দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো পণ্য ও জাহাজ (ভ্যাসেল) হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ’স (টুয়েন্টি ফিট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিটস) কনটেইনার এবং ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯১ টন খোলা কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আগের অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ’স। সেই তুলনায় সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। একই সাথে বন্দরে কনটেইনার জাহাজের গড় অবস্থান সময় (টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম) আরও কমে মাত্র ২ দশমিক ৩৮ দিনে দাঁড়িয়েছে, যা বন্দরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির বড় প্রমাণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে বন্দর দিয়ে খোলা পণ্য (কার্গো) পরিবহণ হয়েছে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯১ টন, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ টন। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের বছরের ৪ হাজার ৭৭টি জাহাজের তুলনায় ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। আর কনটেইনারে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কার্গো, কনটেইনার ও ভ্যাসেল হ্যান্ডলিং- তিনটি সূচকেই নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিগত অর্থবছরের তুলনায় এবার কার্গোতে ৫ দশমিক ৩৬, কনটেইনারে ৬ দশমিক ৭৬ এবং ভ্যাসেল হ্যান্ডলিংয়ে ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতিরই প্রতিফলন। সূত্র: এনটিভি
চস/স


