নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে নিজের বাড়ি থেকে তাকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নেপালের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত শুক্রবারই (২৭ মার্চ) নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জেন-জি আন্দোলনের নেতা বলেন্দ্র শাহ। তারপর ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই গ্রেফতার করা হল সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া এক গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিক্ষোভকারী।
মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও এর মূলে ছিল দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
এদিকে, র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ গত ৫ মার্চের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ওলি সরকারের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার একদিন পরই ওলির এই আটকাদেশ কার্যকর হলো।
উল্লেখ্য, গত বছর নেপালের সেই বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংসদ ও সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। যার ফলে শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটে।
সরকার-সমর্থিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গুলি চালানোর সরাসরি কোনো নির্দেশ ছিল, এটি প্রমাণিত হয়নি। তবে গুলি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, এবং এই অবহেলার কারণেই অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে।’
নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ, যিনি ওই বিক্ষোভের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন, ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়… এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা। আমি বিশ্বাস করি, এখন দেশ নতুন পথে এগোবে।’
চস/স


