বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করার দায়ে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিলেও জরিমানা করা হয় তিন যাত্রীকে। পরে সেই টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার (৮ মে) সকালে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
সমালোচনার মুখে ওই তিন আত্মীয়কে চেনেন না বলে জানান রেলমন্ত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত জানা যায় ওই তিনজন রেলমন্ত্রী শ্বশুরালয়ের আত্মীয়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনাকাঙ্খিত এই ঘটনার বর্ণনা দেন রেলমন্ত্রী সুজন।
তিনি বলেন, আমি ১১ থেকে ১২ বছর ধরে এমপি, আমার একটা ক্যারিয়ার আছে। আর ৯ মাস হলো নতুন বিয়ে করেছি, শ্বশুর বাড়ির আত্মীয় এমনকি আমার নতুন স্ত্রীও এখনও আমাকে বুঝে উঠতে পারে নাই আমি কি ধরনের মানুষ। সবার সহযোগিতা নিয়ে একটা মানুষ ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি সবার সহযোগিতায় আজকে এ পর্যন্ত এসেছি।
এ সময় তিনি রেলে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের যাত্রী সেবার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে আচরণ পরিবর্তনের কথা বলেন। পরে টিটিই শফিকুলের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সুজন।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে বৃহস্পতিবার বিনা টিকিটে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ঢাকাগামী আন্ত:নগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণ করেন মো. ইমরুল কায়েস (প্রান্ত) এবং হাসান ও ওমর নামের তিনজন। তারা মন্ত্রীর আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। তবে তাদের পরিচয় পাওয়া সত্ত্বেও জরিমানা করে টিটিই। মো. ইমরুল কায়েস প্রান্তর মা ইয়াসমিন আক্তার রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আকতার মনি’র ফুফাতো বোন। সে হিসেবে প্রান্ত রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের ভাগ্নে। আর প্রান্তর সঙ্গে রেলযাত্রায় অংশ নেন মন্ত্রীর ছোট মামা শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলমের দুই ছেলে হাসান ও ওমর।
চস/স


