spot_img

৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বুধবার
২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

আনোয়ারায় ১৫ বছরে হারিয়েছে ২০৮৮ পুকুর-দীঘি

দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বিশাল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তমহাটের গইরগে পুকুর। এই পুকুরে রুস্তমহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লিরা অজু করতেন। এ ছাড়া বাজারের কয়েকশ দোকানি পুকুরটি ব্যবহার করতেন। একসময়ের দৃষ্টিনন্দন পুকুরটি এখন অস্তিত্ব হারিয়ে বিলীন প্রায়।

পুকুরের চারপাশে আবর্জনার স্তূপ আর পুকুর জুড়ে কচুরিপানার রাজত্ব। কচুরিপানা আর আগাছার আধিক্য দেখে মনে হয় পুকুর তো নয়, যেন সবুজ মাঠ। একসময়ের প্রাণের এই পুকুরটি বর্তমানে পরিত্যক্ত মনে হলেও তা কিন্তু নয়। অতিলোভী বিভিন্ন মহল অনেকটা কৌশলে পুকুরটি ভরাট করে যাচ্ছে। ভরাটের পর তাতে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা দোকানপাট।

শুধু এ পুকুরটিই নয়, এমন আরও বহু পুকুর রয়েছে, যা কৌশলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও প্রকাশ্যে বা রাতের আঁধারে চলে পুকুর ভরাটের কাজ। এভাবে উপজেলায় গত প্রায় ১৫ বছরে ২ হাজার ৮৮টি পুকুর ও দীঘি হারিয়ে গেছে। এতে মৎস্যসম্পদের ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পরিসংখ্যান মতে, ২০০৯ সালে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পুকুর ও দীঘি ছিল ৬ হাজার ৫৭০টি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান মতে, পুকুর ও দীঘি কমেই ঠেকেছে ৪ হাজার ৪৮২টিতে। জলাধার রক্ষায় আইন থাকলেও সেগুলো না মানায় একের পর এক ভরাট হয়ে গড়ে উঠছে আবাসন। সরকার জলাধার রক্ষায় ২০০০ সালে আলাদা আইন করলেও এর কোনো সুফল নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পশ্চিম ডুমুরিয়া ওসমান পুকুরে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে প্লট তৈরি করে বিক্রি করছে মালিকপক্ষ। সিংহরা রাস্তার মাথার পুকুরটির কিছু অংশ ভরাট করে দোকান নির্মিত হয়েছে। বটতলী রুস্তমহাটের গইরগে পুকুরের দুইপাশ ভরাট করে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। একই এলাকার উজির আলী জামে মসজিদ পুকুরের অর্ধেক ভরাট করে ফেলা হয়েছে। উপজেলা সদরের জয়কালী বাজারের ব্রাহ্মণ পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে আনোয়ারা সিটি সেন্টার। একই এলাকার ধোপা বাবুলের পুকুর ভরাট করে নির্মিত হয়েছে দীপু মনি শপিং সেন্টার। ভট্টাচার্য্য বাড়ির পুকুরটিও আর নেই। দেওয়ানজি ও সরস্বতী পুকুরটি নানাভাবে দখল ও ভরাট করে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অনেক পুকুর দখল ও ভরাট করা হচ্ছে। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। প্রশাসনের নাকের ডগায় পুকুর ভরাট হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অথচ আইনে বলা আছে, কোনো অবস্থায় খাল, বিল, নদী-নালা, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের স্বাভাবিক গতি ও প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না। এমনকি সড়ক-মহাসড়ক, সেতু-কালভার্ট নির্মাণকালেও প্রাকৃতিক জলাশয়, জলাধার, খাল-নদী ইত্যাদির স্বাভাবিকতা নষ্ট করা যাবে না। জনস্বার্থে ও একান্ত প্রয়োজন হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের সাবেক ইনচার্জ মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপণে পানির উৎস হচ্ছে পুকুর বা জলাশয়। উপজেলার অনেক জায়গায় আগুন নেভাতে গিয়ে পানির উৎস না পেয়ে বেগ পেতে হয়েছে। বড় ধরনের অগ্নিকান্ড হলে আগুন নেভাতে পানির সংস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়বে। জমির মালিকরা যে যার মতো পুকুর ভরাট করে ফেলবে এমনটা হতে পারে না। একটা পুকুর আশপাশের মানুষের জীবনমাল রক্ষা করছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, ‘পুকুর ভরাটের বিষয়ে খবর পেলেই আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, ‘পুকুর ভরাট বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আনোয়ারায় বেশ কিছু পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র: দেশ রূপান্তর

চস/স

 

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss