spot_img

১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রবিবার
৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

২৫ বছরেও হয়নি সংস্কার, বিলীনের পথে শত বছরের পুরোনো সড়ক

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ৭নং চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইব্রাহীমের খালের মুখ সংযুক্ত সড়কটি দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০০১ সালের পর থেকে সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এর বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জরিপের আরএস (R.S.) ও বিএস (B.S.) রেকর্ড/সিটে থাকা এই সড়কটি শত বছরেরও বেশি পুরোনো। একসময় সড়কটির প্রস্থ ছিল প্রায় ১৫ ফুট। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভাঙন, মাটি সরে যাওয়া এবং খালের পাড় ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে কোথাও কোথাও সড়কটির প্রস্থ মাত্র ২ থেকে ৩ ফুটে নেমে এসেছে। অনেক অংশ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে খালের সঙ্গে মিশে গেছে।

রেকর্ড থেকে সড়কের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে এর অস্তিত্ব সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি নথিতে থাকা সড়কটির অবস্থান নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, শত বছরের পুরোনো এই সড়কটি আরএস ও বিএস সিটে অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে কিছু স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের মদদে বিভিন্ন নথি ও রেকর্ড থেকে সড়কটির নাম বা উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের একটি পুরোনো সড়ক কীভাবে সরকারি রেকর্ডে থাকা অবস্থান থেকে পরবর্তী নথিতে বাদ পড়ল? বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত ও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এলাকাবাসীর মতে, পুরোনো আরএস ও বিএস রেকর্ড, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, সরকারি জরিপ নথি এবং সড়কের প্রকৃত সীমানা পর্যালোচনা করলে সড়কটির প্রকৃত অবস্থান ও ইতিহাস স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাবের কারণে সরকারি নথিতে পরিবর্তন বা সড়কের অস্তিত্ব আড়াল করার ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।

দুর্ভোগে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ

সড়কটি স্থানীয় জনগণের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, পথচারী, কৃষক, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে খালের রূপ নেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আশপাশের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি শুধু একটি সড়ক সংস্কারের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল, কৃষি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং একটি ঐতিহাসিক জনপথের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টি জড়িত।

তারা মাননীয় সাংসদ, বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি আরএস ও বিএস রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সড়কের প্রকৃত সীমানা ও প্রস্থ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ভূমি পরিমাপ, তদন্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী আরও দাবি করেন, সরকারি রেকর্ড থেকে সড়কের নাম বা অস্তিত্ব বাদ দেওয়ার অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ২৫ বছরের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে সড়কটি আবারও অবহেলা ও দখল-ভাঙনের শিকার না হয়, সে জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss