সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিকল্পিতভাবে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই অগ্নিসংযোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি।
ডিআইজি জানান, এসব ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন-মনির হোসেন, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান ও মো. পারভেজ।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে চারটি উসকানিমূলক ব্যানার, কেরোসিন তেলের দুটি কন্টিনার ও একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তেলমাখা একটি লুঙ্গি ও একটি পুরোনো কালো শার্ট। এছাড়া একটি মোবাইল ফোন ও ঘটনাস্থলে যাতায়াতে ব্যবহৃত হওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার এক আসামি ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, গত ডিসেম্বর ২০২৫ সালে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে কয়েকটি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারগুলোতে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য লেখা ছিল। সেখানে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল। তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রথমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ধারাবাহিক অভিযানে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। চক্রটির সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে।
চস/স


