ঢাকায় জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জামিন পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন-এর আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন জানানো হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই লালবাগ থানা এলাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। সে সময় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতে তার রিমান্ড আবেদন খারিজ হওয়ায় তিনি কারাগারে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় তিনি ভবনটির একটি গোপন কক্ষ বা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় বলে জানা যায়।
এরপর থেকে তিনি কোথায় ছিলেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। তিনি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে চলে গেছেন এ নিয়েও বিভিন্ন আলোচনা ছিল।
দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গত ৭ এপ্রিল ভোররাতে ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) হত্যা মামলাও রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে তারসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার (৩২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে আসামিদের চাপে মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
চস/স


