চট্টগ্রামে এক দিনের বিরতির পর আবারও শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে নগরের ইস্পাহানি সি-গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে প্রায় হাঁটুপানি জমেছে। পানি মাড়িয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। বৃষ্টির কারণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মস্থলগামী মানুষ। ছাতা-রেইনকোট পরে কর্মস্থলে যেতে দেখা যায় তাদের। নগরের বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়। যাত্রীদের অভিযোগ, রিকশা-অটোরিকশা পাওয়া গেলেও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন চালকেরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শেষ ১২ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১২৯ মিলিমিটার। তিনি আরও জানান, এই বৃষ্টি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামেও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
এর আগে, গত ৪ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ১৫ হাজার ৯১১ দশমিক ১৬ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫৩টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর, দিঘি ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে যাওয়ায় ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চস/স


