spot_img

২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার
১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনেতা ডন হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। এরপর সিআইডির একটি টিম এসে তাকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। তারা তদন্ত করছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত বছরের (২০২৫ সাল) ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

চস/স

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

আজ রবিবার (৯ আগস্ট) ১১ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তার নাম ঘোষণা করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সব দলের পক্ষ থেকে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

পরে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বললেন, আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে আমরা প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

প্রতিক্রিয়ায় কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, আমি ১১ দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বললেন, আমরা জাতিকে বলতে চাই আমরা এই জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না। আমরা হারব বা জিতব সেটা প্রশ্ন না। প্রশ্ন হচ্ছে আমরা সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়াব।

এর আগে রবিবার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু হয়।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের নেতারা।

চস/স

বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপ চলার সময়ই গুরুতর অসুস্থতা হওয়া হোর্হে মেসি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) আর্জেন্টিনার রোজারিওতে নিজের জন্মভূমিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লিওনেল মেসির বাবা। ছেলের বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারজুড়ে যিনি সবসময় ছায়ার মতো পাশে ছিলেন, সেই মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত রোজারিওতে পৌঁছেছেন বিশ্বজয়ী এই তারকা।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে মারা যান ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি। দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ফোর্ট লডারডেল থেকে বিমান ধরে শনিবার রাতে রোজারিওর বিমানবন্দরে পা রাখেন মেসি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানরা। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিমানবন্দর ছেড়ে যান তারা।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোজারিওর কাছাকাছি একটি শহরে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও একান্ত পারিবারিক পরিসরে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। তবে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে প্রিয় তারকার বাবার সমাধিস্থলের গেটের আশপাশে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত-সমর্থক। এই দুর্দিনে পুরো পরিবারের পাশে দাঁড়ানেই লক্ষ্য তাদের।

আরও পড়ুন: বাবা হারালেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি

হোর্হে মেসির প্রয়াণে বিশ্ব ফুটবলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদসহ বিশ্বের নামী-দামী ক্লাবগুলো শোক বার্তা পাঠিয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনার ক্লাব নিউয়েলস ও রোজারিও সেন্ট্রালও শোক প্রকাশ করেছে।

চস/স

বার্মিজ নাগরিক পরিচয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বড় সাজ্জাদের ‘সহযোগী’ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত ‘এইট মার্ডার’ মামলার আসামি ও বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ও ফুফাতো ভাই গোলাম সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ তা অস্বীকার করেছেন।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের আগে গোলাম সারোয়ার নিজেকে বার্মিজ নাগরিক পরিচয় দিয়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোলাম সারোয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদের’ হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মুখপাত্র সহকারী কমিশনার মো. আমিনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দেশ ছেড়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল গোলাম সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

আমিনুর রশীদ বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে গোলাম সারোয়ার জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা কাগজপত্র ব্যবহার করে নিজেকে বার্মিজ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ পরিচয়ে তিনি ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ডিবি পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সিএমপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, গোলাম সারোয়ার ‘বড় সাজ্জাদের’ পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চস/স

বাবা হারালেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি

আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এই ব্যবসায়ী শুক্রবার তার জন্মস্থান আর্জেন্টিনায় রোজারিওর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মেসি পরিবারের জন্য এই মর্মান্তিক খবরটি একটি বড় ধাক্কা। যদিও তার মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

শুরু থেকেই ছেলেকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবল ক্যারিয়ার গঠনে হোর্হে এক স্মরণীয় ও অপূরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ চূড়ায় মেসির অবিশ্বাস্য উত্থানের পেছনে তার বাবার বিশাল প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে তরুণ এই ফরোয়ার্ডের যাত্রার শুরুর দিকের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বছরগুলোতে এটি সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল। মেসি যখন শিশু বয়সে কাতালান জায়ান্ট বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ আমেরিকা ছেড়ে যান, তখন তার বাবা ব্যক্তিগতভাবে তার সাথে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পুরো পরিবার তখন প্রাথমিক অবস্থায় রূপান্তরের এই সময় সামলাতে রোসারিওতেই থেকে গিয়েছিল।

বড় ধরনের জীবন পরিবর্তনের সেই অনিশ্চিত সময়ে হোর্হে প্রয়োজনীয় মানসিক ও বাস্তবমুখী সহায়তা প্রদান করেছিলেন। তিনি তার ছেলেকে ইউরোপে একেবারেই নতুন একটি জীবনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেন। মেসি যত বড় হচ্ছিলেন এবং তার পেশাদার ক্যারিয়ার যখন একটি বৈশ্বিক মাত্রা পাচ্ছিল, তখন তার সঙ্গে সঙ্গে হোর্হের ভূমিকাও বিকশিত হতে থাকে। তিনি বেশ দক্ষতার সাথে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে খেলোয়াড়ের জটিল সব পেশাদার বিষয়গুলো পরিচালনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

হোর্হে সবসময় খেলাধুলা সংক্রান্ত বিষয়ে তার ছেলের প্রাথমিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে ফুটবল বিশ্বে মেসির অসাধারণ যাত্রার কিছু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তার এই নিবেদিত কাজ নিশ্চিত করেছিল যে, আর্জেন্টাইন এই আইকন মাঠের বাইরে তার ব্যবসায়িক বিষয়গুলো নিরাপদ রেখে সম্পূর্ণ মনোযোগ মাঠে খেলার ওপরই রাখতে পারেন।

স্ত্রী সেলিয়া এবং চার সন্তান—লিওনেল, তার দুই বড় ভাই রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং ছোট বোন মারিয়া সোলকে রেখে পরপারে চলে গেলেন হোর্হে। শনিবার নিউয়েলস ওল্ড বয়েস প্রথম ক্লাব হিসেবে হোর্হের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘হোর্হে মেসির প্রয়াণে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছে। তিনি ছিলেন (নিউয়েলসের) একজন সুপরিচিত সমর্থক, ব্যবসায়ী এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাবা। হোর্হে ছিলেন সেই অভিভাবক ও সহায়ক ব্যক্তিত্ব, যিনি স্ত্রী সেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে দূরদৃষ্টি, কঠোর নিষ্ঠা ও ভালোবাসার মাধ্যমে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।’

তারা আরও বলেছে, ‘লিওনেলের পথচলার প্রতিটি পদক্ষেপে তার নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন এবং নেপথ্যের নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলও এক বিবৃতিতে ‘লিওনেলের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা’ জানিয়ে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

চস/স

কক্সবাজারের মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৯ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, এদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।

এদিন সকালে মহেশখালীর মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন, বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লাম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর বিকেল সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রা বিরতি, বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগদান।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী গেছেন হেলিকপ্টারে। এরপর ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে যাবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

চস/স

জেআইসিতে তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) আটকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে জেআইসির একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছিল। এরপর নির্যাতন করা হয়েছিল তার ওপর। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বর্ণনা ও আমাদের তদন্তে এ সংক্রান্ত তথ্য মিলেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এদিন এ পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারক, প্রসিকিউশনসহ একটি প্রতিনিধিদল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারের একটি অংশ হিসেবে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত জেআইসিতে আমাদের এই পরিদর্শন। এখানে মানুষকে ধরে এনে বন্দি রেখে অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হতো। সেই নির্মম চিত্র আজ এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, গোপন এই বন্দিশালায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ বহু মানুষকে বন্দি রাখা হয়েছিল বছরের পর বছর। এমনকি ১/১১-এর সময় এখানকারই একটি কামরায় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল। তবে দেশে যেন ভবিষ্যতে এমন কোনো টিএফআই বা জেআইসি তথা আয়নাঘর প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেজন্য আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অপরাধ করলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কিন্তু বিচারবহির্ভূত কোনো কিলিংয়ের শিকার যেন কেউ না হন, এভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সেটিই আমরা চাইবো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম হয়েছিল উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অসদুদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই আয়নাঘর নামীয় টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অতিউৎসাহী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য। তারা বিরোধী ঘরানার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা বা ভিন্ন মতপথের মানুষকে গুম করে এসব বন্দিশালায় রাখতেন। গুমের এমন অনেক ভুক্তভোগীর আমরা এখন পর্যন্ত কোনো হদিস পাইনি। তবে টিএফআই ও জেআইসিতে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারকাজ চলছে। জড়িত অনেক কর্মকর্তাকে আমরা বিচারের আওতায় এনেছি। ভবিষ্যতেও যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

চস/স

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শৌচাগারে মিলল পুলিশ সদস্যের মরদেহ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪ এপিবিএনের ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের শৌচাগার থেকে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) রুবেল হোসেন (৩১) ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত পুলিশ ক্যাম্পটিতে দায়িত্বরত ছিলেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে শৌচাগারের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্পের নিয়মিত রোলকলে রুবেল হোসেনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এরপর ক্যাম্পের সহকর্মীরা তাকে সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।

পরদিন শনিবার সকালে ক্যাম্পের বাবুর্চি শরীফ রান্নার কাজে শৌচাগারের দিকে গেলে সেটি ভেতর থেকে বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকি ও ধাক্কাধাক্কির পরও সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে ভেতরে কাউকে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে ক্যাম্পের অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এসে নিখোঁজ এএসআই রুবেলকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে, ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক সিরাজ আমিন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং উখিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সবার উপস্থিতিতে শৌচাগারের দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এএসআই রুবেল হোসেনের মরদেহ বের করে আনা হয়।

শৌচাগারের ভেতর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, গোসলের তোয়ালে, টর্চ লাইট ও সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক সিরাজুল আমিন বলেন, চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে স্বাভাবিক মৃত্যু বা স্ট্রোক মনে হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চস/স

তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান ফের গ্রেপ্তার

কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে পুলিশের প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে ও আসামির পালিয়ে যাওয়া রোধকল্পে শনিবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন।

পিবিআই আরও জানায়, এর আগে গত ২২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ৪ আগস্ট মুক্তি পান। গত ৬ আগস্ট হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে।

চস/স

রাতে গানের আসর মাতালেন পেহেলি ভৈরবী, সকালে আর বাড়ি ফেরা হলো না

সিলেটের বিশ্বনাথে একটি মাজারের মাসিক নিয়মিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ১৭ বছর বয়সী বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবী। বৃহস্পতিবারও তিনি গান গেয়ে মাজার মাতান; কিন্তু ওই অনুষ্ঠানটি ছিল তার জীবনের শেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে শুক্রবার (৭ আগস্ট) মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এই বাউল শিল্পী।

নিহত বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে। তিনি ওই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে একজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হযরত ছাবাল শাহর (রহ.) মাজারে বাবার সঙ্গে এসে গান গেয়েছিলেন শিল্পী পেহেলি ভৈরবী। তার গান দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে শোনেছেন। দর্শকদের সেই ভালোবাসার রেশ নিয়েই গতকাল সকালে বাবার সঙ্গে বাসে করে ফিরছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু বাড়ি ফেরা হয়নি পেহেলি ভৈরবীর।

তার মৃত্যু গানের আসরের অনেক শ্রোতাকে শোকাহত করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেহেলী ভৈরবীকে স্মরণ করে তার গানের প্রশংসা করেছেন। পেহেলী ভৈরবীকে যারা চেনেন, তারাও তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।

এদিন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে যে নয়জন নিহত হয়েছেন তার মধ্যে পেহেলি ভৈরবী একজন।

চস/স