spot_img

১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার
২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সর্বশেষ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ মার্চ দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্রে রূপ নেয়। এ ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় বিধানের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এছাড়াও এ ভাষণটি পৃথিবীর অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাক্সিক্ষত মুক্তির লক্ষ্যে। -বাসস

১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। বঙ্গবন্ধু দরাজ গলায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি’ এরপর জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতার মহাকাব্যের কবি ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম…, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকা-ের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।

চসিক : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আজ টাইগারপাস অস্থায়ী নগর ভবনের সম্মুখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড় ও আইল্যান্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি-ইতিহাস সম্বলিত ৪টি ড্রপ ডাউন ব্যানার প্রদর্শিত হবে।

মহানগর আ. লীগ : এ উপলক্ষে জেলা পরিষদ চত্বরে আজ মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা, সদস্যবৃন্দ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্ব স্ব সংগঠনের ব্যানার সহকারে সমাবেশ স্থলে যোগদানের জন্য মহানগর আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন আহ্বান জানিয়েছেন।

শিশু একাডেমি : এ উপলক্ষে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শিশু কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় ছোট শিশুদের শ্রেণিভিত্তিক দুটি বিভাগে ভাগ করে ছড়াপাঠ প্রতিযোগিতা এবং শ্রেণিভিত্তিক তিনটি বিভাগে ভাগ করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। বিকেলে একই জায়গায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি প্রতিযোগিতায় মোট ৩৯০ জন প্রতিযোগী অংশ গ্রহণ করে। জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোছলেহ উদ্দিন বলেন, প্রতিযোগিতায় শিশুরা তাদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss