spot_img

১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রবিবার
৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আগামী রোববার (৩০ আগস্ট) পতেঙ্গার কর্ণফুলী নদীর তীরে টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে নির্মিতব্য এ টার্মিনাল চালু হলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৮ লাখ টিইইউ বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ৭০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ সরাসরি ভেড়ানো যায়। এর চেয়ে বড় জাহাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্য ছোট জাহাজে করে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে পাঠিয়ে সেখানে বড় জাহাজে স্থানান্তর করতে হয়। ফলে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়ে। এপিএম টার্মিনালসের হিসাবে, এ প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ট্রান্সশিপমেন্টের এই অতিরিক্ত ধাপ কমে আসবে। এতে বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পাঠাতে সময় সাশ্রয় হবে। সময়নির্ভর তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা মিলবে।

এক দশকের অপেক্ষার অবসান

লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাস্তব জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময়েও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। পরে লালদিয়া চরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর প্রকল্পটি গতি পায়। বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০২১ সালের ৩০ জুন দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে ডেনমার্কভিত্তিক মারস্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ২০২৩ সালের ২১ মে লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব দেয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি যৌথ প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় এবং এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ চুক্তির কার্যকারিতা শুরু হয়। এরপর চুক্তিতে নির্ধারিত পূর্বশর্তগুলো পূরণ করে ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এপিএম টার্মিনালসের কাছে প্রকল্পের সাইট হস্তান্তর করে।

৩৩ বছরের কনসেশন

পিপিপির আওতায় বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি ও বন্দরের মালিকানা ধরে রাখবে। আর এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তির মধ্যে প্রথম তিন বছর নির্মাণপর্ব এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার মেয়াদ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে টার্মিনাল হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। এপিএম টার্মিনালস চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করলে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

৪৯ একর জমিতে আধুনিক টার্মিনাল

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার ভাটিতে গুপ্তা বাঁকের পরবর্তী এলাকায় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর। এর মধ্যে ৩২ একর জায়গায় মূল টার্মিনাল, প্রায় ৭ দশমিক ১৫ একর জায়গায় কনটেইনার ইয়ার্ড এবং প্রায় ১০ একর জায়গার একটি অংশে ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা থাকবে। প্রস্তাবিত টার্মিনালে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হবে। নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য থাকবে সাতটি জাহাজ থেকে তীরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ক্রেন এবং ইয়ার্ডে থাকবে ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার-চাকা ক্রেন। টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টিইইউ।

৫৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালস প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এত বড় বিদেশি বিনিয়োগে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণকে দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পটির বড় সুবিধা হলো, সরকারি অর্থে বড় ধরনের মূলধনী বিনিয়োগ ছাড়াই আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগ কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে সমুদ্রবন্দর অবকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্রও উন্মুক্ত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) ও বন্দর বিশেষজ্ঞ মো. জাফর আলম বলেন, সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কোনো ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াই বড় একটি অবকাঠামো পাওয়া যাচ্ছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ আসার পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতাও বাড়বে। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

গ্রিন প্রযুক্তিতে টার্মিনাল

বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের নকশায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কনটেইনার ওঠানো-নামানো ও ইয়ার্ড পরিচালনায় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থাও থাকবে। ভবিষ্যতে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগী অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইয়ার্ডের ক্রেনগুলো প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যেই এসব প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে।

নির্মাণপর্বে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। টার্মিনাল চালুর পর সরাসরি কয়েকশ মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পণ্য খালাস, জাহাজসেবা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে। ফলে স্থানীয় কর্মীদের নতুন ধরনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হবে।

নাব্যতা ও যোগাযোগ বড় চ্যালেঞ্জ

ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের সুফল পুরোপুরি পেতে শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। বড় জাহাজ চলাচলের জন্য কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থা সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়লেও বন্দর থেকে পণ্য দ্রুত বের করে নেওয়ার ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থায় নতুন করে জট তৈরি হতে পারে। কাস্টমস, পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থার গতি বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোর সরাসরি সেবা নিশ্চিত করাও বড় বিষয়। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা ও নির্ভরযোগ্য নেভিগেশন নিশ্চিত করা গেলে বড় জাহাজের নিয়মিত সরাসরি আগমন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হওয়ার সুযোগ

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। প্রতিবছর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে বন্দরের ওপর চাপও বাড়ছে। লালদিয়া টার্মিনাল সেই চাপ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সমুদ্রবাণিজ্যে কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কর্ণফুলী টানেল ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের সঙ্গে সংযোগ থাকায় দেশের প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে টার্মিনালটির। শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান এবং কর্ণফুলী নদীর সরাসরি সংযোগ দেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।

বড় জাহাজের সরাসরি সংযোগ, আধুনিক পরিচালন প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো একসঙ্গে কার্যকর হলে চট্টগ্রাম বন্দরের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার করে দেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আমরা কোনোভাবেই কাউকে বাংলাদেশে আনতে পারিনি। একসময় এসএসএ বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সরকারগুলোর দূরদর্শিতার অভাবে তাদের আসতে দেওয়া হয়নি। আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করতে চাই না। তবে এসএসএ বাংলাদেশ যখন মোহনায় গ্রিনফিল্ড প্রকল্প করতে চেয়েছিল, তখন আমরা তাদের সুযোগ দিইনি। তারা যেখানে প্রকল্প করতে চেয়েছিল, তার বিপরীতে এখন ক্যাথকর বা সিএসএল রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যেখানে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি দেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। শিপিং ও টার্মিনাল ব্যবসা পরিচালনায় পেশাদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আন্তর্জাতিক অপারেটরদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নামকরা হোটেল চেইন ও বিমানবন্দর বিশেষায়িত ও পেশাদার আন্তর্জাতিক অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একইভাবে শিপিং শিল্পের টার্মিনালগুলোও আন্তর্জাতিক অপারেটরদের দিয়ে পরিচালনা করা উচিত। আমিরুল হক আরও বলেন, আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেগোসিয়েশনের সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দেশের স্বার্থে কতটুকু আদায় করতে পারছেন। তৎকালীন ও বর্তমান বিডা চেয়ারম্যান, তার টিম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যারা এই নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, দেশের লজিস্টিক খাতে এই অবদানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, এটি একটি শুভ সূচনা। ২০১২ সাল থেকে গত ১৪ বছর ধরে আমরা এই টার্মিনালের স্বপ্ন দেখে আসছি। দক্ষ অপারেটরের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হলে টার্মিনালগুলো সঠিকভাবে গড়ে উঠবে। অয়েল টার্মিনাল ও এলপিজি টার্মিনালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা দরকার, যাতে কোনো একক শক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত না থাকে। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি আশিক চৌধুরীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সূত্র: বিজনেস বার্তা

চস/স

ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেন হাসনাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংস‌দে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটির জন্য ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার কথা বলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংস‌দে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তা‌তে ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানু‌ষের স‌ঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি সৃ‌ষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ কর‌ছি।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের অভিযোগ তুলে সম্পূরক প্রশ্ন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। শুধু তাই নয়, ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

হাসনাত লেখেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আস‌লে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের উপর চা‌পি‌য়ে দি‌য়ে‌ছেন। সেখানকার আলেমওলা‌দের ওপর দি‌য়ে‌ছেন। তা‌দের ভাবমূ‌র্তি বি‌শ্বের সাম‌নে ক্ষুন্ন ক‌রে‌ছেন।’

কনসার্ট বন্ধ প্রসঙ্গে হাসনাত লেখেন, ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ায় পু‌লি‌শের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর মিডিয়ায় যেভা‌বে এসে‌ছিল, বাস্তব চিত্র তা থে‌কে আলাদা ছিল। গভীর রাতে উচ্চশব্দের কার‌ণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী‌দের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘ‌টে। তাই শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলে। এ নি‌য়ে পু‌লিশ ও শিক্ষর্থী‌দের কখা কাটাকা‌টি থে‌কে পরবর্তী ঘটনা ঘ‌টে। ক‌য়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন পু‌লি‌শের লাঠিপেটায়। মি‌ডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন কর‌লেও, ঘটনাপ্রবাহ থে‌কে এটা স্পষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসা‌র্ট বন্ধ ক‌রে দেয়‌নি। তারা শুধু শব্দ কমা‌তে ব‌লে‌ছি‌লেন। এর মা‌নে ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ায় সাংস্কৃ‌তিক কার্যক্রম নি‌ষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব‌লে‌ছি‌লেন। যার মাধ‌্যমে তি‌নি ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানুষকে সম্প‌র্কে ভুল বার্তা দি‌য়ে‌ছি‌লেন, তা‌দের‌কে ছোট ক‌রে‌ছিলেন।

তিনি লেখেন, ‘অন্যদিকে নৌকাবাইচের বিষয়টিতে স্থান নিয়ে আমার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছে। সি‌লেটর জায়গায় ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়া ব‌লে ফে‌লি। এ ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তা‌তে আমি বিব্রত। অনাক‌ঙ্খিত প‌রি‌স্থি‌তির জন‌্য দুঃখ প্রকাশ কর‌ছি। যদিও পাশাপাশি মূল ঘটনা কী ছিল, মিডিয়া কী ফ্রেমিং করেছে, সেটা নিয়ে সংসদে কথা বলা আমার উচিত ছিলো; কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারনে বিস্তারিত বলার সুযোগ ছিলো না।’

হাসনাত লেখেন, ‘সবশেষে একটি কথা আমি পুনর্ব্যক্ত করছি আমি এবং আমার দল আমরা জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের উপর নির্ভর করেই নিতে চাই। জুলাই একটা সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে, এবং কেউ কারো মত বা দৃষ্টিভঙ্গি আরেকজনের উপর চাপিয়ে দেবে না। বিতর্ক থাকবে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে, কিন্তু কেউ কাউকে জোর করবে না, তার মতামতকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য মতামত হিসেবে গ্রহণ করতে। জুলাই এই common minimum ground-এর ঐক্যের প্রতীক। এই আদর্শের প্রতি আমি কমিটেড ছিলাম, আছি, থাকব। এবং তার ভিত্তিতেই আমি বিশ্বাস করি যে, যদি কোনও গ্রুপ বা ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কারও উপর জোর খাটান, কাউকে বাধ্য করেন নিজের মতামতকে চাপিয়ে দিতে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেটাকে প্রতিহত করা, সকল মানুষের সমান অধিকারকে নিশ্চিত করা। সরকার যখন সেই দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে, অস্বীকৃতি জানায়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে, সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়। আমি এই কথাটাই সংসদে বলতে চেয়েছি। এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে। সকল ধর্মের, মতের মিলনস্থল আমার এই বাংলাদেশ। যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করতে না পারে।’

সবশেষ তিনি লেখেন, ‘আজকে সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এবং তার ফলে সমতার যে বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুলাই ছিলো ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের আন্দোলন। জুলাই ছিল মানুষকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন, সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার আন্দোলন, যা বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করবে। আমাদের চেষ্টা সেই বাংলাদেশ গড়বার জন্য, সে চেষ্টাই আমরা করছি এবং করে যাব।’

চস/স

গুম-খুনের শিকার নিহতদের ৭৪ স্বজন চাকরি পেলেন

গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগ পত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করবী হলে এক অনুষ্ঠানে এই নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, গুম-খুন শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ৭৪ জনকে চাকরি নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়োগপত্র তুলে দেন।

চাকরির নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন, ‘গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।’

জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা দৃষ্টিশক্তি হীন আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলম প্রমুখের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগপত্র তুলে দেন।

নিয়োগ পাওয়া জুলাই অভ্যুত্থান ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইশফাক আহমেদ, শাম্মী সুলতানা, আলাল আহমেদ, শহীদ আনভীর বাবা মমতাজ হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, জুলাইযোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এই নিয়োগপত্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধান মন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, বিএনপি আমার পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চস/স

মিরসরাইয়ে লরির পেছনে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধুর মৃত্যু

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরির পেছনে ধাক্কা লেগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন তালাত মাহমুদ শুভ (২২) ও মো. ওমর (২১)। তারা দুজন বন্ধু ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টির মধ্যে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লরির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অপরজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি থানা হেফাজতে রয়েছে।

চস/স

কয়েক দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কত?

দেশের বাজারে সোনার দাম কমা‌নোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১১৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

​শ‌নিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

​সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।

চস/স

নেপালে-তিব্বতে নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত প্রদেশের গিরং জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার এসব মরদেহের মধ্যে ৬২৬ টি নেপাল এবং বাকি ৭টি তিব্বতের।

মরদেহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিখোঁজদের সংখ্যাও। কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের তথ্য অনুসারে, রাসুয়া এবং গিরংয়ে এ পর্যন্ত নিখোঁজদের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনে। নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন এবং গিরংয়ে ৫৫৮ জন। পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। এই নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতিদের পাশরপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক আছেন।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতিকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার,পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে নদীতে যে জলাধার তৈরি হয়) ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায়। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং তার সঙ্গে আসা টনকে টন কাদা, পাথর, জঞ্জালে ঢেকে যায় দুই দেশের দু’জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিকে গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদেন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যারিয়ার হ্রদের পানির প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল সিসিটিভির প্রতিবেদনে।

শুক্রবার এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর তিব্বত এবং নেপাল— উভয় স্থানেই উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। কিছু সময় স্থগিত থাকার পর অবশ্য ফের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে নেপাল; তবে চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর ফের উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে তিব্বতে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

চস/স

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।

কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

চস/স

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসছে নবম পে-স্কেলের গেজেট

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি করতে চায় সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোয় বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে। বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়া শুরু হলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতনও নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। পরে ওই তিন মাসের বকেয়া অর্থ সমন্বয় করা হবে।

এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। এখন সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহকে গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখার কথা বলা হয়েছিল। কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার, দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার, সপ্তমে ৫৮ হাজার, অষ্টমে ৪৭ হাজার ২০০, নবমে ৪৫ হাজার ১০০ এবং দশম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ১০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা মূল বেতনের সুপারিশ রয়েছে।

তবে এসব অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে। ফলে গেজেট প্রকাশের আগে বিভিন্ন গ্রেডের বেতনে পরিবর্তন আসতে পারে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠকের পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় যাবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

এদিকে জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব পক্ষের সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোর অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে।

চস/স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় শুরু হবে। জাতীয় ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে এবারের অধিবেশনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নামের তালিকা পাওয়ার পরই কমিটিগুলোর গঠন চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি জানান, অধিবেশনটি স্বাভাবিকভাবে ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিবেশনের সময় বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকার নিরাপত্তাবিধি সবাইকে মেনে চলতে হবে। কেউ আইন অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চস/স

নেপালে ত্রাণ-উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত।

এতে আরও বলা হয়, নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং পর্যটকসহ আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপাল সরকার ও দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘নিহতদের জন্য আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’

নেপালের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

চস/স