spot_img

২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, রবিবার
৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট

সর্বশেষ

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমায় আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনা

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে বার্ষিক জমার ওপর বিদ্যমান আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা বর্তমানে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। স্বল্প অঙ্কের আমানতকারীদের করের বোঝা থেকে কিছুটা রেহাই দিতে আগামী বাজেটে সরকার এই শুল্ক অব্যাহতি দিতে পারে।

বর্তমানে ৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক রয়েছে ১৫০ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪০ লাখ অ্যাকাউন্টধারীর হিসাবে তিন লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রয়েছে। অর্থাৎ বাজেটে সরকার এই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ওই পরিমাণ ব্যাংক হিসাবধারী আবগারি শুল্ক ছাড়ের নতুন সুবিধা পাবেন।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে, সরকারের রাজস্ব ছাড় হবে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ব্যাংক আমানতের ওপর প্রাপ্ত সুদের ওপর আয়কর রয়েছে; আবার ব্যাংক যে চার্জ কর্তন করে, তার ওপর ভ্যাট রয়েছে। এর পর ওই অর্থের উপর আবগারি শুল্ক কর্তন করা অযৌক্তিক, যা এনবিআরের বছরের পর করে আসছে।

গত বুধবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান ব্যাংক জমায় আগামী বাজেটে আবগারি শুল্কে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অবশ্য এর বাইরে তিনি আর কিছু জানাননি।

তিনি বলেন, ‘আবগারি শুল্কে ছাড় দেওয়ার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআর কর্মকর্তাদের সভায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে । সরকার এ সিদ্ধান্তে অটল থাকলে আগামী বাজেটে তা উপস্থাপন করতে পারে এনবিআর, যা জুনে অর্থমন্ত্রীর সংসদে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

কাস্টমস পলিসি উইংয়ের সাবেক এনবিআর সদস্য মো. লুৎফর রহমান ব্যাংকে জমা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক কাটাকে অযৌক্তিক বলে মত দেন। তিনি বলেন, ‘একই অ্যাকাউন্টের সুদের ওপর আয়কর কর্তন করা হয়। আবার যেকোনো সার্ভিস চার্জ হিসেবে ব্যাংক যে টাকা নেয়, এর ওপর ভ্যাট আদায় করে থাকে। তাহলে আবার আবগারি শুল্ক আদায় করতে হবে কেন?’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সহজে আদায়ের উপায় হিসেবে এনবিআর এই অর্থ আদায় করে, কেননা ব্যাংকগুলো এই অর্থ আদায় করে দেয়। তিনি বলেন, ভ্যাট ও আয়কর নেওয়ার পর আলাদা করে আবগারি শুল্ক নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

আবগারি শুল্কের বিদ্যমান কাঠামো

চলতি বছর আবগারি শুল্ক থেকে সরকার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সাধারণত যেকোনো অ্যাকাউন্টে বছরের যেকোনো সময়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ যে জমা হয়, ওই অঙ্কের ওপর ভিত্তি করে আবগারি শুল্ক কর্তন করা হয়।

বর্তমানে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানতে কোনো আবগারি শুল্ক নেই। তিন লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫০ টাকা কর্তন করা হয়। পাঁচ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০ টাকা কর্তন করা হয়।

দশ লাখ ১ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমায় ৩ হাজার টাকা, পঞ্চাশ লাখ ১ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা, এক কোটি ১ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা, দুই কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার ওপরে যেকোনো পরিমাণ জমার ওপর ৫ হাজার আবগারি শুল্ক রয়েছে। সূত্র: টিবিএস

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss