বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ খুলশীর ফয়’স লেক এলাকার একটি হোটেল থেকে তাদের আটক করে। পরে এ ঘটনায় গতকাল মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আইমন দোভাষ, ইরফাত হোসেন, হাসনাত উল্লাহ, অরণ্য ঘোষ, ওমর ফারুক, শাহরিয়ার হান্নান, সাকিব খান, ফয়সাল চৌধুরী, আরাফাত হোসেন সিয়াম, সাইদ মোহাম্মদ আদনান, শুভ আহমেদ রনি। এ ছাড়া ইরফান নামে আরেক আসামি পলাতক রয়েছেন। চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের কেউ নন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।
খুলশী থানার ওসি বলেন মো. কবিরুল ইসলাম বলেন, ভুয়া সমন্বয়ক সেজে হামলা-লুটপাট করেছেন কিছু দুষ্কৃতকারী। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, নাজমুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে গতকাল মামলাটি করেন। তিনি খুলশী এলাকার প্যাসিফিক গেস্ট হাউসের মালিক।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় এবং বন্যার কারণে সেখান থেকে স্ত্রী, মেয়ে এবং ছেলেকে এনে তিনি তার প্যাসিফিক গেস্ট হাউসে রাখেন। গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গেলে তখন ইরফাত হোসেন তাকে ফোন করে হোটেলে আসতে বলেন। পরে তিনি হোটেলে গেলে দেখতে পান তিনি আসার আগেই সেখানে ঢুকে ভাঙচুর এবং তার ৯ বছরের ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। চলে যাওয়ার সময় তারা আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগর ৮৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মালামাল ও সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে যায়। এরপর তিনি আবার খবর পান একইভাবে ফয়’স লেক এলাকায় মোটেল সিক্স সনিক নামের আরেকটি আবাসিক হোটেলে ঢুকে মারধর এবং অবরোধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে লোকজন ও কর্মচারীরা তাদের আটক করে রাখেন। ব্যবসায়ী নাজমুল তখন টহলরত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সেখানে গিয়ে আসামিদের শনাক্ত করলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
চস/আজহার


