সারাবিশ্বে চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সম্প্রতি আফ্রিকার বাইরে প্রায় দুই ডজন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে আরেক সংক্রামক রোগ মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। এতেই চলমান এক মহামারির মধ্যেই আবারও আরেক মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, মাঙ্কিপক্সের এই প্রাদুর্ভাব মহামারিতে রূপ নেবে না। আর তাই আপাতত ডব্লিউইচও এ বিষয়ে উদ্বিগ্নও নয়।
মঙ্গলবার (৩১ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ডব্লিউএইচও’র মাঙ্কিপক্স বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তিনি এমন আশা করেন না যে এখন পর্যন্ত পাওয়া শত শত রোগী থেকে এটি আরেকটি মহামারিতে পরিণত হতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, রোগটি সম্পর্কে এখনও অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে। এর মধ্যে রোগটি আসলে ঠিক কীভাবে ছড়ায় এবং কয়েক দশক ধরে গুটিবসন্তের গণটিকা কার্যক্রম বন্ধ রাখায় মাঙ্কিপক্সের বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে কি না সে বিষয়গুলোও রয়েছে।
সোমবার এক উন্মুক্ত সভায় ডব্লিউএইচও’র ড. রোসামুন্ড লুইস বলেন, ১২টিরও বেশি দেশে যেসব রোগী পাওয়া গেছে তাদের বেশিরভাগই সমকামী, উভকামী বা এমন পুরুষ যারা অন্য পুরুষদের সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছেন। তাই এই বিষয়ে জোর দেওয়া খুবই প্রয়োজন যেন বিজ্ঞানীরা বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করতে পারেন এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষজন সতর্ক হতে পারে।
লুইস মাঙ্কিপক্স বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র টেকনিক্যাল লিডার। তিনি বলেন, এটি ব্যাখ্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যে সংক্রমণের মাধ্যম বৃদ্ধি পেয়েছে, যেই বিষয়টা এর আগে পুরোপুরি লক্ষ্য করা হয়নি। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, কারো যৌন চাহিদা যাই হোক না কেন, যে কেউই সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত আগে মাঙ্কিপক্সের রোগী ছিল না এমন ২৩টি দেশে আড়াই শতাধিক রোগীর খবর জানা গেছে।
লুইস বলেন, এটা এখনও স্পষ্ট নয় যে মাঙ্কিপক্স যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে নাকি যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু সংস্পর্শের মাধ্যমেই ছড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষদের জন্য এর ঝুঁকিকে ‘কম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, গত ২৬ মে পর্যন্ত মাঙ্কিপক্স ভাইরাস ডব্লিউইচও’র ২৩টি সদস্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশ ও অঞ্চলে মোট ২৫৭ জন মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং প্রায় ১২০ জন সন্দেহভাজন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে।
চস/স


