spot_img

৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, শনিবার
১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাসপাতালের লাইন দীর্ঘ না করতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে: ডিসি জাহিদ

হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিবর্তে খাদ্য উৎপাদন থেকে প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশন—প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চট্টগ্রাম থেকে এ ধরনের একটি নতুন অভিযাত্রা শুরু হতে পারে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁয় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এ সময় রেস্তোরাঁগুলোর রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনব্যবস্থা, সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা জানান তিনি।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের চিন্তা করতে হবে—আমরা কি হাসপাতালের লাইন আরও দীর্ঘ করব, নাকি মানুষকে অসুস্থ হওয়ার আগেই সুস্থ রাখার চেষ্টা করব?’

দেশে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা বাড়লেও রোগীর চাপ কমছে না উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ১০ বছর আগে হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ কেমন ছিল এবং এখন কেমন, তা দেখতে হবে। হাসপাতাল বাড়লেও অনেক জায়গায় রোগীরা শয্যা পাচ্ছেন না। কেন এমন হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

তাঁর মতে, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আর রোগ প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা যদি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসম্পন্ন খাবার গ্রহণ না করি, তাহলে সুস্থ জাতি গঠন করতে পারব না।’

খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁয় সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, পশু-পাখি পালনে ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ এবং খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি—বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্য অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।

তাই উৎপাদন থেকে ভোক্তার খাবারের টেবিলে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে বাইরে তৈরি খাবারের ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। কর্মজীবী অনেক পরিবারের পক্ষে প্রতিদিন ঘরে রান্না করা সম্ভব হয় না। অনলাইনে খাবার অর্ডার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরতাও বাড়ছে। এ কারণে রেস্তোরাঁয় নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

খাদ্যে অনিয়ম ঠেকাতে বছরের পর বছর অভিযান ও জরিমানা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি বলে জানান জেলা প্রশাসক। জরিমানার পরও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের অনিয়ম আবার দেখা যাচ্ছে।

এ কারণে শুধু জরিমানা ও শাস্তির ওপর নির্ভর না করে রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

‘শুধু জরিমানা করাই আমাদের দায়িত্ব নয়। যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদেরও দায়িত্ব নিতে হবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।

রেস্তোরাঁয় কর্মরত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রাথমিক তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। বিশেষ করে রান্না, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মীদের মাধ্যমে কোনো সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের কথাও বলেন তিনি।

প্রতিটি রেস্তোরাঁকে নিবন্ধিত শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত মান বজায় রাখতে হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান যে মানের রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে, ভোক্তার সেই মানের নিরাপদ খাবার ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

নির্ধারিত মান বজায় রাখতে না পারলে রেস্তোরাঁর গ্রেড পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। বিষয়টি ভোক্তাদের জানানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ এবং ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান–২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। কাজীর দেউরি হয়ে র‍্যালিটি স্টেডিয়াম মার্কেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

পরে স্টেডিয়াম এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে জেলার অন্যান্য রেস্তোরাঁয়ও মালিক ও কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান। এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসও এ কার্যক্রমের অংশ ছিল।

জেলা প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত চট্টগ্রাম গড়তে গত জুলাই থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। এর ধারাবাহিকতায় রেস্তোরাঁয় পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান রেস্তোরাঁয় রান্না ও খাবার পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যসনদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও নিরাপদ খাবার পরিবেশনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা জানান।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ মালিক, কর্মী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ভোক্তা—সব পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের জন্য উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম পথ দেখাতে পারে।

চস/স

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে যুবক আটক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

অপ্রতীমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অপ্রতীম বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরেনি। সে চুপিসারে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজ জিডি করা হয়। এ ঘটনায় কুবি সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম একমাত্র সন্তানের খোঁজে তার ফেসবুকে নিখোঁজের বার্তা দেন। একই বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনসহ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এরই মধ্যে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে পাহাড়ের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরিহিত অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, মূল্যবান আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতীমকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা।

কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধারকুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্বৃত্তদের উদ্দেশ্য করে স্বজনরা লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য আমাদের ছেলেটাকে মেরে ফেললি….. এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি আমরা দিতাম….. নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে, হে আল্লাহ বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

আরও পড়ুন: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চস/স

নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার বেতন কত বাড়ল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে এই নতুন বেতনস্কেল কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট ২০টি গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ বা প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় নির্ধারিত করা হয়েছে।

বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে আর্থিক সুবিধা প্রদানের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। বিধান অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন স্কেলে নির্ধারিত বর্ধিত বেতনের (নতুন স্কেলের বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের) ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন, যা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সাথে যোগ হবে।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ (ইনক্রিমেন্ট) মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া বেতনও পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পেনশনভোগীদের জন্যও একইভাবে বর্ধিত নিট পেনশন ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে বর্ধিত নিট পেনশনের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ হারে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তা যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ নিট পেনশন পাবেন। এ ছাড়া অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীগণ আদেশ জারির পূর্ব পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাদি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাপ্য অঙ্কে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন নির্ধারিত হারের ভাতাদি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। তবে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করা হয়েছে, যা বকেয়া বেতনের সাথে সমন্বয় করা হবে।

অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে, বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বহাল থাকবে। চিকিৎসা ভাতা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এলাকাভেদে মূল বেতনের ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রযোজ্য হবে।

কর্মচারীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে মাসিক ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা), ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য টিফিন ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা মাসিক ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই আদেশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিস (বেসামরিক ব্যতীত), পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, শিক্ষানবিশ, আউটসোর্সিং, দৈনিক ভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। একই সাথে নতুন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে ‘iBAS++’ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চস/স

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার নিজ বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।

মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম।

পরবর্তীতে অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম নিখোঁজ ছেলের সন্ধান চেয়ে ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই পাঞ্জাবিটা (নীল রঙের) ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নাই।’

এ ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

চস/স

চান্দগাঁওয়ে অপহরণের ৬ ঘণ্টার মধ্যে ১ বছর ৯ মাস বয়সী শিশু উদ্ধার

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ে অপহরণের ছয় ঘণ্টার মধ্যে ১ বছর ৯ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে এসআরবি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতকানিয়ার এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার এবং ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া শিশু সাবিহা নূর চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল গ্রামের মো. বোরহান উদ্দিন টিটুর মেয়ে। বর্তমানে তার পরিবার নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় বসবাস করছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১টার দিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মদিনা ভাতঘরের পেছনে নিজেদের বসতঘর থেকে সাবিহা নূরকে কৌশলে নিয়ে যায় ১৫ বছর বয়সী এক শিশু। অভিযোগ রয়েছে, দিলো আরা বেগম ও মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সে শিশুটিকে অপহরণ করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটির বড় চাচা বাদী হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সসংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন।

এসআরবি জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে তাদের একটি অভিযানিক দল নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে আমির হোসেনকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তার কাছ থেকে অপহৃত শিশু সাবিহা নূরকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আমির জানিয়েছেন, তার মামি দিলো আরা বেগম ও মামা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনের কাছে টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি অপহরণ করেছিলেন। পরে আমিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরের স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে দিলো আরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি ও অভিযুক্ত শিশুর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চান্দগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চস/স

উৎপাদনে দুই দিন না যেতেই ফের বন্ধ সিইউএফএল

প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে গ্যাস সরবরাহ পেয়ে উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কিন্তু দুই দিন না যেতেই আবারও কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

কারিগরি সমস্যার কারণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যাটি সমাধানে কাজ চলছে। আগামী রোববার অথবা সোমবারের দিকে কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে সিইউএফএলে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। প্রথমে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু উৎপাদন শুরুর ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে আবারও কারিগরি সমস্যায় কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেল।

সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ছয় মাস ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ ছিল। গত ২৫ আগস্ট কারখানাটিতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন হওয়ায় তখনই উৎপাদন শুরু করা যায়নি।

গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হয়। প্রস্তুতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর পরও কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সমাধান করে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে তখন জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাটির যন্ত্রপাতির ওপরও এর প্রভাব পড়ে। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগে।

সিইউএফএল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা। কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন। গ্যাস-সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে বন্ধ হওয়ার আগে গত দুই বছরেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক দফা উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এবার উৎপাদনে ফিরলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

সব স্থানীয় নির্বাচন জুনের আগে : ইসি

জাতীয় নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে আগামী বছরের জুনের আগে সমস্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে কমিশন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। এরপর জানুয়ারি মাসে কিছুটা ফাঁকা সময় পাওয়া গেলেও তার পরপরই শুরু হবে পবিত্র রোজা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলো। এই আঁটসাঁট সময়সূচির মধ্যে কীভাবে উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে কমিশন।

চস/স

নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৩ টাকা বাড়ল, প্রজ্ঞাপন জারি

দেশে নিম্নস্তরের বা কম দামি প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য স্তরের সিগারেটের মূল্য।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৬২ টাকা থেকে আরও ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে অন্য স্তরের সিগারেটের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, মধ্যম স্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব বহাল রয়েছে।

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময় নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়।

একই বাজেটে মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অতি-উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব নির্ধারণ করা হয়।

তবে বাজেট ঘোষণার পর নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। সম্প্রতি নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে এই স্তরের প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমপক্ষে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করলো।

ফলে চলতি অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম দ্বিতীয় দফায় বাড়লো। বাজেটে ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা করার পর এবার আরও ৩ টাকা বাড়িয়ে তা ৬৫ টাকা করা হলো।

সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে শুধু নিম্নস্তরের দামই বাজেট ঘোষণার পর আবার বাড়ানো হলো। অন্য তিন স্তরের ক্ষেত্রে বাজেটে নির্ধারিত মূল্যই বহাল রয়েছে।

চস/স

এসআই আলতাফ হোসেন হত্যা: জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রীর সঙ্গে আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে নিহতের পরিবারবর্গ সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী মোছাঃ শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাঁর বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়।

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোট ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

চস/স

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে সর্বজনীন পেনশনের টাকা

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন পাওয়ার সুযোগ, জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে টাকা তোলার সুযোগ এবং পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পর্ষদের অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিম চালু রয়েছে। এগুলো হলো—প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। কর্মজীবী, অনিয়মিত আয়ের মানুষ ও প্রবাসীদের পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, চালুর প্রায় তিন বছর পর চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

চস/স