ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় সেফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। এর ফলে মামলাটির আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো।
বুধবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস-সামছ জগলুল হোসেন বিচার শুরুর এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঢাকা বারের আইনজীবী আলীম আল রাজী (জীবন) এই মামলা দায়ের করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক পার্থ প্রতিম ব্রহ্মচারী আসামি সেফাত উল্লাহ সেফুদার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামি সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা অনলাইনে একাধিকবার বিভিন্নভাবে ভিডিও আপলোড করেছেন, যা ভাইরাল হয়েছে। তিনি এসব ভিডিও’র মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এসময় তিনি গালিও দেন। এই মন্তব্য ও গালির মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছেন। এ কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধের শামিল।
উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান ধরনের অশ্লীল, অসঙ্গতিপূর্ণ ভিডিওবার্তা ছড়িয়ে বেশ আলোচনায় ছিলেন সেফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নানা বিষয় নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে অল্প সময়ে ‘তারকা’ বনে যান সেফুদা।
বর্তমানে অস্ট্রিয়া প্রবাসী এ বাংলাদেশির গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনায় বসবাস করছেন।
চস/আজহার


