spot_img

১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার
২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার, পরীক্ষার পর জানা যাবে বৃষ্টির কি না

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যে জায়গা থেকে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে (২২ মাইল) একটি মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পিনেলাস কাউন্টি থেকে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। হিলসবরো ও পিনেলাস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে ইন্টারস্টেট ২৭৫ এবং ৪ নম্বর স্ট্রিট নর্থ–সংলগ্ন এলাকার জলাশয় থেকে ওই দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলেছে, মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো বর্তমানে পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে রাখা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার করা দেহাবশেষ নারীর নাকি পুরুষের, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মরদেহের খণ্ডিত অংশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনসংযোগ দপ্তর (পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিস) থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে উদ্ধার দেহাবশেষের মিল আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে একই এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ইউএসএফের বাংলাদেশি ছাত্র জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং বর্তমানে ফালকেনবার্গ রোড কারাগারে বন্দি রয়েছে।

চস/স

রাঙ্গুনিয়ায় সেচ দিয়ে বাড়ি ফেরার পাথে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

‎‎চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কৃষি মাঠ থেকে পানি সেচ দিয়ে বাড়ি ফেরার পাথে বজ্রপাতে মো. আমির শরীফ (৬২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

‎রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় পৌরসভার শান্তিনিকেতন ব্রম্মোত্তর গুমাইনিলের পাশে যাত্রী ছাউনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎‎নিহত আমির শরীফ (৬২) পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শান্তিনিকেতন দক্ষিণ পাড়ার অলি আহমদ মাস্টার বাড়ির মৃত লেদু হাজীর ছেলে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির শরীফ পেশায় একজন বর্গাচাষী ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে ছেলেসহ তিনি বাড়ির পাশের বিলে বর্গা নেওয়া জমিতে সেচ দিতে গিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি আহত হন। ‎তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে চন্দ্রঘোনা হেলথকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করলে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

‎এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও মডেল থানার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার বিষয়ে জানেনা বলে নিশ্চিত করেন।

চস/স

জামায়াত এমপি আমির হামজার আগাম জামিন

মানহানির মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এই মামলায় গ্রেপ্তরি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষাপটে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পান তিনি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২৬ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরে ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মানহানি মামলায় মুফতি আমির হামজাকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন বিচারক। এর আগে মানহানি মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি। এজন্য সকালে সশরীরে হাইকোর্টে উপস্থিত হন আমির হামজা।

চস/স

রাউজানে একদিনের ব্যবধানে ফের যুবদল কর্মী খুন

চট্টগ্রামের রাউজানে একদিনের ব্যবধানে ফের দুর্বৃত্তের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নাছির উদ্দীন (৪৫) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশের পাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ নাছির উদ্দীন একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবীতে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপ ও সন্ত্রাসী জানে আলম গ্রুপের মধ্যে পাহাড় ও কৃষি জমি কেটে মাটির ব্যবসা, বালির ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কদলপুর ইউনিয়নে একাধিক গুলিবিদ্ধের ঘটনা, খুন, হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। নিহত নাছির উদ্দীনের রায়হান গ্রুপের সদস্য হিসাবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছির উদ্দীনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এর আগেও গত ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর প্রতিপক্ষরা নাছির উদ্দীনকে তার বাড়ির পাশে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন। ১৭ মাস পর পুনরায় দুর্বৃত্তের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়৷

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নাছির উদ্দীনের তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লেগেছে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে।

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ নাছির উদ্দীনকে হাসপাতালে নেওয়া পথে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহত নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।’

এর আগে গত শনিবার ভোরে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইলীখীল গ্রামে মুহাম্মদ কাউসার উজ জামান বাবলু (৩৬) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় রাউজানে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

চস/স

হজ পালন করতে গিয়ে ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মারা যাওয়া চারজনই পুরুষ এবং তারা সবাই পবিত্র মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন। মদিনা, জেদ্দা বা মিনায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তারা হলেন- মোঃ নইম উদ্দীন মন্ডল, মোঃ আবুল কাশেম, মোঃ সেরাজুল হক ও মোঃ খলিলুর রহমান।

বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২৬ এপ্রিল (সৌদি সময়) পর্যন্ত মোট ৩৫ হাজার ৭৬৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩২ হাজার ৪৮২ জন হজযাত্রী রয়েছেন। মোট ৮৯টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ১৫ হাজার ৭৪৮ জন হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ১২ হাজার ৪৬৯ জন হজযাত্রী এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী।

সৌদি আরবে অবস্থানরত হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা দিতে স্থাপিত চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৫০টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্ক থেকে ৬,৯২২টি সেবা প্রদান করা হয়েছে বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়।

চস/স

জামালপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ চাপায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মা ও দুই মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা।

নিহতরা হলেন, দাগী এলাকার মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৬৫) এবং তার দুই মেয়ে ফরিদা আক্তার (৪০) ও ফতে আক্তার (৩৭)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে নিজ বসতঘরের একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা ও দুই মেয়ে। ভোর রাতের দিকে হঠাৎ বৈশাখী ঝড় শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘরের পাশের একটি বড় মেহগনি গাছ উপড়ে গিয়ে টিনের ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা তিনজনই গাছের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

রাতের অন্ধকার ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়নি। পরে সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং গাছের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় দাগী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চস/স

বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে যে ৭ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

বিদেশি ক্রেতারা যদি বাংলাদেশের দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে সেটা সাধারণত কয়েকটি কারণে হয়—যেমন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, শ্রম পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া, বা আন্তর্জাতিক মান বজায় না থাকা।

এই পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকারের কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

১. রাজনৈতিক ও নীতি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা: বিদেশি ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় স্থিতিশীল পরিবেশকে। তাই নীতিমালা হঠাৎ পরিবর্তন না করে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থনৈতিক কাঠামো বজায় রাখা জরুরি।

২. শ্রম পরিবেশ ও কর্মস্থলের মান উন্নয়ন: কারখানাগুলোতে নিরাপদ কাজের পরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন এসব বিষয় খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে।

৩. রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা: কাস্টমস, বন্দরের কার্যক্রম, এবং পেমেন্ট সিস্টেম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারে।

৪. দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ঘুষ, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগী কমাতে হবে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বাড়ে।

৫. নতুন বাজার ও নতুন ক্রেতা আকর্ষণ: শুধু পুরনো ক্রেতার ওপর নির্ভর না করে নতুন দেশ ও নতুন ব্র্যান্ড টার্গেট করা দরকার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

৬. মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়ন: উৎপাদিত পণ্যের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রাখতে হবে। একই সঙ্গে “Made in Bangladesh” ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে হবে।

৭. অবকাঠামো ও জ্বালানি নিশ্চয়তা: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত সড়ক ও বন্দরের সুবিধা না থাকলে বড় ক্রেতারা আস্থা হারায়। তাই এসব খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন জরুরি।

বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করা।

লেখক: সাবেরা শরমিন হক

চস/স

একনেকে ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম এবং বর্তমান সরকারের অধীন দ্বিতীয় সভায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আনতে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানান, সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং দুটি প্রকল্প আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্পষ্ট—ব্যয়ে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং প্রতিটি খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পগুলো জনগণের জীবনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সরকারের নির্বাচনি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে।

একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চস/স

এক মাসে তেল বিক্রিতে ইরানের আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে তেল বিক্রি থেকে ইরানের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটির দৈনিক তেল আয় ও মোট রাজস্বে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

মার্চ ২০২৬-এ ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা ফেব্রুয়ারির ১১৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। কিছু বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ প্রবৃদ্ধি এক মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়ের পেছনে প্রধান কারণ বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরান বেশি দামে তেল বিক্রির সুযোগ পেয়েছে। ইউএস-ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এ মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে যে বড় অঙ্কের ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করতে হতো, বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে সেই ডিসকাউন্ট কমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদরের কাছাকাছি মূল্যে তেল বিক্রি করতে পারছে তেহরান।

রপ্তানি ক্ষেত্রেও ইরান কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে এবং ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করে তারা তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে চীনের শোধনাগারগুলো ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে ভূমিকা রাখছে। অন্যদের জন্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে ইরানের নিজস্ব তেল রপ্তানি আয়ের হার অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের চাপ সত্ত্বেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে তেল বিক্রি সচল রেখেছে ইরান, যার ফলে দেশটির জ্বালানি খাতের আয় বাড়তে থাকছে।

চস/স

অর্থ আত্মসাতের মামলায় পূজা চেরির বাবা কারাগারে

চলচ্চিত্র নির্মাণের কথা বলে নেয়া ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। তবে বিষয়টি শনিবার (২৫ এপ্রিল) জানাজানি হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে ওই দিনই ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। পরে আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ভুক্তভোগী ও তার বন্ধু মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটার বাসায় এসে দেবু প্রসাদ রায় নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে একই ব্যবসার কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ এবং ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদনের মাধ্যমে নগদ ৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্তের অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠান তিনি। ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন পার হলেও অভিযুক্ত কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে নানা ধরনের তালবাহানা করেন এবং পরে হুমকি দিতে থাকেন। এতে তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চস/স