spot_img

৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে: বন্দর চেয়ারম্যান

শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসূচির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেছেন, জনগণকে জিম্মি করে কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা, আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি। বন্দর যে আইনে চলে, সেই আইনের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা বলেন।

এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল আছে। যারা এসব করছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। রমজানের আগে এ ধরনের একটা কাজ করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তারা। বন্দর সচল আছে। আমি ২ ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবে। কেউ বাধা দেবে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিকেলে শ্রমিকরা দুদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

ওইদিনই বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত ১৫ শ্রমিক নেতার স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। আন্দোলনের মধ্যে তাদেরকে প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তালিকার অন্যরা হলেন- মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

এর প্রতিবাদে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া দেন।

রোববার সকাল থেকে ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো, বহির্নোঙরসহ বন্দরের সব স্থানে কাজ বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন গেটের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss