spot_img

২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অনলাইন ডেস্ক

সর্বশেষ

উৎপাদনে দুই দিন না যেতেই ফের বন্ধ সিইউএফএল

প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে গ্যাস সরবরাহ পেয়ে উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কিন্তু দুই দিন না যেতেই আবারও কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

কারিগরি সমস্যার কারণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যাটি সমাধানে কাজ চলছে। আগামী রোববার অথবা সোমবারের দিকে কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে সিইউএফএলে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। প্রথমে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু উৎপাদন শুরুর ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে আবারও কারিগরি সমস্যায় কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেল।

সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ছয় মাস ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ ছিল। গত ২৫ আগস্ট কারখানাটিতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন হওয়ায় তখনই উৎপাদন শুরু করা যায়নি।

গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হয়। প্রস্তুতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর পরও কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সমাধান করে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে তখন জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাটির যন্ত্রপাতির ওপরও এর প্রভাব পড়ে। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগে।

সিইউএফএল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা। কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন। গ্যাস-সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে বন্ধ হওয়ার আগে গত দুই বছরেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক দফা উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এবার উৎপাদনে ফিরলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss