spot_img

২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, রবিবার
৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ

চবি শাখা ছাত্রলীগের হল ও অনুষদ কমিটি গঠনের উদ্যোগ

মেয়াদোত্তীর্ণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগ হল এবং অনুষদগুলোর কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক এহছান আহমেদ প্রত্যয়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়েছে।

এতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে হল ও অনুষদ কমিটিকে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের তালবাহানা ও কর্মীদের সাথে প্রতারণা বলে দাবি করছেন নেতাকর্মীরা। এই ইউনিটকে গতিশীল করতে নতুন নেতৃত্ব আনার দাবি তাদের।

জানা যায়, বিগত তিন যুগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে সাতটি। প্রতিটি কমিটিই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো হল ও অনুষদ কমিটি ঘোষণা দিলেও সফল হতে পারেননি। এবার প্রায় তিন যুগ পরে হলেও আবারো হল ও অনুষদ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ছাত্রলীগের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। শুধু ছাত্রলীগই নয়, বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলও হলও অনুষদ কমিটি গঠন করে ব্যর্থ। আবারো হল ও অনুষদ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ছাত্রলীগের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রকিবুল হাসান দিনার বলেন, ‘যোগ্য ও পরিশ্রমিরা বাদ পড়েছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। অথচ কমিটি পুনর্গঠন না করে হল-অনুষদ কমিটি করতে চাচ্ছে দুই নেতা। বিষয়টি বাদ পড়া ত্যাগী কর্মীদের সাথে প্রতারণার শামিল।’

তিনি বলেন, ‘হল ও অনুষদ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে আমরাও সাধুবাদ জানাবো। তবে যেসব সিনিয়র নেতা যারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বাদ পড়ছে তাদেরকে পদায়নের পর। কারণ তারাতো হল ও অনুষদ কমিটিতে আসবে না। তাদের সাথে তালবাহানা করছে সভাপতি ও সম্পাদক। আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি বর্ধিত করে তারপর হল-অনুষদ কমিটি করা হোক। মূলত কমিটি বর্ধিত করতে চলমান আন্দোলনকে ধামাচাপা দিতে দুই নেতা এমন চল চাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন।’

আরেক সহ-সভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, ‘এক বছরের কমিটি তিন বছর অতিক্রম করেছে। এখন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সেটা না করে হল-অনুষদ কমিটি গঠনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। সভাপতি-সম্পাদক ষড়যন্ত্রের যে নীল নকশা শুরু করছেন, তা চবি ছাত্রলীগের জন্য আবারো অভিশাপ বয়ে আনবে। কোনো ক্রিমিনালের কাছে চবি ছাত্রলীগ জিম্মি থাকতে পারে না। এই মুহূর্তে চবি ছাত্রলীগকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে হলে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নেই।’

তবে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হল-অনুষদ কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আছে কয়েক হাজার। যতোই চেষ্টা করি সবাইকে তো কমিটিতে সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি দিতে। তবুও অনেকে আন্দোলন করেছে পদের দাবিতে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে এবং বাদ পড়া যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে আমরা হল ফ্যাকাল্টি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চবি হল কমিটি গঠন করা হয়নি। এ দীর্ঘ সময় পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার পাশাপাশি হল ও অনুষদগুলোর কমিটি গঠন করবো। সামনে নির্বাচন। কর্মীদের উৎসাহিত করতে ও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে হল ও অনুষদ কমিটি গঠন করা হবে।’

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে রেজাউল হক বলেন, ‘বিতর্কিত কেউ থাকলে প্রমাণসহ দিতে বলেছি। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। শুধু মৌখিক অভিযোগে তো আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। আর কমিটি তো আমরাই গঠন করি না, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে কমিটি হয়’।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই চবি শাখা ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ছয় বছর পর গত জুলাইয়ে ঘোষণা করে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিতে মোট সদস্য হবেন ১৫১ জন। তবে গঠনতন্ত্র ভেঙ্গে চার শতাধিক সদস্যের বিশাল কমিটি গঠন করা হলেও সন্তুষ্ট হননি নেতাকর্মীরা। কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপগুলো।

তাদের দাবি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অনেকেরই ছাত্রত্ব নেই, কেউ বিবাহিত, কেউ বা করছেন চাকরি। কারো নামে আবার আছে একাধিক মামলাও। অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির। ছাত্রী হেনস্তায় বহিষ্কার হওয়া কয়েকজনও পদ পেয়েছেন কমিটিতে। এমন বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে ‘টাউস কমিটি’ গঠনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও। সূত্র: পূর্বকোণ

চস/এস

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss