিজ্যিক বাগানের পেয়ারা একই মাত্রায় দূষিত– এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। তবে ফলের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা, নিয়মিত নজরদারি এবং কৃষি পর্যায়ে নিরাপদ চর্চা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

গবেষণায় আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও তামা– এই চার ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, চারটি ধাতুর ঘনত্বই বাড়ির বাগানের চেয়ে বাণিজ্যিক বাগানের পেয়ারায় বেশি।

বাণিজ্যিক বাগানের পেয়ারায় আর্সেনিকের সর্বোচ্চ ঘনত্ব পাওয়া গেছে প্রতি কেজিতে ৩ দশমিক ৮৪ মিলিগ্রাম। খাদ্য নিরাপত্তার অনুমোদিত সীমা অনুযায়ী, পেয়ারায় আর্সেনিকের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি কেজিতে ১ মিলিগ্রাম। বাণিজ্যিক বাগানের ৩০ শতাংশ নমুনায় আর্সেনিকের মাত্রা এই সীমা ছাড়িয়েছে। তবে বাড়ির বাগানের ১০০ ভাগ নমুনায় আর্সেনিকের মাত্রা অনুমোদিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে।

সিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঘনত্ব পাওয়া গেছে প্রতি কেজিতে ২ দশমিক ০৫ মিলিগ্রাম। অনুমোদিত সীমা প্রতি কেজিতে দশমিক ১ মিলিগ্রাম। বাণিজ্যিক বাগানের প্রায় ৭০ শতাংশ নমুনায় সিসার মাত্রা এই সীমার ওপরে ছিল। বাড়ির বাগানের সব পেয়ারায় সিসার মাত্রা অনুমোদিত সীমার মধ্যে ছিল।

ক্যাডমিয়ামের ক্ষেত্রে ফলাফল একটু বেশি উদ্বেগজনক। বাণিজ্যিক বাগানের ৯০ শতাংশ নমুনায় এর মাত্রা অনুমোদিত সীমার বেশি পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে প্রতি কেজিতে ১ দশমিক ৮৮ মিলিগ্রাম, যেখানে অনুমোদিত সীমা দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম। বাড়ির বাগানের ২০ শতাংশ পেয়ারায় ক্যাডমিয়ামের মাত্রা অনুমোদিত সীমার বেশি ছিল।

তামার ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক পেয়ারায় বেশি মাত্রা পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ ঘনত্ব ছিল প্রতি কেজিতে ৯ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম। বাণিজ্যিক বাগানের প্রায় অর্ধেক নমুনায় তামার মাত্রা অনুমোদিত সীমা ৪ দশমিক ৫ মিলিগ্রামের ওপরে ছিল। বাড়ির বাগানের সব নমুনায় তামার মাত্রা অনুমোদিত সীমার মধ্যে ছিল।

শিশুদের ঝুঁকি কেন বেশি

গবেষণায় পেয়ারায় ভারী ধাতুর উপস্থিতির পাশাপাশি এসব পেয়ারা খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে কী পরিমাণ ভারী ধাতু প্রবেশ করতে পারে এবং তাতে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, সেটিও দেখা হয়েছে।

গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার নির্ধারিত পদ্ধতি ব্যবহার করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছেন। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের শরীরের ওজন, দৈনিক পেয়ারা খাওয়ার পরিমাণ এবং পেয়ারায় ভারী ধাতুর ঘনত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় সব নমুনাতেই সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্দেশ করেছে। গবেষকরা বলছেন, শিশুদের ওজন কম হওয়ায় একই পরিমাণ দূষিত খাবার গ্রহণ করলে দূষকের মাত্রা বেশি হয়। তাই ভারী ধাতুদূষিত খাবারের ক্ষেত্রে শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকে।

উৎস কোথায়, জানা যায়নি

পেয়ারায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এসব ধাতু ঠিক কোন উৎস থেকে এসেছে, তা এ গবেষণায় নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। গবেষণাপত্রেও এই সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যে জমি থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই জমির মাটি বা সেচের পানিতে ভারী ধাতুর মাত্রা গবেষকরা সরাসরি পরীক্ষা করেননি।

গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটিতে ভারী ধাতু জমতে পারে। দূষিত ভূগর্ভস্থ বা উপরিভাগের পানি দিয়ে সেচ দেওয়ার মাধ্যমেও এসব ধাতু ফসলে প্রবেশ করতে পারে। শিল্পকারখানার নির্গমন ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকেও বাতাসের মাধ্যমে মাটিতে ভারী ধাতু জমতে পারে।

২০২৫ সালে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট– এই আট জেলা থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করা হয়। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে দুটি করে এবং অন্য ছয় জেলায় একটি করে এলাকা থেকে নেওয়া হয় নমুনা। প্রতিটি এলাকায় পাশাপাশি একটি বাড়ির বাগান ও একটি বাণিজ্যিক বাগান নির্বাচন করা হয়। দুই ধরনের বাগানের দূরত্ব ছিল প্রায় এক কিলোমিটার। প্রতিটি নির্বাচিত গাছ থেকে পরিপক্ব তিনটি পেয়ারা সংগ্রহ করা হয়। পরে গবেষণাগারে এসব নমুনায় আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও তামার মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। ভারী ধাতু শনাক্ত করতে প্লাজমাভিত্তিক আলোক নিঃসরণ বর্ণালিবীক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খুব অল্প পরিমাণে থাকা ধাতুও নির্ণয় করা সম্ভব।

গবেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে খাওয়া হয় এমন ফলগুলোতে ভারী ধাতুদূষণ নিয়ে নিয়মিত নজরদারি থাকা দরকার। বিশেষ করে বাণিজ্যিক বাগানের ক্ষেত্রে মাটি, সেচের পানি, সার ও কীটনাশকের মান পরীক্ষা জরুরি।

আতঙ্ক নয়, নিরাপদ কৃষিচর্চার তাগিদ

গবেষণা দলের প্রধান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আট মাস ধরে গবেষণাকাজ চলে। নমুনাগুলো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণার উদ্দেশ্য খাদ্যে ক্ষতিকর ভারী ধাতুর অনুপ্রবেশ কীভাবে কমানো যায়, সেটি নিশ্চিত করা।

মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কৃষক পর্যায়ে বিষয়টি নজরদারির জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা কী ধরনের কীটনাশক কতটা ব্যবহার করছেন এবং সেগুলোর মান কেমন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা ও মাঠ পর্যায়ে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। সবচেয়ে জরুরি হলো ‘উত্তম কৃষিচর্চা’ অনুসরণ করা। অর্থাৎ সঠিক নিয়ম ও পরিমাণে কীটনাশক, সার ও সেচের পানি ব্যবহার করা। কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদের ‘উত্তম কৃষিচর্চা’ অনুসরণে দেশজুড়ে কাজ করছে। এ উদ্যোগ আরও জোরদার করা গেলে খাদ্যপণ্যে ভারী ধাতুর দূষণ কমানো এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। সূত্র: সমকাল

চস/স

হাইকোর্টে জামিন পেলেন বিদিশা, মুক্তিতে বাধা নেই

প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়া বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ছিল।

গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

২০০৮ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।

চস/স

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত

আগস্ট মাসে দেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন। এর মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক গড় প্রাণহানি ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৪১ জন নিহত হয়েছিলেন। আগস্টে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫১ জনে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

আগস্টে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন; যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, যা মোট প্রাণহানির ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৬ জন, বাসের যাত্রী ৩৭ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-লরি-ড্রাম ট্রাকের আরোহী ৫১ জন এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপের ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২১ জন এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে সবচেয়ে বেশি ২১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব দুর্ঘটনা মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ১৬৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৬২টি এবং শহরের সড়কে ৭১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশ। এ ছাড়া ১২৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা, ৭৮টি পেছন থেকে আঘাত এবং আটটি দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

আগস্টে মোট ৭৪৯টি যানবাহন দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৯৪টি মোটরসাইকেল, ১১২টি থ্রি-হুইলার, ১০৮টি ট্রাক এবং ১০৩টি বাস।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৭২টি দুর্ঘটনায় ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বগুড়া জেলায়। রাজধানী ঢাকায় আগস্টে ৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া আগস্টে সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩৪টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ঘটছে। এ ছাড়া বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংস্থাটি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাসসেবা চালু, দক্ষ চালক তৈরির পাশাপাশি তাঁদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

চস/স

চট্টগ্রামে পরিবেশ দূষণের দায়ে বনফুলকে অর্ধ লক্ষ টাকা জরিমানা

কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত গ্যাস পাইপের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে পরিবেশ দূষণের দায়ে চট্টগ্রামে বনফুল অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বর্জ্য নিষ্কাশনে ব্যবহৃত পাইপলাইনটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জয়কালী বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন আনোয়ারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার। এসময় আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামীম আহমদ সরকার, আনোয়ারা থানার এএসআই মাসুদ রানাসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বনফুল অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি নামের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কারখানার বিষাক্ত গ্যাস, প্রক্রিয়াজাত বর্জ্য ও গরুর গোবরের বর্জ্য সরাসরি পাইপের মাধ্যমে পাশের খালে ফেলছিল। এতে খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছিল। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে আনোয়ারা উপজেলায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

চস/স

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০ জুনের হিসাবে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব কী?

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংক (অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি) এর ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬

মন্ত্রী ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান:

জনতা ব্যাংক পিএলসি: ব্যাংকটিতে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫,৩৯৬.৬৭ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি: খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯,০২৯.৬৭ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংক পিএলসি: খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯,২৮১.৭৪ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি: খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫,০৪৮.৩৯ কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংক পিএলসি: খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮,১৩১.০৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল): খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮.৭৯ কোটি টাকা।

চস/স

৪৩৪১ হাজিকে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেবে সরকার

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেবে সরকার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ।

ধর্মমন্ত্রী জানান, হজে বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদ ব্যয় কম হওয়ায় প্যাকেজের অর্থ থেকে এই টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী প্রত্যেক হাজি যে পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন, তা ভিন্ন হবে।

হজ প্যাকেজ-১-এর আওতায় হোটেল বুলুরা আল দুররার সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।

একই প্যাকেজে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা করে পাবেন।

হজ প্যাকেজ-২-এর আওতায় ২ নম্বর বাড়ি বা হোটেল লুলুয়াত আল ভাওহীদের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাবেন ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা এবং আপগ্রেডেশনসহ শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা।

এ ছাড়া তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং একই আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন।

৩ নম্বর বাড়ি বা হোটেল রাওদাত আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা এবং দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন। এ ক্ষেত্রে তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরারা পাবেন ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।

অন্যদিকে, ৪ নম্বর বাড়ি বা হোটেল মানার আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬ হাজার ২৪১ টাকা ২৪ পয়সা করে ফেরত পাবেন।

এ ছাড়া সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩-এর আওতায় হোটেল নান্দার ওয়ানে অবস্থানকারী প্রত্যেক হাজিকে ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা করে ফেরত দেওয়া হবে।

চস/স

দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও এসেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।

রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

জানা যায়, হেলিপ্যাডে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুরের রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।

নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির ও সদস্য সচিব ড. শহিদুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তার প্রথম সফর। সফরের প্রথম দিন তিনি একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।

জানা যায়, সফরকালে মা-বাবার কবর জিয়ারত এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি। কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

পরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।

এরপর নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেবেন। এদিনই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

চস/স

“জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই”

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান কাভার করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন সাংবাদিকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বসেন তিনি।

সাক্ষাত শেষে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা হয়েছে তা এনার্জি সেক্টর বা জ্বালানি খাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশই একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যাবে।

হুমায়ুন কবির আরও উল্লেখ করেন, বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে এমন কোনো চাপ দিচ্ছে না কেউ। দেশের চাহিদা আছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে, প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

চস/স