বিশ্বকাপ জিততে হলে দলে একজন জাদুকরের প্রয়োজন। আর ব্রাজিলের সেই চিরচেনা জাদুকরের নাম— নেইমার জুনিয়র। শেষ পর্যন্ত সব শঙ্কা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, নেইমারকে ছাড়াই বিশ্বকাপে যাওয়ার বড় ঝুঁকিটা আর নিলেন না সেলেসাওদের মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে যখন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করছিলেন আনচেলত্তি, ঠিক তখনই এলো সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সেলেসাও বসের মুখে নেইমারের নাম উচ্চারিত হতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল পুরো সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। এই একটা নামের প্রতীক্ষাতেই তো ছিলেন কোটি ব্রাজিল সমর্থক।
চোট যার ক্যারিয়ারের নিত্যসঙ্গী, সেই নেইমারকে দলে নেওয়ার পেছনে অবশ্য কঠিন শর্ত ছিল আনচেলত্তির। শর্তটা ছিল শতভাগ ফিটনেস। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ভয়াবহ চোটের পর দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন তিনি। আল হিলাল অধ্যায় চুকে ফেলে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসার পরই যেন পুনর্জন্ম হয় এই তারকার। সেখানে নিজেকে ফিরে পেয়েই মূলত বিশ্বকাপের টিকিট কাটলেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৭৯ গোলের এই মালিক।
নেইমারকে দলে নেওয়ার পেছনে কোচের যুক্তিটাও বেশ পরিষ্কার। আনচেলত্তি জানান, “নেইমার সম্প্রতি ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে খেলছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে নিজের শারীরিক অবস্থা আরও উন্নত করার সুযোগ পাবে সে। এই ধরণের হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা এবং ড্রেসিংরুমে তার প্রতি সবার ভালোবাসা দলের পরিবেশকে আরও চাঙা করবে। তবে স্কোয়াডের বাকি ২৫ জনের মতোই তার দায়িত্ব। সে মাঠে খেলবে, নাকি বেঞ্চে থাকবে— সেটা পরিস্থিতিই বলে দেবে।”
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২-এর পর এবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন নেইমার। যখন তার বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে আসছিল, তখন তার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কাফু এবং রোমারিওর মতো কিংবদন্তিরা। এমনকি সাবেক তারকা রোমারিও তো বলেই বসেছিলেন, হেক্সা মিশনের জন্য অর্ধেক ফিট নেইমারকেও দলে চান তিনি। কিংবদন্তিদের সেই বিশ্বাস এবার সত্যি হলো।
তবে আনচেলত্তির ঘোষিত দলে বড় চমক ছিল গোলরক্ষক পজিশনে। বেন্তো ও হুগো সুজোকে বাদ দিয়ে স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন অভিজ্ঞ ওয়েভারতন। আনচেলত্তির মতে, বিশ্বকাপের মতো আসরে স্নায়ু চাপ সামলাতে ওয়েভারতনের মতো অভিজ্ঞ তারকার বিকল্প নেই।
অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে আনচেলত্তি যে দল সাজালেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও সেই নেইমার। শেষ পর্যন্ত নেইমারের ম্যাজিকেই কি তবে ধরা দেবে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন?
বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল
গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও)।
ডিফেন্ডার: গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত)।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)।
ফরোয়ার্ড: নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), এনদ্রিক (লিওঁ), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), রায়ান (বোর্নমাউথ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত)।
চস/স


