spot_img

২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, বুধবার
১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ

রাশিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে নিহত প্রিগোজিন

রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে তিনি ও তার বাহিনী আড়াল থেকে প্রকাশ্যে আলোচনায় আসেন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন তিনি। ছিলেন পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিন্তু কালের পরিক্রমায় তিনিই হয়ে উঠেন পুতিনের সবচেয়ে বড় শত্রু।

বুধবার (২৩ আগস্ট) রাশিয়ার তেভের অঞ্চলে বিমান বিধ্বস্তে মারা যান ওয়াগনার প্রধান। বিমানটিতে তিনি ছাড়াও আরও ৯জন যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে তিনজন ছিলেন ক্রু সদস্য। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হন। রাশিয়ার জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুর্ঘটনার শিকার প্রাইভেট জেটটি মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে যাচ্ছিল। তেভের অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমের খুজেনকিনো গ্রামের কাছেই এই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।

সেন্ট পিটার্সবুর্গে বেড়ে ওঠা প্রিগোজিনের। ১৯৮০’র দশকে চুরি ও রাস্তায় ছিনতাইয়ের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৯ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন প্রিগোজিন।

১৯৯০ দশক থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার পরিচয়। ক্রেমলিনের বিভিন্ন খাবারের চুক্তি পাওয়ার মাধ্যমে ধনকুবের হয়ে ওঠেন তিনি। একসময় তিনি ‘পুতিনের শেফ’ হিসেবে পরিচিত পান।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসে রাশিয়াপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পর প্রিগোজিন একজন নির্মম সেনাপতি হিসেবে আবির্ভুত হন। তিনি গড়ে তুলেন ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ। এই বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে লড়াই করে। বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছে।

ওয়াগনার যোদ্ধারা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, সুদান, লিবিয়া, মোজাম্বিক, ইউক্রেন ও সিরিয়াতে রয়েছে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সিএনএন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি কুখ্যাতি অর্জন করেছেন। বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করার ক্ষেত্রে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর আলোচনায় চলে আসেন প্রিগোজিন। পূর্ব ইউক্রেনের সলেদার শহর দখলের রুশ অভিযানের নেতৃত্বে ছিল ওয়াগনার যোদ্ধারা। এটি বাখমুত থেকে কয়েক মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে।

গত কয়েক মাস ধরে প্রিগোজিন রাশিয়ার সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা করে আসছেন। মে মাসে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন বাখমুত থেকে তার যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করা হবে। এর আগে কয়েক মাস ধরে পর্যাপ্ত গোলাবরুদ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন তিনি।

এখন তিনি ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরুর পরই তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রকাশ্যে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমালোচনায় রুশ সরকারের অনেকেই ক্ষুব্ধ এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সূত্র: সিএনএন

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss