spot_img

২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, শনিবার
১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৫ বছর চট্টগ্রামের এনসিটি চালাবে ডিপি ওয়ার্ল্ড, চুক্তি সই

১৫ বছর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চালাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের তরফে কোম্পানির চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) জমি, অবকাঠামো, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রেখে দুবাই সরকারের মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছর মেয়াদে টার্মিনালের ‘পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার’ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিরাপত্তা প্রটোকল আগের মতোই থাকবে।

এর আগে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পিপিপি ও জিটুজি কাঠামোয় শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা দর-কষাকষির পর্যায়ে পৌঁছালেও শ্রমিক আন্দোলন ও আলোচনা কমিটির সদস্যদের আপত্তির কারণে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার আলোচনা শুরু হয়। গত জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছরে এই টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।

চস/স

সেন্টমার্টিনে ৪২ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ

০

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এক অভিযানে ৪২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এক বিশেষ অভিযানে ৪ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও ২১ কেজি ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন।

দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার মারুফ আহমেদ সৌখিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা এলাকায় টহল দিচ্ছিল কোস্ট গার্ডের একটি দল। এসময় একটি সন্দেহভাজন ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটকে থামার নির্দেশ দিলে পাচারকারীরা ৩টি বড় বস্তা সাগরে ফেলে দ্রুত মিয়ানমার সীমানায় পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে সমুদ্র থেকে ভাসমান বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে বস্তাগুলো থেকে আনুমানিক ৪২ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সাগরে কোস্ট গার্ডের এমন কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চস/স

সারদার আদলে জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

০

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে “বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা” এবং “চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা” শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার ন্যায় প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একটি ‘পুলিশ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা এবং ৭২ একর জায়গায় ‘চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার’ স্থানান্তরিত করা হবে। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা—বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড় কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনঃনির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার/কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবারি, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (APBN) নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪ শত উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে, যা অপরাধ দমনে গতিশীলতা আনবে। তবে জরুরি অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে এসওপি (Standard Operating Procedure) অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করার বিধান বহাল রয়েছে।

পরো সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।

চস/স

ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

০

চলতি বছ‌রের ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, গঙ্গা চুক্তিতে মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।

আগামী বছ‌রের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হ‌বে ব‌লে জানান তি‌নি। এছাড়া তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে আগামী বছ‌রে সরকার মূল কাজ শুরু কর‌তে চায় ব‌লেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শে‌ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবা‌বে এ প্রত্যাশার কথা জানান মন্ত্রী।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশের জন্য মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট। যেখানে বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ এর সুফল পাবে। পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমান হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসছে, দীর্ঘদিন থেকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে ওই অঞ্চলের মানুষ জীবনধারণ করছে। আমরা এই মহাপরিকল্পনার নামে যা আলোচনা করছি, এটা নিয়ে প্রচুর সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের যেসব বিশেষজ্ঞ সদস্য রয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, মিটিং করেছি এবং দায়িত্ব দিয়েছি। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ, তাদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ব‌লেন, খুব শিগ‌গিরই এর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। স্টাডির ভিত্তিতেই আমরা প্রজেক্টের কাজ শুরু করব। আমরা আশা করছি, এটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব শেষ করে যেন ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, অন্যদিকে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সবাই বেশ উদগ্রীব। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম ৫ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল, যাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।

পা‌নিসম্পদ মন্ত্রী ব‌লেন, ১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআর‌সি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী যে, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না-জান‌তে চাই‌লে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ব‌লেন, পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বাস করেন, তারা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

​আরেক প্রশ্নের জবা‌বে মন্ত্রী ব‌লেন, পদ্মা ব্যারাজের স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছি। তিস্তার মতো মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্ভব নয়। অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই আমাদের সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।

চস/স

টেকনাফে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার ৩ লাখ ইয়াবা

০

কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে মাটির নিচে পুতে রাখা ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া মন্দির সংলগ্ন কেওড়া বাগানে এ অভিযান চালায় এসআরবি ও বিজিবি। তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় মাদক কারবারিরা।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, কেওড়া বাগানে ইয়াবার একটি বড় চালান মজুত করার সংবাদের ভিত্তিতেই তারা অভিযানটি পরিচালনা করেন। বাগানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে মাটির নিচ থেকে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উদ্ধার করা ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চস/স

শক্তিমান ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই

০

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকার আর নেই। গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হাসপাতাল সূত্র জানায়, সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নিখুঁত অভিনয়শৈলী ও দাপুটে সংলাপের জন্য দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন নানা পাটেকার। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই কিংবদন্তি নটসম্রাট, ওয়াজুদ, পরিন্দা, আব তাক ছাপ্পান আর যশোবন্ত-এর মতো অসংখ্য সফল ছবিতে অভিনয় করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। এরপর ২০০০-এর দশকের শুরুতে শক্তি: দ্য পাওয়ার (২০০২), আব তাক ছাপ্পান (২০০৪), অপহরণ (২০০৫) এবং ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১ (২০০৬) ছবিতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়।

বাণিজ্যিক ধারার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) এবং এর সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার উদয় শেট্টির চরিত্রে অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের মনে আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ (২০১০) ছবিতে দুর্দান্ত পার্শ্ব চরিত্রের জন্য পঞ্চমবারের মতো ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার মনোনয়ন পান। পরে ২০১৬ সালে মারাঠি ছবি নটসম্রাট-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন। সম্প্রতি ‘হাউসফুল ৫’ ছবিতেও পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাকে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতজগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই বহুমুখী শিল্পী। ১৯৯৭ সালে ‘যশোবন্ত’, ১৯৯৮ সালে ‘ওয়াজুদ’ এবং ২০০৩ সালে ‘আঁচ’ চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গান গেয়ে দর্শক ও সমালোচক উভয় মহলেই প্রশংসা কুড়ান তিনি।

চস/স

পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

০

পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘পানির ভবিষ্যৎ পুনর্বিবেচনা, যুব নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দ্রুত সংলাপ শুরুর আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, পানির অধিকার আদায়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইন ও জনগণের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এ অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, গত ১৫ বছরের ‘অন্ধকার যুগে’ বাংলাদেশ আর কখনো ফিরে যাবে না।

চস/স

একনেকে ১৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত এই অর্থায়নের মধ্যে সরকারি খাত থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প ঋণ হিসেবে মিলবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করবে। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি একেবারে নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প হিসেবে স্থান পেয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতেই এই বৃহৎ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভায় মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জনাব আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং ভূমি মন্ত্রী জনাব মো. মিজানুর রহমান মিনু অংশ নেন।

এছাড়াও শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী জনাব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।

আজকের একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে একক মন্ত্রণালয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প পেয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সর্বাত্মক উন্নয়ন প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং রসিকের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী স্বাবলম্বিতা অর্জনে সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প পাস করা হয়েছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ও দ্বিতীয় সংশোধনীর সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গতি বাড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ সম্পর্কিত ৩য় সংশোধিত প্রস্তাব পাস করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। এছাড়া পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগে গতি আনতে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবনকে ব্যবহারের উপযোগী করা এবং এর সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প পাস করা হয়। সভা শেষে সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

চস/স

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি কাল

বন্দর রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিরোধিতার মুখে আগামীকাল বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। ঢাকাস্থ ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর অডিটোরিয়ামে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এনসিটি এবং ওভারফ্লো কনন্টেনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ চুক্তি হচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ হবে ১৫ বছর। গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও ওসিওয়াই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দেয়। তবে ওই অনুমোদনের সময় বিদেশি অপারেটরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষ চুক্তি স্বাক্ষরকে একটি মাইলস্টোন মার্ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার চুক্তি করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ রয়েছে।

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জুন মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনাকারী কমিটিকে সহায়তার জন্য ১২ সদস্যের একটি বিশেষ সহায়ক দল গঠন করে। এর পর থেকে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যায়।

এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কন্টেনার টার্মিনালগুলোর একটি। ২০২৫ সালে বন্দরের মোট কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চট্টগ্রামে শ্রমিক-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিরোধিতা রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে এনসিটি ও ওসিওয়াই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তির খসড়া বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে দ্রুততর পণ্য হ্যান্ডলিং, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোতে আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করার সরকারি উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এর আগে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে (আরএসজিটি)। পাশাপাশি চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার জন্যও আরএসজিটিকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

চস/স

কাল থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান

০

৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। এ সময় পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। তবে নদীতে নামা বন্ধ থাকলেও থেমে থাকবে না জেলেদের সংসারের খরচ। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন কীভাবে পরিবার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পদ্মাপাড়ের জেলেরা।

জেলেদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরলেও তাদের অনেকেরই সরকারি জেলে কার্ড নেই। আবার মাছ না ধরেও কেউ কেউ জেলে কার্ড পেয়েছেন। ফলে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত কার্ডধারী জেলে ৬ হাজার ৩০৪ জন। তবে এবার ভিজিএফের চাল বরাদ্দ এসেছে ৫ হাজার ৫৯২ জনের জন্য। ফলে ৭১২ জন কার্ডধারী ইলিশ জেলে চাল সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট, মিজানপুর ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার পদ্মাপাড়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার আগে নৌকা ও জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। কেউ জাল ঠিক করছেন, কেউ নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছেন।

বরাটের জেলে জমির হালদার বলেন, প্রায় ৫-৬ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরলেও তার জেলে কার্ড হয়নি। বাড়িতে ৫-৭ জন মানুষ। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সংসার চলবে কীভাবে—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। এই পেশা ছাড়া অন্য কিছু করার সুযোগ না থাকায় পেটের দায়ে লুকিয়ে নদীতে নামতে হবে বলেও জানান তিনি।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া গেলে উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

জেলেদের কার্ড না পাওয়া এবং অমৎস্যজীবীদের কার্ড পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর জেলে কার্ড হালনাগাদ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন জেলেদের যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত জেলে হলে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ, পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নদীতে নামার প্রবণতা কমবে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

চস/স