চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নগরীর বাসিন্দারা। ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে শনিবার বিকেলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আজ রোববারও চুলা জ্বলছে না ঘরে। বাড়তি টাকা দিয়ে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। একই কারণ দেখিয়ে গণপরিবহনেও ভাড়া বেশি আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশ কোম্পানি লিমিডেটের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে ১৯ মে পর্যন্ত চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাস-সংকট থাকবে। বর্তমানে মজুত থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধারণত ৮০ থেকে ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকে তাঁদের।
চট্টগ্রামে কেজিডিসিএলের সংযোগ আছে ৬ লাখ ১ হাজার ৯১৪টি। এর মধ্যে গৃহস্থালি সংযোগ ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১টি। দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাওয়া যায় ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোও। সিএনজিচালিত বেশিরভাগ যানবাহনের গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে। যেসব যানবাহন চলাচল করছে গ্যাস না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সেগুলোতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সিএনজিচালিত মিনিবাসে উঠানামায় সাধারণত ভাড়া ৫ টাকা। সিএনজি সংকটের অজুহাতে রোববার দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে। নগরীর বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত সিএনজিচালিত মিনিবাসের ভাড়া হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকা। কিন্তু আজ দুপুরে উঠানামা ভাড়া আদায় ২০ টাকা আদায় করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে গাড়ির চালক-সহকারীদের বাদানুবাদ চলছে। আগ্রাবাদ মোড়ে কথা হয় আবদুর রহমান নামের একজন যাত্রীর সঙ্গে। তিনি সমকালকে বলেন, ‘সিএনজি পাওয়া না যাওয়ার অজুহাতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আমরা যাত্রীরা অসহায়।’ এভাবে অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন আরও কয়েক যাত্রী।
চস/আজহার


