spot_img

২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ

ফের ডায়রিয়ার প্রকোপ হালিশহর-পতেঙ্গায়

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ফের ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে নগরীর হালিশহর-ইপিজেড-পতেঙ্গা ও তৎসংলগ্ন এলাকাজুড়ে। মাত্র দুই দিনে এসব এলাকার বিভিন্ন বয়সী প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ পানিবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, ভর্তি হয়েছেন ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত বিআইটিআইডি হাসপাতালে। এরমধ্যে শুধুমাত্র গেল একদিনেই প্রায় একশ’ নারী-পুরুষ ও শিশু ভর্তি হন। যারা সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাতলা পায়খানার সঙ্গে বেশিরভাগ রোগীরই বমি হচ্ছে। ডায়রিয়ার সঙ্গে অন্য কোন জীবাণু আছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে রোগীদের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়। এদিকে, হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়ায় উদ্বেগের মধ্যে আছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে আলোচ্য অঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ খুঁজতে মাঠেও নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে স্থানীয় এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা এবং এলাকার পানি পরীক্ষার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও ‘দূষিত পানির’ কারণেই এসব এলাকায় বারবার পানিবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা চিকিৎসকদের। মাস দুয়েক আগেও হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লেও তাতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবারে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার থেকে হঠাৎ করেই ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকসার্স ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি শুরু হয়। গেল দুইদিনে হাসপাতালটিতে দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বিআইটিআইডি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, সোমবার শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার (গতকাল) ভর্তি হয় আরও ৩৫ জন। এদের অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, অধিকাংশই এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সবাই হালিশহর, ইপিজেড, পতেঙ্গা, ফ্রি পোর্ট, উত্তর আগ্রাবাদসহ আশপাশের এলাকার। তবে সব রোগীর শারীরিক অবস্থা ভাল আছে। কোন খারাপ রোগী নেই। এছাড়া এক পরিবারের একাধিক সদস্যও রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিআইটিআইডি হাসপাতালের পৃথক ওয়ার্ডে রেখে নারী-পুরুষদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীতে ভর্তি বিআইটিআইডি হাসপাতালের ওয়ার্ডের শয্যার ধারণ ক্ষমতার বেশি হওয়ায় বাড়তি রোগীদের মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আক্রান্তদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও রয়েছেন।

বিআইটিআইডির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পানিবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হওয়া চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও রয়েছেন। যাদের পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমির প্রবণতাও আছে। ইতোমধ্যে এসব রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, হালিশহর ও পতেঙ্গা অঞ্চলে জোয়ারের পানি ওঠে। গেল কিছুদিন আগেও এসব এলাকায় জোয়ারের পানিতে ভরপুর ছিল। ধারণা করা হচ্ছে এসব দূষিত পানির কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা তা নিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত রোগীদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।

রোগীদের নমুনা সংগ্রহ : ডায়রিয়ার সংক্রামকের সঙ্গে অন্য কোন জীবাণু আছে কি-না এবং ডায়রিয়া হওয়ার কারণ জানতে ইতোমধ্যে আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া তাতে কলেরার কোন জীবাণু আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে চায় চিকিৎসকরা। যার কারণে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়া রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। আজ (বুধবার) নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিআইটিআইডির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, ডায়রিয়ার সংক্রামকের সঙ্গে কলেরার জীবাণু আছে কি-না, নাকি অন্য কিছু, এসব জানতে রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও রোগটি দূষিত পানির কারণেই হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এসব তথ্য জানার প্রয়োজন। বুধবার (আজ) পরীক্ষার প্রতিবেদন আসলেই মূলত তা জানা যাবে।

সরাসরি ওয়াসার পানি পান করেন ৯০% রোগী : সাধারণত পানি ফুটিয়ে খাওয়ার নিয়ম হলেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশই তা অনুসরণ করেননি। তারা সকলেই ওয়াসার সরবরাহ পানি সরাসরি ফোটানো ছাড়াই পান করতেন। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের খোঁজ খবর ও তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমি ২০ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের ১৯ জনই আমাকে জানিয়েছেন তারা সরাসরি ওয়াসা থেকে সরবরাহ করা পানি (কাঁচা পানি) পান করেন। কেউই ফুটিয়ে পানি পান করেননি। অন্যজন ওয়াসার পানি পান না করলেও পাশের একটি হোটেল থেকে নিয়ে আসেন বলে জানান। ওই এলাকাগুলোতে আবার জোয়ারের পানিও ওঠে।

পরিদর্শনে সিভিল সার্জন : ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের খোঁজ খবর জানতে এবং ডায়রিয়া উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে বিআইটিআইডি হাসপাতাল এবং ডায়রিয়া উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে থাকা প্রতিনিধি দল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। সিভিল সার্জন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। এলাকাগুলোতে গিয়ে স্থানীয় আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকেও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সবগুলোতেই খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকেও আলোচ্য এলাকাগুলোতে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এরমধ্যে ২২ মে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। কিন্তু এ নিয়ে কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কোন দায়িত্বশীল সংস্থা। সূত্র: পূর্বকোণ

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss