চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে চাপা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুর ঘটনায় আট দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে দুর্ঘটনায় জড়িত লরির চালক ও মালিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আট দফা দাবিতে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দুর্ঘটনার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, সড়ক প্রশস্তকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দুই পাশে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কেডিএস ডিপোর লরি অবৈধভাবে সড়ক দখল করে পার্কিং করা হচ্ছে। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ও শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধের পাশাপাশি মহাসড়কের দুই পাশের সব অবৈধ পার্কিং আজকের মধ্যেই বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লরির ধাক্কায় ৮ নম্বর রুটের একটি মিনিবাস উল্টে গেলে সেটির নিচে চাপা পড়েন মাইশা মুশফিরাত। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। পাশাপাশি পাশের রেললাইনেও অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়কে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তারা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বারবার নিরাপত্তার দাবি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার সহপাঠীর মৃত্যুর পর তারা এসব দাবির বাস্তবায়নে আন্দোলনে নেমেছেন। আট দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
চস/স


