চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কারখানাগুলোর শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হয় এবং শুক্রবার থেকে কারখানাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশে এস আলমের অন্যান্য কারখানাতেও শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে।
এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, কাঁচামাল সংকট, এলসি খুলতে না পারা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এসব সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই কারখানাগুলো সংকটে ছিল।
এস আলম সুগারের শিফট ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসমত আলী বলেন, কাঁচামালের অভাবে গত দুই বছর ধরে কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। উৎপাদন না থাকলেও কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই বছর বেতন পরিশোধ করেছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, শুধু এস আলম সুগার থেকেই একসঙ্গে ৩৮৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাইকে অবসর ভাতাসহ প্রাপ্য বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন ধাপে ১৫ জন ও ৪০ জন করে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছিল।
কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া এস আলম গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হলো এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড-এনওএফ, এস আলম স্টিল এবং এস আলম ব্যাগ। এসব কারখানা কর্ণফুলীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত।
কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হলে শ্রমিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা নোটিশ পাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, শুধু সুগার কারখানা নয়, গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদেরই ছাঁটাই করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় কারখানাগুলো আগে থেকেই কার্যত বন্ধ অবস্থায় ছিল। তবে মজুত থাকা কাঁচামাল ব্যবহার করে সীমিত আকারে কিছুদিন উৎপাদন চলছিল। পূর্বেও কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও সম্পূর্ণ উৎপাদন বন্ধ করা হয়নি। এবারই প্রথম একযোগে সব প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা টানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা নিজ নিজ জায়গায় ফিরে যাক। সূত্র: সমকাল
চস/স


