spot_img

৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

গাজীপুরে ৫ জনকে হত্যা: অভিযুক্ত ফোরকান সম্পর্কে যা জানাল পুলিশ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৩ শিশু ও মাসহ ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকানের গতিবিধি শনাক্তের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামি মো. ফোরকান মোল্লা (৪০) গত ১১ মে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরিফ উদ্দীন।

৯ মে ভোরে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক ছিলেন।

নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তাদের সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক মো. রসুল মোল্লা (২২)।

এসপি জানান, ফোরকান ৮ মে রাতে শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক মিশিয়ে স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। পরে ভোরের মধ্যে যেকোনো সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা মো. শাহাদাত মোল্লা মামলা করলে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তকাজে নামে।

এসপি শরিফ উদ্দীন জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। নিহত পাঁচজনের মরদেহের সুরতহাল করা হয়।

তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ১১ মে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন মেহেরপুর সদর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, একটি ট্রাকের হেলপার পদ্মাসেতুর মাঝামাঝি এলাকায় রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে নিয়ে নেন।’

‘পদ্মাসেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, ১১ মে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা একজন একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মায় ঝাঁপ দেন। তদন্তে ওই ব্যক্তিকে ফোরকান মোল্লা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে,’ বলেন এসপি।

পুলিশের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ফোরকান পদ্মাসেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। এ বিষয়ে পদ্মা সেতু সংলগ্ন থানাগুলোতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।

পুলিশ জানায়, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামে। প্রায় ২০ বছর আগে শারমিন ও ফোরকানের বিয়ে হয়। বছরখানেক ধরে সন্তানসহ তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে থাকতেন।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss