spot_img

১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসছে নবম পে-স্কেলের গেজেট

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি করতে চায় সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোয় বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে। বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়া শুরু হলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতনও নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। পরে ওই তিন মাসের বকেয়া অর্থ সমন্বয় করা হবে।

এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। এখন সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহকে গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখার কথা বলা হয়েছিল। কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার, দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার, সপ্তমে ৫৮ হাজার, অষ্টমে ৪৭ হাজার ২০০, নবমে ৪৫ হাজার ১০০ এবং দশম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ১০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা মূল বেতনের সুপারিশ রয়েছে।

তবে এসব অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে। ফলে গেজেট প্রকাশের আগে বিভিন্ন গ্রেডের বেতনে পরিবর্তন আসতে পারে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠকের পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় যাবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

এদিকে জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব পক্ষের সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোর অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss