spot_img

৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বুধবার
১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নিবেন আজ

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হচ্ছে আজ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১১তম প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতীক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও।

এদিকে আজ সকাল ১০টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠানগুলো হচ্ছে সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে। দক্ষিণ প্লাজায় নির্মিত হয়েছে অস্থায়ী বিশাল মঞ্চ ও ভিভিআইপি জোন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন মেরামত করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক এ মুহূর্ত উদযাপিত হবে।

সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তিন ধাপে, প্রতি ধাপে ১০০ জন করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নেন।

এরপর দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। অন্যদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।

নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এর মাধ্যমে সমাপ্ত হলো একটি ঐতিহাসিক ক্রান্তিকাল।

তারেক রহমান তার নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘৩১ দফা’এবং ‘জুলাই সনদ’বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজকের এই অভিষেকের মধ্য দিয়ে সেই সংস্কার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯১ সাল থেকে দেশে পর্যায়ক্রমে বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার শাসনামল ছিল।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss