বিদেশি ক্রেতারা যদি বাংলাদেশের দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে সেটা সাধারণত কয়েকটি কারণে হয়—যেমন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, শ্রম পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া, বা আন্তর্জাতিক মান বজায় না থাকা।
এই পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকারের কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—
১. রাজনৈতিক ও নীতি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা: বিদেশি ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় স্থিতিশীল পরিবেশকে। তাই নীতিমালা হঠাৎ পরিবর্তন না করে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থনৈতিক কাঠামো বজায় রাখা জরুরি।
২. শ্রম পরিবেশ ও কর্মস্থলের মান উন্নয়ন: কারখানাগুলোতে নিরাপদ কাজের পরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন এসব বিষয় খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
৩. রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা: কাস্টমস, বন্দরের কার্যক্রম, এবং পেমেন্ট সিস্টেম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারে।
৪. দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ঘুষ, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগী কমাতে হবে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বাড়ে।
৫. নতুন বাজার ও নতুন ক্রেতা আকর্ষণ: শুধু পুরনো ক্রেতার ওপর নির্ভর না করে নতুন দেশ ও নতুন ব্র্যান্ড টার্গেট করা দরকার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
৬. মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়ন: উৎপাদিত পণ্যের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রাখতে হবে। একই সঙ্গে “Made in Bangladesh” ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে হবে।
৭. অবকাঠামো ও জ্বালানি নিশ্চয়তা: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত সড়ক ও বন্দরের সুবিধা না থাকলে বড় ক্রেতারা আস্থা হারায়। তাই এসব খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন জরুরি।
বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করা।
লেখক: সাবেরা শরমিন হক
চস/স


