spot_img

৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানান, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরীর বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

চস/স

দেশে হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে আরও ১ হাজার ৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭০২টি শিশুর।

হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৯৭টি শিশু মারা গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৭৮। এই সময়ে ১ হাজার ২১৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৯টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৭০৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২ হাজার ২৪৪ রোগী, যাদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৪১১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

চস/স

বিমান ভাড়া কমিয়ে হজের নতুন প্যাকেজ নির্ধারণ

বিমান ভাড়া কমিয়ে আগামী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আগামী বছরের জন্য হজ প্যাকেজ-১ ও হজ প্যাকেজ-২ ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

হজ প্যাকেজ-১ এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। আর হজ প্যাকেজ-২ এর খরচ পড়বে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্যাকেজে খরচ পড়বে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে। তবে সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজ-২ এ উল্লেখিত সেবা সুবিধা কমিয়ে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে বিমান ভাড়া কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চস/স

ফাইনালের আগে মেসির রহস্যময় বক্তব্য, আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। ফাইনাল হারের রেশ এখনও কাটেনি আলবিসেলেস্তেদের। এরই মধ্যে ফাইনালে মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে দেওয়া লিওনেল মেসির রহস্যময় একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মেসি ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের বলছেন, ‘সবাই শান্ত হও। আসল বিষয় হলো আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’

এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে মেসির পরের কথাগুলো, ‘এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। চলো শুধু খেলায় মন দিই।’

ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রেসিংরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলার সময় মেসির সতীর্থরা সবাই শান্তই ছিলেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ফাইনালের আগে ফুটবলারদের কী ভুলে যাওয়ার কথা বলেন মেসি?

মেসি র কী ইঙ্গিত করছিলেন, তা পরিষ্কার না হলেও ফাইনালের আগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা দল। প্রতিপক্ষ স্পেনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে রেফারিংয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

ফাইনালের আগে স্পেনের ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় রেফারিং নিয়ে এমন কিছু ঘটনা দেখেছি, যা সত্যিই বিস্মিত করেছে। কিছু ঘটনায় কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে। তারা প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ফুটবলে, বিশেষ করে এত বড় প্রতিযোগিতায় এসব কখনোই অনুমোদন করা উচিত নয়। কারণ, এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং হতাশা তৈরি হয়।’

এদিকে ফাইনাল শেষে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ বাধে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে তদন্তে নেমেছে ফিফা।

চস/স

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন জামায়াত এমপি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে নারীটিকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) একটি বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর গাড়িচালক তাঁর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে এবং ক্যামেরায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর অবস্থানের ভিডিও ফুটেজ মিডিয়াতে প্রচার করে চরিত্র হনন করার অপচেষ্টা চালায়। যদিও নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যায়, তাঁর স্ত্রী একজন।

বিবৃতিতে জামায়াত এমপি বলেন, গত ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২৬ আমার প্রথমা ও দ্বিতীয়া স্ত্রী যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম এবং মোছা. মারিয়াম বেগম এবং অত্র মরিয়াম বেগমের মামা মো. ওবায়দুল্লাহ গাড়ীচালককে সাথে নিয়ে মগবাজারস্থ মো. মাছুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে পরিদর্শনের জন্য যাই এবং সেখানে আনুমানিক মোট সোয়া ১ ঘণ্টা অবস্থান করি। যোহরের নামাজের পড়ার পূর্বে গাড়ী-চালক গাড়ি দেখার জন্য বাইরে যায় বেশ কিছু সময় অবস্থান করে। দ্রুত রুমে চলে এসে আমাদের সতর্ক থাকতে বলে এবং পুনরায় চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার চলে এসে দরজা খুলতে বললে দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম দরজা খুলে দেয়। সাথে সাথে ৫/৭ জন অপরিচিত লোক রুমে ঢুকে পড়ে আমাদের কৈফিয়ত তলব করে যে কেন আমরা এখানে আছি। কিছুক্ষণ পর তারা আমাদের ব্যাগ পকেট চেক করে নিচে একটি বিকাশের দোকানে নিয়ে যায় এবং এক লাখ টাকা দাবী করে। আমরা তাদের দাবির প্রেক্ষিতে উক্ত টাকা প্রদান করি এবং তারা আমাদের নিরাপদে ও স্ব-সম্মানে সেখান থেকে প্রস্থান করতে সহায়তা করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতক্ষণে আমাদের গাড়ি চালক ওবায়দুল্লাহকে বহুক্ষণ ধরে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। আমরা বাসায় চলে আসি। রাত আনুমানিক দশটার দিকে গাড়ী-চালক ওবায়দুল্লাহ্ আমার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর কাছে দশ লক্ষ টাকা দারি করে অন্যথায় মগবাজারের চাঁদাবাজরা গাড়ি দেবে না বলে জানায়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হলো- গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের নায়ক বলে এতক্ষণে প্রতীয়মান হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহর দুলাভাই আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক টানাপোড়ন চলতে থাকে। অতীত একদা সম্পর্ক ভীষণ খারাপ হলেও বর্তমানে কিছুটা বাহ্যিকভাবে উন্নতি দেখা দিলেও দ্বন্দের অবসান ঘটেনি। গাড়ী-চালক ওবায়দুল্লাহ ষড়যন্ত্র করে আমাকে, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার গাড়ি জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। জনাব মাছুম বিল্লাহ কৌশলে পরদিন রাত প্রায় ১২টার নাগাদ তার একজন ভাই থানার এস আই আমিনুরকে সাথে নিয়ে এয়ারপোর্ট রোড থেকে গাড়ীটা চালকসহ উদ্ধার করে বাসায় এসে গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহকে বেশ মারধর করলে ওবায়দুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটে চলে যায়। সেসময় তিনি বলেন, ‘তোমার মেয়ের জীবন আমার হাতের মুঠোয় এবং এবং এমপিকে দেখে নেব’।

সেহেতু গাড়ী চালক ওবায়দুল্লাহ হিংসা ও স্বার্থের বশীভূত হয়ে তার পূর্ব থেকে অফিস রুমে ধারন করা সিসি ক্যামেরায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর অবস্থান ভিডিও ফুটেজ মিডিয়াতে প্রচার করে তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা চালায়। যা সম্পূর্ণ বেআইনী, হিংসাত্মক, চক্রান্তমূলক এবং আমার বা আমাদের— চরিত্র হননের সামিল।

বিবৃতিতে তিনি গাড়ীচালক ওবায়দুল্লাহ এমন কাজকে চক্রান্ত দাবি করে বিষয়টির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি চরিত্র হননের জন্য তার কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

চস/স

চট্টগ্রামে শিশু আয়নী হত্যা মামলায় আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় তিন বছর আগে স্কুল ছাত্রী আবিদা সুলতানা আয়নীকে খুনের মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যূদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. সাইফুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আসামি মো. রুবেলকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন।

এছাড়া অন্য একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাই লেইন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবা থেকে ১০ বছর বয়সী আয়নীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দিঘির পাড় এলাকায় তাদের বাসা।

শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর বাবা কাজ করতেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায়।

২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকেল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও সন্ধান না মেলায় ৭দিন পর ওই বছরের ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা।

বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

মামলায় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সি মো. রুবেলকে আসামি করা হয়। তাকে আটক করার পর পিবিআই শিশুটির লাশের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহারে শিশুটির মা বলেন, ঘটনার দু-তিন দিন আগে স্কুলের এক বান্ধবী বিড়াল কিনেছে জানিয়ে আমার কাছে বিড়াল ছানা কিনে দেওয়ার আবদার করে মেয়ে। তখন বলেছিলাম, বেতন পেলে বিড়াল ছানা কিনে দিব। তখন সে বলেছিল, রাস্তার এক তরকারি বিক্রেতা বলেছে, তার এক পরিচিত লোক আছে। সেখান থেকে আমাকে বিড়াল ছানা এনে দেবে।”

২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে মিনিট পাঁচেক কথাও বলেছিল প্রতিবেশী রুবেল।

পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা দেবে বলে ভ্যান করে নিয়ে যায় ফাঁকা এক বাসায়।

মামলাটি তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইলিয়াস খান তখন জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যায় রুবেল। যেটি তার পরিচিত এক জনের খালি বাসা।

ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে রুবেল শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হবার চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা করে’ শিশুটিকে।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যাকাণ্ডের কথা ‘স্বীকার করে’ ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ২১ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে শিশুটিকে খুন করা হয়।

পুলিশ জানায়, সেদিন অন্য প্রতিবেশীদের সাথে রুবেলও শিশুটিকে খুঁজেছিলেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে, রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান, যেখানে তিনি আয়নীর মরদেহ লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেখান থেকে লাশ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।

চস/স

উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তর ন্যায্য স্থানে স্থাপনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি

উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর ন্যায্য ও ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত স্থানে স্থাপনের দাবিতে চার ইউনিয়নের জনগণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, উত্তর ফটিকছড়ি মূলত ভূজপুর, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই চার ইউনিয়নের ভৌগোলিক মধ্যবর্তী স্থান বিবেচনায় উপজেলা সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হলে তা জনগণের জন্য অধিকতর যৌক্তিক, সহজলভ্য ও জনবান্ধব হবে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ভূজপুরে উপজেলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা চার ইউনিয়নের মানুষের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তারই প্রতিবাদে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এসময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনস্বার্থ এবং স্থানীয় জনগণের মতামত বিবেচনায় নিয়ে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান যৌক্তিক স্থানে নির্ধারণে বিষয়টি পুনঃর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চস/স

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সচিব পদমর্যাদার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। রোববার (১৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২০ জুলাই) তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান রাশেদ খাঁন নিজেই। পোস্টে তিনি প্রজ্ঞাপনের একটি ছবিও শেয়ার করেন।

ওই পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার সহকারী ( রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিমূর্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যারকে।

তিনি ওই পোস্টে আরও লেখেন, আমি যেন আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারি, এজন্য সবার দোয়া ও ভালবাসা চাই। নতুন জীবনের এই পথচলায় সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

চস/স

মেসিকে হতাশ করে গোল্ডেন বল জিতলেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি

এবারের বিশ্বকাপে ৮ গোলের সঙ্গে ৪টি অ্যাসিস্ট করেন লিওনেল মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন এবারের গোল্ডেন বল জিতবেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে মেসিকে হতাশ করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় তথা গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিগো হার্নান্দেজ।

দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশপাশি মাঝমাঠের কাণ্ডারি ছিলেন রদ্রি। পুরো বিশ্বকাপে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছেন।

রদ্রি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন, টুর্নামেন্টের রেকর্ড গড়ে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন এবং যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাই-ইনটেনসিটি রান সম্পন্ন করেছেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের নিউক্লিয়াস ছিলেন তিনি।

আর তাই, বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্যে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুটটি তার হাতেই উঠেছে। ফাইনাল শেষে পুরস্কার হাতে রদ্রির সেই চেনা লাজুক হাসিই বলে দিচ্ছিল, তিনি স্পটলাইটের চেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতেই বেশি ভালোবাসেন।

চস/স

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পচ্ছিলো না স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। সেখানে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো স্পেন।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। এতে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো স্প্যানিশরা।

ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিটেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় স্পেন। ম্যাচের ৫ মিনিটেই ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ইয়ামাল বক্সে ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং বলটি ডিফ্লেক্ট হয়ে ওলমোর কাছে চলে যায়। ওলমো দারুণভাবে বলটি আবার তার দিকেই বাড়িয়ে দেন। ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় বলটি জালে জড়াতে পারেনি!

ম্যাচের সময় যত বেড়েছে ততই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ৩টি শট নিয়ে ২টা লক্ষ্যে রেখেছে স্প্যানিশরা। তবে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি।

৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির লক্ষণ নিয়ে তিনি নিকোলাস ওতামেন্দির বদলি হন। একই সময়ে কুকুরেয়ার দারুণ একটি প্রচেষ্টা ডানপাশের পোস্টের সামনে দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।

প্রথমার্ধে ৫ শতাংশ বল পজেশনে রেখেছিল স্পেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ আর্জেন্টিনা। পাসেও দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার ১৫৫ নিখুঁত পাসের বিপরীতে তাদের ৩১৩!

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখিয়েছে স্পেন। বেশ কিছু আক্রমণ করে। তবে তা রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটের সময় বেপরোয়া ট্যাকল করে স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে ফাউল করলে এনজোকে ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। এর ফলে সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ডে বহিষ্কার হন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে বল জালে জড়ান নিকো উইলিয়ামস। তবে তা ফাউলের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে ১০৬ মিনিটে ঠিকই গোল আদায় করে নেয় স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।

এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। বেশ কিছু আক্রমণ করেও ব্যর্থ হয় তারা। এতে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন স্পেনের ফুটবলাররা।

চস/স