spot_img

২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বুধবার
৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতি কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলনের সাথে যুক্ত তাদের বদলিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে দাবি আদায়ে আমাদের কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবারও বন্দরের ভেতরে কোনো কাজ হয়নি। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। তবে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে।

চস/স

নামমাত্র খরচে বাংলাদেশিদের কোম্পানি খুলে চীনে বসবাসের সুযোগ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন এখন আর শুধু পণ্য রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা বিশ্বজুড়ে দক্ষ উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের নিজ দেশে টানতে শুরু করেছে। অত্যন্ত সহজ শর্তে এবং কম খরচে চীনে নিজস্ব কোম্পানি খুলে রেসিডেন্ট পারমিট বা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশিরা। থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো দেশের তুলনায় চীনের এই ‘রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস’ পাওয়ার প্রক্রিয়া ও ব্যয়—উভয়ই এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

চীন কেন এই সুযোগ দিচ্ছে?

মূলত কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরাসরি চীনা বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে বেইজিং এই নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য চীনের দরজা এখন উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীনের ‘ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ এবং ‘মিনিস্ট্রি অফ কমার্স’ (MOFCOM) বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যে নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছিল, তার সুফল মূলত ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে গুয়াংঝু (Guangzhou), শেনজেন (Shenzhen) এবং ইয়ু (Yiwu) এর মতো বাণিজ্যিক শহরগুলোতে এই রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি বিদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এই বিশেষ কোম্পানি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় চীনে থাকার অনুমতি পেয়েছেন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিক।

রেসিডেন্ট পারমিটের সুযোগ-সুবিধা

চীনে রেসিডেন্ট পারমিট থাকলে একজন বিদেশি নাগরিক স্থানীয়দের মতোই প্রায় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এর মধ্যে রয়েছে:

১. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেন: সহজে বিজনেস ও ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা।
২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সন্তানদের উন্নত মানের স্কুলে পড়াশোনা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা।
৩. দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা: বারবার ভিসা নবায়নের ঝামেলা ছাড়াই ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি।
৪. ব্যবসায়িক সংযোগ: সরাসরি চীনের সাপ্লাই চেইন ও কারখানার সাথে যুক্ত হওয়ার সুবিধা।

আবেদন প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের সময়

চীনের রেসিডেন্ট পারমিট পাওয়ার প্রধান ধাপ হলো একটি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করা। প্রথমে কোম্পানির নাম প্রস্তাব করতে হয়। এরপর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিজনেস লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়। লাইসেন্স পাওয়ার পর স্থানীয় পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো (PSB) থেকে রেসিডেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে এবং হাতে পারমিট পেতে ৬০ দিন সময় লাগে।
गुয়াংঝুভিত্তিক ইজি লিংক ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শেখ কোরবান আলী বলেন, “২০২৬ সালে চীনের বিজনেস ইকোসিস্টেম এখন পুরোপুরি ডিজিটাল। এখন আর আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে লাইসেন্স নিতে হয় না। আমরা ইজি লিংকের মাধ্যমে দেখেছি, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যদি প্রপার বিজনেস প্ল্যান নিয়ে আসেন, তবে তাদের রিজেকশন রেট শূন্যের কাছাকাছি। বর্তমানের নতুন কোম্পানি আইনে ৫ বছরের ক্যাপিটাল পেমেন্ট সুবিধা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।”

বিনিয়োগের পরিমাণ ও খরচ

অনেকের ধারণা চীনে বিনিয়োগ করতে কোটি কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে অনেক প্রদেশে কোনো ন্যূনতম ‘পেইড-আপ ক্যাপিটাল’ বা বড় অংকের বিনিয়োগ দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত অফিস ভাড়া এবং লাইসেন্সিং ফি বাবদ খরচেই কোম্পানি চালু করা সম্ভব। তবে ব্যবসায়িক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন (যেমন ১ থেকে ৫ লাখ ইউয়ান) কাগজে-কলমে দেখানো ভালো, যা তাৎক্ষণিকভাবে জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য চীনের রেসিডেন্ট পারমিটের সরকারি অনুমোদিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে গুয়াংঝুভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজি লিংক ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দুই ধরনের বিশেষ প্যাকেজ অফার করছে:

১. ২৫ হাজার ইউয়ানের প্যাকেজ: যারা চীনে কোম্পানি না খুলে কেবল রেসিডেন্ট পারমিট বা বসবাসের আইনি বৈধতা পেতে চান, তাদের জন্য এই প্যাকেজ।
২. ৩৫ হাজার ইউয়ানের প্যাকেজ: যারা পূর্ণাঙ্গ কোম্পানি নিবন্ধনসহ রেসিডেন্ট পারমিট নিতে চান।
ইজি লিংক ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা মাহফুজ মোল্লা বলেন, “অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে চীনে থাকতে হলে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। আমরা সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছি। একজন উদ্যোক্তা চাইলে আমাদের ২৫ হাজার ইউয়ানের প্যাকেজ গ্রহণ করে আইনিভাবে চীনে বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য উপযোগী যারা শুরুতে বড় অফিস বা কোম্পানি সেটআপের খরচ এড়াতে চান।”

কর্মী নিয়োগ ও পরিবারের সুযোগ

একজন উদ্যোক্তা তার কোম্পানিতে স্থানীয় চীনা নাগরিকের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীও নিয়োগ দিতে পারেন। এ বিষয়ে মাহফুজ মোল্লা আরও যোগ করেন, “চীনের আইন অনুযায়ী, একটি কোম্পানি (WFOE) তার ব্যবসায়িক পরিধি ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় চীনা নাগরিকের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীও নিয়োগ দিতে পারে। এখানে কোনো কঠোর উর্ধ্বসীমা নেই, তবে কোম্পানির টার্নওভার ও ট্যাক্স পেমেন্টের ওপর ভিত্তি করে কর্মী সংখ্যা নির্ধারণ করা যৌক্তিক। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কোম্পানির মালিক এবং নিয়োগকৃত বিদেশি কর্মীরা তাদের পরিবারকে (স্ত্রী/স্বামী এবং সন্তান) চীনে নিয়ে আসতে পারেন। তাদের জন্য রয়েছে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা, যা পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদে চীনে বসবাস ও সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও আইনি দিক

বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নীতিমালা রয়েছে। তবে চীনের এই প্রক্রিয়ায় শুরুতে বিশাল অংকের মূলধন পাঠানোর প্রয়োজন হয় না বিধায় অনেক উদ্যোক্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আইনি পথেই এগোচ্ছেন। সার্ভিস চার্জ বা পরামর্শ ফি পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রেফেল কনসালটেন্সি ও প্যাকেজ সুবিধা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে ট্রেফেল কনসালটেন্সি ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৩৫ হাজার ইউয়ানের একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ দিচ্ছে, যার মধ্যে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে রেসিডেন্ট পারমিট পর্যন্ত সব সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট আসিফুল হাসনাত সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা শুধু লাইসেন্স করে দিয়েই ক্ষান্ত হই না, বরং একজন উদ্যোক্তা যাতে চীনে গিয়ে আবাসন ও ব্যাংকিং জটিলতায় না পড়েন, তাও নিশ্চিত করি। ৩৫ হাজার ইউয়ানের এই প্যাকেজটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে প্রবেশের একটি গেটওয়ে।”

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ

দেশের সিংহভাগ আমদানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হয় চট্টগ্রাম থেকে। ফলে চীনের এই রেসিডেন্ট পারমিটের সুযোগটি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যারা তৈরি পোশাকের এক্সেসরিজ, ইলেকট্রনিক্স এবং হার্ডওয়্যার পণ্য আমদানি করেন, তাদের জন্য এটি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের টেরিবাজারের স্বনামধন্য কাপড় আমদানিকারক মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আমাদের ব্যবসার প্রয়োজনে বছরে অন্তত চার থেকে পাঁচবার চীনে যেতে হয়। প্রতিবার ভিসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সেখানে গিয়ে দোভাষী বা এজেন্টের ওপর নির্ভর করা অনেক ব্যয়বহুল। যদি মাত্র ৩৫ হাজার ইউয়ানের বিনিময়ে সেখানে নিজস্ব কোম্পানি এবং থাকার অনুমতি পাওয়া যায়, তবে সেটি আমাদের মতো আমদানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ। এতে আমরা সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে পণ্য যাচাই করার সুযোগ পাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কমিশন বেঁচে যাবে। চট্টগ্রামের অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন যৌথভাবে চীনে অফিস নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।”

চস/স

রমজানে সুলভ মূল্যে মাংস-ডিম-দুধ বিক্রি করবে সরকার

রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন সুলভ মূল্যে মাংস-ডিম-দুধ বিক্রি করবে সরকার।

মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লারের মাংস প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবে সরকার।

চস/স

এবার ভরিতে সোনার দাম বাড়ল ৫৪২৪ টাকা

সোনার বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার দুদফা কমানোর পর মঙ্গলবার সকালে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে বাজুস। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন আবার উঠে এসেছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকায়। সোমবার বিকেলে যা ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই দাম ওই সময় থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

সোনার দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।

এদিকে, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এতে করে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে একধাপে সোনার দাম আর কখনোই এতটা বাড়ানো হয়নি।

২৪ ঘণ্টা না যেতেই শুক্রবার সকালে দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ভরিতে কমায় ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে ভালো মানের সোনার দাম কমে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায় নেমে আসে। এরপর আরো কয়েক দফায় কমানো হয় সোনার দাম।

চস/স

চট্টগ্রাম-৪: নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে চলমান আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফলের চূড়ান্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকের করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।

চস/স

পবিত্র শবে বরাত আজ

আজ মঙ্গলবার দিবসের আলোকরেখা পশ্চিমে মিলিয়ে যাওয়ার পরই শুরু হবে অনেক মুসলমানের কাছে পরম কাঙ্ক্ষিত মহিমাময় রজনি—শবে বরাত। পাপ থেকে সর্বান্তকরণে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিষ্কৃতি লাভের অপার সৌভাগ্যের রাত।

শবে বরাত পালন নিয়ে আলেম-ওলামাদের মধ্যে দুস্তর মতভেদ বিদ্যমান। পালনের বিপক্ষের পাল্লা দিনে দিনে ভারী হচ্ছে। ইবনে মাজাহ ও বাইহাকীর একটি দুর্বল হাদিসে উল্লেখ আছে, হজরত আলি ইবনে আবি তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা রাত জেগে সালাত আদায় করবে আর দিবসে সিয়াম পালন করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বলেন :আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোনো রিয্‌ক প্রার্থনাকারী, আমি রিয্‌ক দান করব। আছে কি কোনো বিপদে নিপতিত ব্যক্তি আমি তাকে সুস্থতা দান করব। এভাবে ফজর পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে।

যদিও সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বলেন, আমাকে ডাকার কেউ আছে কি? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। আমার কাছে চাওয়ার কেউ আছে কি? আমি তাকে তা প্রদান করব। আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কেউ আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব।’

বস্তুত উপমহাদেশের কিছু আলেম বলে থাকেন, শবে বরাত হলো আল্লাহ তায়ালার মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আল্লাহ সুবানাহু তায়ালার নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। এই রাতে বিশেষ বরকত হাসিলের মানসে মুসলিম সম্প্রদায় নফল নামাজ আদায় ও কুরআন তেলাওয়াত, ইস্তেগফার, ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়ায় মশগুল থাকেন। শবে বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করেছেন অনেকে। ‘শব’ শব্দটি ফারসি, যার অর্থ রাত। আর বরায়াত শব্দের অর্থ হলো—নাজাত, নিষ্কৃতি বা মুক্তি। শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়। এ ব্যাপারে কুরআনুল করিমে সুস্পষ্টভাবে কোনো কিছু উল্লেখ না থাকলেও একটি ‘হাসান’ হাদিসে এটাকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়েছে। বিজ্ঞ আলেম-উলামা ও ইসলামের বিশেষজ্ঞগণ এই রাতে বিশেষ কোনো ইবাদতের নির্দেশ নেই বলে মনে করেন। এর পক্ষকাল পরেই রহমত বরকত নাজাতের সওগাত নিয়ে আসবে মাহে রমজান। এ কারণে শবে বরাতকে বলা হয় রমজানের মুয়াজ্জিন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ইসলামী বিশ্বকোষ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশে শাবান মাসের একটি রজনিকে ‘শব-ই-বরাত’ বলা হয়। তুরস্ক, ইরান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো কোনো দেশের কোনো কোনো এলাকায় শবে বরাত ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর কোথাও শবে বরাতের কোনো অস্তিত্ব নেই। এই রাতে ইরানের সর্বত্র আলোক সাজসজ্জা করা হয় ও বিশেষ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শবে বরাতকে যে সব আলেম সমর্থন করেন তাদের মতে, এ রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে নফল নামাজ পড়া, দীর্ঘ সেজদা করা, দুই রাকআত করে যত ইচ্ছা নামাজ পড়া, কুরআনুল করিম তেলওয়াত করা, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া, ইসেতগফার করা, দুআ করা, তাসবিহ তাহলিল, জিকির-আসকার করা আর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই নিজের জন্য, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী ও সব মুসলমানদের জন্য বেশি বেশি দোয়া, তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিত। সম্ভব হলে পুরুষের জন্য কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করা, কবরবাসীদের জন্য দোয়া করাও সওয়াবের কাজ। এ রাতের নফল আমলসমূহ একাকীভাবে করণীয়।

শবে বরাতের ইতিহাস সম্পর্কে ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর ৪০০ বছরের মধ্যে শবে বরাত বলে কিছু ছিল না। তাঁর দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুওয়াতি জীবনে, এমনকি সাহাবিদের যুগেও এই ধরনের কোনো দিবস পালনের কথা ইসলামের ইতিহাসে নেই। ইবনে কাসিরের বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ত্বারতুসির হাওয়াদেস ও বিদ’আ এবং ইবনুল কাইয়ুমের আল-মানারুল মুনিফ ইতিহাস গ্রন্থে শবে বরাতের উদ্ভবের ইতিহাস প্রসঙ্গে বলা হয়, ‘শবে বরাতের নামাজ ও এবাদতের প্রথম প্রচলন হয় হিজরি ৪৪৮ সনে। ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের ইবনে আবিল হামরা নামীয় একলোক বায়তুল মুকাদ্দাস আসেন। তার তিলাওয়াত ছিল সুমধুর। তিনি শাবানের মধ্যরাত্রিতে নামাজে দাঁড়ালে তার পেছনে এক লোক এসে দাঁড়ায়, তারপর তার সঙ্গে তৃতীয় জন এসে যোগ দেয়, তারপর চতুর্থ জন। তিনি নামাজ শেষ করার আগেই বিরাট একদল লোক এসে তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী বছর এলে, তার সঙ্গে অনেকেই যোগ দেয় ও নামাজ আদায় করে। এতে করে মাসজিদুল আক্সাতে এ নামাজের প্রথা চালু হয়। কালক্রমে এ নামাজ এমনভাবে আদায় হতে লাগে যে অনেকেই তা সুন্নাত মনে করতে শুরু করে।’ পরবর্তী শাসকদের সময়ে এটা বন্ধ হয়ে গেলেও আবারও ইরান থেকে এই শবে বরাত পালনের রীতি আমাদের উপমহাদেশে নতুন বিস্তার লাভ করে। ফলে হকপন্থি আলেমরা এই শবে বরাতের বিশেষ ইবাদত-হালুয়া-রুটি ইত্যাদিকে বিদায়াত বলে অভিহিত করে আসছেন।

যথাযথ মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে আজ মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত উদ্যাপিত হবে। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আসকারের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। শবে বরাত উপলক্ষ্যে আগামীকাল সরকারি ছুটি। সংবাদপত্রের অফিস আজ বন্ধ থাকবে। এ রাতের তাত্পর্য তুলে ধরে রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

জাতির কল্যাণে প্রার্থনার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

পবিত্র শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা এবং মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল সোমবার এক বাণীতে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে উল্লেখ করা হয়, পবিত্র শবে বরাত আমাদের জীবনে রহমত, মাগফেরাত ও আত্মিক পরিশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। হাদিসে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের বিশেষভাবে ক্ষমা করেন। তাই এ রাতকে সৌভাগ্যময় রজনি হিসেবে বিশ্বাস করা হয়।

চস/স

দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে চট্টগ্রাম বন্দরকে দূর্নীতি মুক্ত করবো: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ যদি আমাদের দায়িত্ব দেয়! আমরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাই তাহলে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতি মুক্ত করবো।

তিনি বলেন, আপনারা তো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ, আপনারা কি সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসকে ভয় পান? ঢেউকে ভয় পান? যারা এই ভয়কে জয় করেছেন, আগামী ১২ তারিখও জয় করতে হবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় লক্ষ লক্ষ জনতার উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগর জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মাদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী’র যৌথ সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন নগর জামায়াত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

জামায়াত আমির বলেন, এই দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা আধা ইঞ্চি মাটিও ছাড় দিবো না। জুলাই যোদ্ধাদের সাথে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, জীবন দিব, মাটি দিবো না।

জামায়াতের উপর বেশি জুলুম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তো টানা ১৫ বছর সকলে মজলুম ছিলাম, একক দল হিসেবে আমরা আরেকটু বেশি নির্যাতন সহ্য করেছি। আমাদের উপর জুলুম শুরু হয়েছিল আরো একটু আগে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকেই তারা আমাদের উপর জুলুম শুরু করেছিল।

৫ আগস্টের পরে আমরা এদের নেতাদের হাতে ধরে বলেছিলাম, আপনারা জুলুমের শিকার হয়েছিলেন, জালিম হবেন না। ক্ষমতায় আসার আগে ২০০৬ সাল থেকে যেমন আওয়ামীলীগ জুলুম করতো, এখন এরাও তেমনটি শুরু করেছে। এরা মায়েদের গায়ে হাত দেয়। এদের কি মা নেই? মা থাকলে আরেক মাকে কেন আঘাত করে?
সর্বশেষ আমার একাউন্ট হ্যাক করে মায়েদের নামে বাজে কথা প্রচার করা হয়েছে। তবে আমরা ইতোমধ্যে ষড়যন্ত্রকারিদের পরিচয় পেয়েছি। এদের পিছনে কারা আছে আমরা তাও খুঁজে বের করবো।
এরা চাঁদার জন্য একজন ফ্যাশন ডিজাইনারকে হত্যা করেছে। অথচ মাঠে লম্বা লম্বা কথা বলে।
তারা মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চায়। একদিকে মায়েদের গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি র্কাড। আমাদের মায়েদের গায়ে হাত এ জাতি সহ্য করবে না।

তরুনেরা তাদের কাছে ভিক্ষা চায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের তরুণেরা তাদের কাছে ভিক্ষা চায়নি, তারা চেয়েছে কাজ। আমরা তরুণদের অধিকার ফিরিয়ে দিবো, তাদের হাতে কাজ তুলে দিব। বলবো এই নাও কাজ, এবার দেশকে গড়ে দাও।

তরুণ ছাত্র সমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবখানে তাদেরকে প্রত্যাখান করেছে। এজন্য তারা পাগল হয়ে গেছে। আমরা আপনাদের সাক্ষী রেখে ঘোষণা দিচ্ছি আমি জামায়াতের দায়িত্বশীল হলেও আমি জামায়াতের বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।

এতে অন্যান্যদের মাঝে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়াবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহাজাহান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাত উল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা আলী ওসমান, জাগপা সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভূঁইয়া, শহীদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন, শহীদ ওমর বিন আফসারের মা রুবি আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, চট্টগ্রাম-১০ আসন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-৯ আসন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডাঃ এ.কে.এম ফজলুল হক,চট্টগ্রাম-১১ আসন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম, চট্টগ্রাম-০৮ আসন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস.এম.লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি ছৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফ্ফর মোহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পাটির চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, আমার বাংলাদেশ পাটি চট্টগ্রাম মহানগরী আহ্বায়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলা উদ্দিন আলী, চাকসু ভিপি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন রনি, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মদ মাইমুনুল ইসলাম (মামুন) প্রমুখ।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সভাপতি তানজীর হোসেন জুয়েল, এনসিপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ফখরে জাহান সিরাজী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, প্রফেসর মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ফারুকে আজম, মুহাম্মদ ইসমাঈল, ড.আ ম ম মাসরুর প্রমুখ।

চস/স

জ্বালানি উপদেষ্টার ফোন নম্বর হ্যাক হয়েছে

নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর হ্যাক হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

ফেসবুক পোস্টে উপদেষ্টা লিখেছেন, ‌‘আমার ফোন নম্বরটি হ্যাক হয়েছে। আমি কোনো অর্থ সাহায্য চাচ্ছি না। এ ধরনের অনুরোধ উপেক্ষা করুন। ধন্যবাদ।’

চস/স

ফেব্রুয়ারি মাসে এলপি গ্যাসের দাম বাড়লো ৫০ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নতুন এ মূল্যের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।

এলপিজির পাশাপাশি নির্ধারণ করা হয়েছে অটোগ্যাসের দামও। চলতি মাসের জন্য প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

চস/স

প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪ বছরের কারাদণ্ড

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেয়ার পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ছোটবোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের ২ মামলায় ২ বছর করে মোট ৪ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়াও আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্লট বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ে রাজউক সদস্য খুরশিদ আলমের এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তাকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক ও তার ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিক ববির নামে পূর্বাচলে ২০ কাঠা জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। রাজধানীতে স্থাবর সম্পত্তির তথ্য হলফনামায় গোপন করেন তারা।

এছাড়া ভাই-বোনের নামে প্লট বরাদ্দের জন্য ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেন বলেও উঠে আসে তদন্তে।

পরে দুই মামলায় ২২ জনকে অভিযুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে একই অভিযোগের চার মামলায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।

চস/স