কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেয়া কারফিউ পুরোপুরি না উঠলে ট্রেন পরিচালনা করবে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে যারা ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট কেটেছেন তাদের টাকা ফেরত দেবে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান- দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। বৈঠকে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা কঠিন বলে মতামত দেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। তিনি জানান, এখনো দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কারফিউ চলমান থাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। টিকিট কাটার জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সেবাও এখন নেই। এ কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে কারফিউ চলাকালীন আমরা আপাতত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছি।
জিল্লুল হাকিম বলেন, যদি পরিস্থিতি অনুকূলে আসে, কারফিউ যদি উঠে যায়, টিকিট কাটার জন্য ইন্টারনেট সেবা যদি পর্যাপ্ত থাকে তখন আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। সরকারের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপাতত যাত্রীবাহী ট্রেন চলছে না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে মালবাহী ও বিশেষ নিরাপত্তায় তেলবাহী কন্টেইনার ট্রেন চালানো হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৪ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করে এই পরিমাণ আয় করে থাকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল যতদিন বন্ধ থাকবে ততদিন রাজস্ব আয় বঞ্চিত হওয়ার এই পরিমাণ বাড়তে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যায় যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল। এর মধ্যে ২৪ জুলাই সীমিত পরিসরে কয়েকটি মালবাহী ট্রেন পরিচালনা করে রেলওয়ে। তবে পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এর বাইরে বর্তমানে বিজিবি প্রহরায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিলেটসহ কয়েকটি গন্তব্যে কিছু তেলবাহী ট্রেন চলাচল করছে।
চস/স


