spot_img

১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভেনেজুয়েলায় ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের চার দিন পর বিধ্বস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে রোববার (২৮ জুন) এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

লা গুইরা শহরের ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তায় কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে ওই দুইজনকে বের করে আনার সময় আশপাশে ভিড় জমে যায়। উদ্ধারের পর বাবা-ছেলে দুইজনকেই খুব দুর্বল দেখাচ্ছিল। তাদের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল।

গত বুধবারের ভূমিকম্পে দেশের এই উপকূলীয় এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা ১২ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন। বিশেষ সার্চ ক্যামেরা ও সতর্কতার সঙ্গে নড়বড়ে ধ্বংসস্তূপের ভেতর কাজ করে তারা আটকে পড়া মানুষদের খুঁজছেন।

ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক উদ্ধারকর্মী জানান, চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের শরীর খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা তাদের পানিশূন্যতা দূর করতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

একই এলাকায় কর্মরত মার্কিন উদ্ধারকর্মীরা আগের দিনই এক মা ও তার নয় মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছিলেন। বাবা-ছেলেকে বের করার আগে উদ্ধারকর্মীরা স্যালাইনের ব্যবস্থা করেন এবং চারপাশের আবর্জনা সরিয়ে রাস্তা তৈরি করেন।

সপ্তাহের শেষের দিকে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। সূত্র: রয়টার্স

চস/স

যেকোনো মূল্যে সরকার তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা একটি রাজনৈতিক দল। ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এদেশের মানুষ যাকে যেখানে সঠিক মনে করেছে। সেখানে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে। যে আস্থা দেশের মানুষ আমাদের ওপর রেখেছে, সেই আস্থা রক্ষা করা , পালন করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের স্বার্থ রক্ষায় যেমন আমাদের প্রথম দর্শন সবার আগে বাংলাদেশ, তেমনি দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের দর্শন হলো সবার জন্য বাংলাদেশ। এই দর্শনের ভিত্তিতেই আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এই বাজেটকে জীবনবান্ধব বাজেট নাম দিতে চাই। এবারের বাজেটের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে নিয়ে এসে সাধারণ মানুষের, সব নাগরিকের এতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং এর মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়ে সরকার জোর দিচ্ছে। দরিদ্র, নিম্নআয় ও ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে জীবনযাত্রার বোঝা যতটুকু সম্ভব লাঘব করা। আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাউসের স্বার্থে অর্থনীতিকে কীভাবে কুচিকুচি করা হয়েছে, এবারের বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসা।

এছাড়া বাজেটের অন্যতম তৃতীয় লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে সংসদ বলেন, গত সপ্তাহে আমি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করে এসেছি। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের পর্যালোচনায় বলেছে, আলোচনার বিষয়গুলো দেখে মনে হচ্ছে এবারের সফরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাংলাদেশ সরকার অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে। তারা সঠিক বলেছেন। আমাদের বাজের তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের চাকা সচল করা এবং শুধু সচলই নয়, সেটিকে বেগবান করা।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের পানির প্রবাহ নিশ্চিতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে যে অতিরিক্ত পানি আসে, সেই পানি আমরা ধরে রাখব, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকসহ সকলের কাছে সেই পানি সরবরাহ করতে পারি। জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

এর আগে বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) কাছে অনুমতি চান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর স্পিকার অনুমতি দিলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংসদকে জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বিরোধী দলের আসনগুলোয় সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার মসজিদ, কবরস্থান এবং ঈদগাহের জন্য মঞ্জুরি বরাদ্দ করেছেন। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনগুলোতেও বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

চস/স

আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নাশকতা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেন, তাদের এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আজ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমাদের কাছে ছিল। সেই অনুযায়ী আমরা গত তিন দিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে ঢাকার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট জোরদার করেছি। পিকেট, মোবাইল পেট্রোল ও ফুট পেট্রোলের সংখ্যা বাড়িয়েছি। সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন ও টহল বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির কর্মী বা সমর্থকরা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে মিছিল বা জমায়েত করতে পারে—এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে আমরা প্রতিটি সন্দেহজনক জায়গা, যেমন মেস, হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেছি এবং বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি।

তিনি আরও বলেন, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর আমাদের মনে হয়েছে, তারা আজ মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায়, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়। ডিএমপির সদস্যরা তাদের এই পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছে। আশা করি, বাকি সময়েও তারা কোথাও মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত করতে পারবে না। সূত্র: ইত্তেফাক

চস/স

শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তারের তথ্য সঠিক নয়: পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ‘বড় সাজ্জাদের’ সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমনের’ গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, গ্রেপ্তার ব্যক্তি সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসী নন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, চট্টগ্রামের রাউজানে মোহাম্মদ ইমন নামে অন্য এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে ফেসবুকে একটি ভাইরাল ফটোকার্ডে দাবি করা হয় যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু তথ্যে বলা হয়েছিল, সিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় গুলশানের ‘আমারি ঢাকা’ হোটেলের ৯১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে সিএমপির পক্ষ থেকে এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ এবং ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‌‘ডেভিড ইমনকে’ গ্রেপ্তার করিনি। আমাদের গুলশানে অভিযান ছিল। তবে ইমন নামে কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি।’

পুলিশ বলছে, যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি রাউজানের ২ নম্বর ডাবুয়া ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ ইমন। তিনি একটি সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়। তিনি ২০২৫ সালের বাকলিয়া জোড়া খুন এবং পতেঙ্গায় ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যাসহ অন্তত সাতটি মামলার আসামি। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পক্ষে চট্টগ্রামে অপরাধী চক্র পরিচালনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অবস্থান দুবাই দেখানো হলেও তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে।

সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশীদ বলেন, ‘রাতে একটি ফটোকার্ড ছড়ানো হয়েছে যা মিথ্যা। আমি সরাসরি কমিশনারকে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন।’

সন্ত্রাসী ইমনকে সরিয়ে দেওয়ার বা বিভ্রান্তি তৈরির জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সুতরাং, রাউজানে গ্রেপ্তার হওয়া ইমনের সাথে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের কোনো সম্পর্ক নেই। নামের মিল থাকায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

চস/স

সাড়ে ৩ মাস পর হরমুজ প্রণালি পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।

সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হয়। বর্তমানে জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক গণনাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে জাহাজের অবস্থান নির্দেশক ওয়েবসাইট ‘ভেসেল ফাইন্ডার’ এ বাংলার জয়যাত্রার অবস্থান দেখাচ্ছিল ইরানের কেশম দ্বীপ ও ওমানের বন্দর শহর খাসাব এর মধ্যবর্তী অংশে হেনগাম দ্বীপের সমান্তরালে। তখন জাহাজের গতি ছিল ৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল।

এরপর সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ‘ভেসেল ফাইন্ডার’ এ দেখা যায়, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হেনগাম দ্বীপ অংশ অতিক্রম করে এগিয়ে গেছে। তখন জাহাজের গতিবেগ ছিল ৭ দশমিক ১ নটিক্যাল মাইল।

হরমুজ পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগর অতিক্রম করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ওমান উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটির পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি দুবাই এর জেবেল আলী বন্দরে ভেড়ার পরদিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়।

এরপর থেকে পারস্য উপসাগরেই আটকে ছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’; মাঝে একাধিকবার প্রণালি পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে চ্যানেলের কাছাকাছি অবস্থান নিলেও তা সফল হয়নি। জাহাজটির ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়ে প্রণালি পাড়ি দিতে আইআরজিসি’র অনুমতির অপেক্ষায় ছিল যানটি।

চস/স

ইরানের ১২ হাজার মিলিয়ন ডলার ছাড় করছে যুক্তরাষ্ট্র

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে দীর্ঘদিনের আটকে থাকা ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বা ১২ বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রীয় আর্থিক সম্পদ ছেড়ে দিতে চূড়ান্তভাবে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের টানা ১৮ ঘণ্টার ম্যারাথন সংলাপ শেষে এই সমঝোতা হয়েছে বলে মঙ্গলবার (২৩ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান যে এই বিশেষ চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সফল সমঝোতার পর অবরুদ্ধ অর্থ অবমুক্ত করার পাশাপাশি তেহরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোরাসায়নিক বা পেট্রোকেমিক্যালের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য অবাধে বিক্রি করার আইনি অনুমতি পাবে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি যে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বিশেষ পরিদর্শকদের ইরানি পারমাণবিক প্রকল্পগুলো পুনর্নিরীক্ষণ ও কাজ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে তেহরান সম্মত হওয়ায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জটিল ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফল করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। দুই দেশের কূটনীতিকদের নিরলস কূটনৈতিক তৎপরতায় দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার টানটান আলোচনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান এই সমঝোপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ছাড় দেওয়া অর্থের ব্যবহার নিয়ে এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে ইরানকে এই অবমুক্ত করা অর্থ সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনার কাজে ব্যয় করতে হবে। তবে হোয়াইট হাউসের এই দাবিটিকে সরাসরি এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান।

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাপ্তরিকভাবে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ধরনের কৃষিপণ্য কিনতে তেহরানকে কোনোভাবেই বাধ্য করা যাবে না। এই অবমুক্ত হওয়া বিশাল অঙ্কের অর্থ ঠিক কোন কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে, সেই সার্বিক সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ইরান নিজেই গ্রহণ করবে। সূত্র: আল জাজিরা

চস/স

চীন থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে এবং বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে।

এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে যার ফলে মংলার এই জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো।

এই সিদ্ধান্তের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে।

অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে।

চীনে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানচীনে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

তাত্ত্বিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন। সূত্র: ইত্তেফাক

চস/স

মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসি জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসির নৈপুণ্যে টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের ৩ মিনিটে বক্সের ভেতর ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ। অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডারের চাপে বল রাখতে পারেননি।

মার্তিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করেছেন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ। ভিআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। সাইড পোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন তিনি।

৩৩ মিনিটে অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি পাস দারুণভাবে এগিয়ে এসে আটকে দেন শ্লাগার। কিন্তু তিনি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। তবে সেখান থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি।

তবে ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। এরপর বাঁ পায়ে অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৭টি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি এখন একার দখলে নিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।

৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি দুর্দান্ত আক্রমণ শেষ হয় ফের্নান্দেসের জোরালো শটের মাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার তা ব্লক করে দেন। ৭৪ মিনিটে গঞ্জালেসের হেড পোস্টের বাইরে যায়।

এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে আবারও গোলের দেখা পান মেসি। এবার বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে ৫ গোল দিলেন মেসি। এখন পর্যন্ত মেসিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। তৃতীয় জর্ডান ও চতুর্থ আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।

চস/স

দেশে নিবন্ধিত গণমাধ্যম ১৯৬৯টি: তথ্যমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে মোট ৫৯টি সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, ১ হাজার ৪৩৬টি দৈনিক পত্রিকা এবং ৪৭৪টি নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল রয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে তথ্য অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে একটি বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ ২৪ ঘণ্টা কর্মরত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে পৃথক দুটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তথ্য অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে একটি বিশেষায়িত ‘গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট-চেকিং কমিটি’ ২৪ ঘণ্টা কর্মরত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো অপপ্রচার বা গুজব ছড়ালে এই কমিটির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সত্যতা নিশ্চিত করে ‘তথ্যবিবরণী’ এবং ‘প্রতিবাদলিপি’ সরকারি ও বেসরকারি সব গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, তথ্য অধিদফতরের আওতাধীন বিভাগীয় পর্যায়ের আঞ্চলিক তথ্য অফিসসমূহ নিজ নিজ অঞ্চলের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ওপর নিবিড় নজরদারি রাখছে। পাশাপাশি, অপপ্রচার ও সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে অধিদপ্তরের ফিচার শাখা হতে নিয়মিত বিশেষ নিবন্ধ ও ফিচার তৈরি করে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালসমূহে প্রকাশ করা হচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী দেশে বর্তমান গণমাধ্যমের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে মোট ৫৯টি টিভি চ্যানেল রয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪টি এবং অনাপত্তিপ্রাপ্ত বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৫৫টি। তবে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪টিসহ মোট ৩৯টি চ্যানেল তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

দৈনিক পত্রিকার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সারা দেশ হতে বর্তমানে ১ হাজার ৪৩৬টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকা হতে ৫৯৩টি এবং অন্যান্য জেলা হতে ৮৪৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা মোট ৪৭৪টি। এর মধ্যে সাধারণ অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ২৮২টি, দৈনিক পত্রিকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ১৩১টি এবং আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে রয়েছে ৬১টি।

চস/স

দুই বছরের মাথায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই বছরের মাথায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার।

সোমবার (২২ জুন) সকালে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আজ সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কিয়ার স্টারমার বলেন, “আমি লেবার পার্টির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছি। এই সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন দলীয় প্রধান নির্বাচনের মনোনয়ন বিতরণ শুরু হবে এবং পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আগেই তা শেষ হবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময় হিসেবে নতুন উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অনুযায়ী সাধারণত পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানই প্রধানমন্ত্রী হন। বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে স্টারমারের পদত্যাগের পর নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটি লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

গত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবে গত শুক্রবার পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টের একটি উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এই জয়ের ফলে লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ তৈরি হয় বার্নহামের।

এর আগে গত রবিবার ব্রিটিশ পত্রিকা ‘অবজারভার’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্টারমার তার স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবারের মধ্যেই দলের শীর্ষ নেতারা তার কাছ থেকে একটি স্পষ্ট বিবৃতির প্রত্যাশা করছিলেন।

অথচ গত শুক্রবারও এক বিবৃতিতে কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, তার নেতৃত্বের ওপর কোনো চ্যালেঞ্জ এলে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন। একই সঙ্গে তিনি দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে যেন দলকে ছিন্নভিন্ন করা না হয়।

চস/স