ইতিহাসের চাকা কি তবে উল্টো ঘুরছে? ১৯৫৬ সালে ব্রিটিশরা সুয়েজ খাল দখল করতে গিয়ে যে ভুল করেছিল, তা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেক। আজ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের উত্তাল পরিস্থিতিতে অনেকেই আমেরিকার বর্তমান দশাকে সেই ব্রিটিশ পতনের সাথে তুলনা করছেন।
সুয়েজ সংকট ও ব্রিটিশদের পতন
এক সময় বলা হতো, “ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না।” কিন্তু ১৯৫৬ সালে সুয়েজ খাল সংকটে আমেরিকার সমর্থন না পেয়ে এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের হুমকিতে ব্রিটিশরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সেটি শুধু একটি সামরিক ব্যর্থতা ছিল না, বরং বিশ্বমঞ্চে ব্রিটেনের “সুপারপাওয়ার” স্ট্যাটাসের চূড়ান্ত সমাপ্তি ছিল।
হরমুজ ও লোহিত সাগরে আমেরিকার বর্তমান দশা
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমেরিকা নিজেকে বিশ্বপুলিশ হিসেবে দাবি করলেও, হরমুজ প্রণালী এবং বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই একে আমেরিকার “মান-সম্মান” ডুবানো বলা হচ্ছে।
প্রযুক্তির পরাজয়
বিলিয়ন ডলারের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আর অত্যাধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও, স্বল্পমূল্যের ড্রোন আর সাধারণ মিসাইল আক্রমণ ঠেকাতে আমেরিকা কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে।
বানিজ্যিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা: বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে না পারাটা আমেরিকার একক আধিপত্যের ওপর বড় এক চপেটাঘাত।
আঞ্চলিক মিত্রদের অনীহা
সুয়েজ সংকটে ব্রিটেন যেমন একা হয়ে পড়েছিল, বর্তমান লোহিত সাগর মিশনেও আমেরিকার অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র সরাসরি যোগ দিতে ভয় পাচ্ছে। সুয়েজের ঘটনায় ব্রিটেন আমেরিকা কে পাশে পায়নি হরমুজের ঘটনায় আমেরিকাও ব্রিটেনকে পাশে পাচ্ছে না। কি মধুর কো-ইনসিডেন্স।
ইতিহাস সাক্ষী, যখন কোনো পরাশক্তি তার প্রভাব ধরে রাখতে গিয়ে কৌশলগতভাবে ভুল করে এবং ছোট শক্তির কাছে বারবার নাজেহাল হয়, তখন তাদের সাম্রাজ্যের দাপট ফিকে হতে শুরু করে। সুয়েজ খাল যেমন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দম্ভ চুরমার করেছিল, হরমুজ আর লোহিত সাগরের বর্তমান পরিস্থিতি কি তবে আমেরিকান আধিপত্যের সূর্যাস্তের সংকেত?
লেখক: জাফর আলম (সূত্র: ফেসবুক)
চস/স


