spot_img

১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বুধবার
২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন প্রথম বাংলাদেশি রুতবা

প্রথম বাংলাদেশি ও নারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন রুতবা ইয়াসমিন। ‘স্পেস নেশন’-এর মুন পায়োনিয়ার মিশনের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে চাঁদে পা রাখার দৌড়ে সামনের সারিতে আছেন। গত ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন জানায়, তাদের মিশনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যই নারী এবং রুতবা তাদের একজন।

রুতবা ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজে যান। ২০১৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি এবং গণিতে মাইনর শেষ করেন। পরবর্তীতে কোভিডের সময় বাংলাদেশে ফিরে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডেটা সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মহাকাশ আবহাওয়া নিয়ে রুতবার গবেষণা। বিশেষ করে ‘ভূচৌম্বকীয় ঝড়’ তাঁর আগ্রহকে আরও গভীর করে। রুতবার অনুপ্রেরণা ছিলেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। রুতবা মনে করেন, মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত, তবে এটি পরিবর্তনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, ‘মহাকাশ শিল্পে মাত্র ১১ শতাংশ মহাকাশচারী নারী। এ চিত্র বদলানো জরুরি।’

‘মুন পায়োনিয়ার মিশনে’ তাঁর প্রশিক্ষণ ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। স্পেসস্যুট পরা, ইভিএ বা মহাকাশের বাইরে কাজ এবং মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ রক্ষা করার কৌশল শেখা ছিল মূল বিষয়। সিমুলেশনে একটি বিপজ্জনক ত্রুটির সময়, রুতবা জরুরি ইভিএ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে তিনি মিশন কন্ট্রোলের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দলের সদস্যদের আইএসআরইউ (স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার) মডিউলের দিক নির্দেশনা দেন।

রুতবার মতে, এই মিশন দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও চাপের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দারুণ এক পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাফল্য ছিল প্রস্তুতি, সমন্বয় ও নেতৃত্বের ফল।’ তাঁর দল, ‘ম্যাগ৭’ এই মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

মানসিক সুস্থতা ও শারীরিক প্রস্তুতিও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মহাকাশে সুস্থ থাকতে ভালো ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, এবং পরিচ্ছন্নতার বিকল্প ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

রুতবা ভবিষ্যতে চাঁদের ওপর গবেষণা, নমুনা সংগ্রহ এবং আর্টেমিস মিশনের মতো বড় প্রকল্পে কাজ করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, শুধু চাঁদে পা রাখা নয়, ইতিহাস গড়ে নারীদের সামনে পথ খুলে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি মহাকাশ অনুসন্ধানে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চাই’। সূত্র: টিবিএস

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss