টানা চারদিন বৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বেশিরভাগ এলাকা ডুবে গেছে। গত ১৯ জুন (রোববার) রাত থেকে নগরীর অলিগলি, সড়ক, বাড়িতে পর্যন্ত হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার দোকানপাটেও ঢুকে পড়েছে পানি।
গতকাল সোমবারও সরজমিনে একই দৃশ্য দেখা যায়। জলাবদ্ধতার সঙ্গে ভারি বৃষ্টির কারণে অফিসগামীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে নগরীর কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২নং গেট এলাকায় জলজটের দুর্ভোগ ছিল বেশি। একইসঙ্গে লালখানবাজার-বহদ্দারহাট আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যানজটের কবলে পড়েছে অসংখ্য গাড়ি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার (২০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। চট্টগ্রামের এ বৃষ্টিপাত সারাদেশের মধ্যে রেকর্ড বৃষ্টি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তাছাড়া আগামী দুই থেকে তিনদিন ভারি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
চারদিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, শুলকবহর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২নং গেট বাদেও বাকলিয়া ডিসি রোড, আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, মোগলটুলি, ট্রাঙ্ক রোড, তালতলা, চাঁন্দগাও আবাসিক, খতিবের হাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, ফিরিঙ্গিবাজার, আলকরণ, বাকলিয়া আবদুল লতিফ হাটখোলা সড়কে পানি জমে যায়।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে সোমবার সকালে নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার খান বাড়ির নিচ তলায় পানি জমে আইপিএসের বিদ্যুতে শর্ট সার্কিট হয়ে বাসার দারোয়ান ও গাড়ির চালকসহ দুইজন প্রাণ হারায়। একইভাবে পাঁচলাইশের চশমা হিলে পাহাড় ধসে স্কুলপড়ুয়া এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একইভাবে গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও আকবর শাহ এলাকায় পাহাড়ধসে দুই পরিবারের চারজন প্রাণ হারায়।
নগরী বাদেও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে। হাটহাজারি সড়কে পানি জমে যাওয়ার কারণে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি সড়কের অসংখ্য যানবাহনকে। এতে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, আগামী দুই থেকে তিনদিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি পাহাড়ধসের সতর্কতা বার্তা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাড়িও। বহদ্দারহাটের বহদ্দার বাড়িতে মেয়রের নিজের বাসভবনের নিচতলায় হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়।
চস/আজহার


